بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين ولاعدوان إلا على الظالمين كالمشركين والملحدين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين إمام الموحدين وعلى آله الطيبين وأصحابه المهتدين وعلى من سلك سبيلهم إلى يوم الدين ু اما بعد
ভূমিকা
আল্লাহ্ এ পৃথিবী সৃষ্টি করে মানবজাতিকে পাঠিয়েছেন তথায় তাঁর খিলাফত প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে। তাইতো প্রতিটি মানুষকে তাওহীদের বিশ্বাস নিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়ে থাকেন। তওহীদই হল খেলাফত প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। আর এ খিলাফাত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে পারে দুনিয়ায় সুখ ও শান্তি ও পরকালে জান্নাতের অনাবিল শান্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি। কিন্তু বনী আদমের চিরশত্রু শয়তানতো সহজে ছেড়ে দেবে না। তাইতো তার ঘোষণাঃ
فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ - ثُمَّ لآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَآئِلِهِمْ وَلاَ تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ
‘‘আপনি যেহেতু আমাকে সঠিক পথ হতে বিচ্যুত করেছেন সেহেতু আমিও তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার জন্য আপনার সরল পথে অবশ্যই বসে থাকব। অতঃপর তাদের কাছে আসব তাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, ডান ও বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’’
শয়তান তার কূট কৌশলকে বাস্তবায়নের জন্য বেছে নিল শিরকের পথকে। কারণ শিরকই চুরমার করে দিতে পারে বনী আদমের স্বপ্নসাধকে। খান খান করে দিতে পারে গগনচুম্বী আমলের প্রাসাদকে। ভেজাল করে দিতে পারে তার ঈমানকে। তাইতো কখনও নেকলোকদের মৃত্যুর পর তাদের মূর্তি বানিয়ে তা দিয়ে সহজ সরল মানুষকে শিরকে জড়িয়ে দিচ্ছে, কখনও সূফী দরবেশ তাদের আশা পূরণ করতে পারে, এই প্রলোভন দিয়ে বনী আদমকে শিরকে জড়িয়ে ফেলছে। কখনও মৃত ব্যক্তিকে অতিশয় ক্ষমতার মালিক সাজিয়ে আদম সন্তানকে শিরকে লিপ্ত করছে। কখনও বরকতের নামে, কখনও ওলীদের প্রশংসার অতিরঞ্জনের মাধ্যমে শিরক করাচ্ছে। শয়তান প্রতারকের মত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন কায়দায় বনী আদমের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ঈমানকে শিরকের আবর্জনায় কলুষিত করে দিচ্ছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে তার দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের অফুরন্ত শান্তির সাধ। অথচ বনী আদম জানেনা যে, এর মাধ্যমে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তার মহামূল্যবান ‘আমল। হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে তার ঈমান।
আল্লাহ্ বলেনঃ
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا-الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
‘‘বল, আমি কি তোমাদেরকে সে-সব লোকদের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক থেকে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত? তারা সে সব লোক, যাদের পার্থিব জীবনের প্রচেষ্টা বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে।’’
শয়তান তাদের শিরকী আমলকে খুব সাজিয়ে গুজিয়ে তাদের সামনে পেশ করছে, আর তারা দেখছে আকাশ কুসুম স্বপ্ন। আল্লাহ বলেনঃ
وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ
’’আর শয়তান তাদের ‘আমলকে সুশোভিত করে পেশ করেছে’’
মানবজাতিকে চিরশত্রু শয়তানের ধোঁকাবাজি থেকে সতর্ক করে শিরকমুক্ত আমলের মাধ্যমে তাওহীদের ভিতকে মজবুত করে খিলাফতী দায়িত্ব পালনের আহবান জানাতে পাঠিয়েছেন আল্লাহ তা‘য়ালা যুগে যুগে নবী রাসূলগণকে। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষে এসেছেন রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব এসেছে নবীর ওয়ারিশ ‘আলিমগণের উপর। যুগে যুগে আলিমগণ দক্ষতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেছেন। তারই অংশ হিসেবে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমার এ প্রবন্ধে শিরকের পরিচয়, সূচনা, প্রকার আলোচনা করেছি। আরো আলোচনা করেছি শিরক করার কারণ, শিরকের পরিণতি, বাংলাদেশে প্রচলিত শিরক। সবশেষে রয়েছে একটি পরিশিষ্ট ও তথ্যপঞ্জী।
ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি দয়াময় আল্লাহর দরবারে। বাকীটুকুর জন্য উত্তম বিনিময় কামনা করছি মেহেরবান রবের কাছে।
إنه جواد كريم غفور شكور
وصلى الله تعالى على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين
শিরকের অর্থঃ
শিরক শব্দের আভিধানিক অর্থ:
ইবনুল মানযুর বলেছেন: ‘আশ-শির্কাতু’ ও ‘আশ-শারকাতু’ (الشركة والشركة) সমার্থবোধক দু’টি শব্দ। যার অর্থ: দু’শরীকের সংমিশ্রণ। শির্কু (الشرك) শরীক করা, শরীক হওয়া। এর বহুবচন হলো ‘আশরাক’ ও ‘শুরাকাউ’ ( أشراك وشركاء) অর্থাৎ: অংশীদারগণ। বলা হয়ে থাকে ‘‘طريق مشترك ’’ অর্থাৎ সম্মিলিত রাস্তা, যা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। ‘আশরাকা বিল্লাহি’ ( أشرك بالله) সে আল্লাহর সাথে শরীক করলো, অর্থাৎ আল্লাহর রাজত্বে কাউকে তাঁর অংশীদার সাব্যস্ত করলো। (নাউযু বিল্লাহি)
‘আশ-শিরকু’ (الشرك) শব্দটি ‘আল-হিস্সাতু’ (الحصة): (অংশ) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে : [من أعتق شركاله فى عبد ... ]-‘‘যে তার কোন ক্রীতদাসের অংশকে মুক্ত করে দিল. . . . .’’
আল-মুনজিদ নামক অভিধানে বলা হয়েছে: ( أشرك فى أمره) অর্থাৎ- তার কাজে সে (অপর কাউকে) শরীক করে নিয়েছে। ( أشرك بالله) অর্থাৎ সে আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করেছে। আর যে তা করলো সে মুশরিক হয়ে গেল।
শেখ জাকারিয়্যা আলী ইউছুফ বলেনঃ
‘‘কোন ক্ষেত্রে ‘শারকতুহু’ ও আশ-রাকতুহু’ ( شركته وأشركته) তখনই বলা হয় যখন সে ক্ষেত্রে আমি কারো ‘শরীক’ ( شريك) অংশীদার হয়ে গেলাম। ‘শা-রাকতুহু’ ( شاركته) শব্দটিও শরীক এর অর্থ প্রকাশ করে। ‘আশরাকতুহু’ ( أشركته) শব্দের অর্থ: আমি তাকে শরীক করে নিলাম। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন: ( وأشركه في أمري) (হে আল্লাহ্) ‘‘তুমি হারুনকে আমার নবুওয়াতের অংশীদার করে দাও।’’
তিনি আরো বলেন: ‘শিরক’ শব্দমূলটি সংমিশ্রণ ও একত্রিকরণের অর্থ প্রকাশ করে। কোন বস্ত্তর অংশ বিশেষ যখন একজনের হবে, তখন এর অবশিষ্ট অংশ হবে অপর এক বা একাধিকজনের। আল্লাহর বাণী: (أم لهم شرك في السموات) ‘‘তবে কি আকাশমন্ডলীতে তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে’’ এ-আয়াতে বর্ণিত ‘শিরকুন’ শব্দের দ্বারা এ অংশীদারিত্বের অর্থই প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, একজন অংশীদার তার অপর অংশীদারের সাথে মিলিত।
তিনি আরো বলেন: কোন বস্ত্ততে একাধিক শরীক হলে সে বস্ত্ততে তাদের প্রত্যেকের অংশ সমান হওয়াটি অত্যাবশ্যক নয়, তাদের একের অংশ অপরের অংশের চেয়ে অধিক হওয়ার পথেও তা কোন অন্তরায় সৃষ্টি করে না, যেমন মূসা (আ.) তাঁর রিসালাতের ক্ষেত্রে স্বীয় ভাই হারূন (আ.) কে তাঁর সাথে শরীক করার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট আবেদন করলে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: ( قد أوتيت سؤلك يا موسى) ‘‘হে মূসা ! তোমার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হলো।’’
এ কথা বলে আল্লাহ্ তা‘আলা মূসা (আ.) এর কামনা পূর্ণ করলেও রিসালাতের ক্ষেত্রে হারুন (আ.) মূসা (আ.) এর সমান অংশীদার ছিলেন না।
উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে আমাদের নিকট এ-কথা প্রমাণিত হচ্ছে যে, ‘শিরক’ শব্দমূলটি মূলগতভাবেই মিশ্রণ ও মিলনের অর্থ প্রকাশ করে থাকে এবং এ মৌলিক অর্থটি এর সকল রূপান্তরিত শব্দের মধ্যে নিহিত থাকে। আর দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যকার অংশীদারিত্ব যেমন ইন্দ্রিয় অনুভূত বস্ত্তসমূহের মধ্যে হতে পারে, (যেমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তির কোন বাড়ি, জমি বা গাড়িতে সম অংশে বা কম-বেশি অংশীদার হওয়া) তেমনি তা কোন অর্থগত বা গুণগত বস্ত্ততেও হতে পারে। (যেমন মানুষ এবং ঘোড়া প্রাণী হওয়ার ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশীদার, এবং দুটি ঘোড়া বাদামী বা লাল বর্ণের হওয়ার ক্ষেত্রে সমানভাবে শরীক হতে পারে।)
শিরক শব্দের পারিভাষিক অর্থ:
ড. ইব্রাহীম বরীকান শিরক-এর পারিভাষিক অর্থ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:
‘শিরক’-এর দু’টি অর্থ রয়েছে:
এক. সাধারণ অর্থ, আর তা হচ্ছে- গায়রুল্লাহকে আল্লাহর বৈশিষ্ট্যের সমকক্ষ করা। সমকক্ষ বলতে এখানে মুক্ত শরীকানা বুঝানো হয়ে থাকে, শরীকানায় আল্লাহর অংশ গায়রুল্লাহের অংশের সমান হতে পারে অথবা আল্লাহর অংশ গায়রুল্লাহের অংশের চেয়ে অধিকও হতে পারে।
শিরকের দ্বিতীয় অর্থ:
আল্লাহর পাশাপাশি গায়রুল্লাহকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা। কোরআন, সুন্নাহ ও অতীত মনীষীগণের কথায় শির্ক শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা শিরকের দ্বিতীয় অর্থই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।’’ ‘আকীদার পরিভাষায় শিরক হচ্ছে, আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট ও সীমাবদ্ধ কোন বিষয় আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রয়োগ করা, আল্লাহ্র নিরঙ্কুশ প্রভুত্বে কারো অংশীদারিত্বের ‘আকীদা পোষণ করা। শিরক হচ্ছে তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাওহীদ হচ্ছে গড়হড়ঃযবরংস আর শিরক হচ্ছে চড়ষুঃযবরংস ।
মানবজাতির স্বভাবজাত ধর্মঃ
শিরক না করাই মানুষের স্বভাবজাত ধর্মঃ
আল্লাহ্র নিকট পছন্দনীয় দীন হচ্ছে ইসলাম। আল্লাহ বলেনঃ
’’ إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ‘‘
‘আল্লাহর নিকট মনোনীত দীন হচ্ছে ইসলাম’
’’ وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلاَمِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ‘‘
‘যদি কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন অনুসন্ধান করে, তবে তার কাছ থেকে তা কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে আখিরাতে চরম ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
এ ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে তওহীদ। মানুষকে তওহীদের দিকে দাওয়াত দেয়ার জন্যই যুগে যুগে আল্লাহ নবী রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, এরই ধারাবাহিকতায় এসেছেন সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ্ বলেনঃ
’’ وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ‘‘
‘আমি সকল জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছি এ আহবান জানানোর জন্য যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাগুত অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত যারই ইবাদাত করা হয়, তাকে বর্জন কর।’
সকল নবীই তাঁদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেই দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছেন।
মানুষের সৃষ্টি তাওহীদের উপর। আল্লাহ্ ‘আলমে আরওয়াহে (আত্মার জগতে) সকলের কাছ থেকে তাঁর রুবুবিয়াতের স্বীকৃতি নিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেনঃ
’’ وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُواْ بَلَى شَهِدْنَا أَن تَقُولُواْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ ‘‘
‘স্বরণ কর যখন তোমার রব বনী আদমের পৃষ্ঠ থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদেরকে সাক্ষী করালেন, আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বল্ল, হ্যাঁ অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিলাম। (এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে) তোমরা যেন কিয়ামাতের দিন এ কথা বলতে না পারো যে, আমরা তো এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম।’
আল্লাহ মানুষের নিকট থেকে যে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, তা ছিল তাওহীদের প্রতিশ্রুতি। একক আল্লাহর রুবুবিয়াত তথা তাঁর একক প্রভুত্বের স্বীকৃতি মানবজাতির সহজাত প্রকৃতি। একত্ববাদের স্বীকৃতি মানুষের স্বভাবজাত, এর উপরই আল্লাহ্ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে থাকেন। আল্লাহ্ বলেনঃ
فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ‘‘
‘আল্লাহর ফিতরাত (প্রকৃতি) এর অনুসরণ কর, যার উপর আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করোনা। এটিই সুদৃঢ় ও সঠিক দীন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ এ আয়াতে বুঝা যাচ্ছে, সমগ্র মানব জাতিকে এ প্রকৃতির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে যে, এক আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন স্রষ্টা, রব, মাবুদ ও আনুগত্যগ্রহণকারী নেই।
আল্লামা শাওকানী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেনঃ
" الفطرة فى الاصل الخلقة والمراد بهاهنا الملة وهى الاسلام والتوحيد "
‘ফিতরাতের মূল অর্থ সৃষ্টি। এখানে ফিতরাত দ্বারা উদ্দেশ্য হল মিল্লাত। আর তা হচ্ছে ইসলাম ও তাওহীদ।’
আল্লামা ইবনু কাছীর উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ
" لازم فطرتك السليمة التي فطر الله الخلق عليها فإنه تعالى فطر خلقه على معرفته وتوحيده وأنه لاإله غيره "
‘তুমি তোমার সঠিক প্রকৃতি ও স্বভাবকে আঁকড়ে ধর, যে প্রকৃতি ও স্বভাবের উপর আল্লাহ্ সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টিকে তাঁর মা‘রেফাত অর্থাৎ তাঁর পরিচয়, তাওহীদ এবং তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই- এ বিশ্বাসের উপর সৃষ্টি করেছেন।’
অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থেও ফিতরাত বলতে তাওহীদকেই বুঝানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে তাওহীদের বিশ্বাস নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতায় তাওহীদের বিশ্বাস থেকে কারো বিচ্যুতি ঘটে যায়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
" كل مولود يولد على الفطرة فابواه يهودانه او ينصرانه اويمجسانه " وفى رواية " مامن مولود يولد إلا على الفطرة "
‘প্রতিটি সন্তানই তার সহজাত প্রকৃতি তথা তাওহীদের উপর জন্ম গ্রহণ করে। অতঃপর পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী অথবা খৃস্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়। অর্থাৎ পিতামাতা যে ধর্মের অনুসারী সন্তানকে সে ধর্মের অনুসারী বানায়।’
তিনি আরো এরশাদ করেনঃ
يقول الله تعالى " إنى خلقت عبادي حنفاء فجاءتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم وحرمت عليهم ما أحللت لهم وأمرتهم أن يشتركوابي ما لم أنزل به سلطانا "
আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাহদেরকে আমি খাঁটি (তাওহীবাদী) করে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তানেরা তাদেরকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছি তা হারাম করে দিয়েছে। আমি যে শিরক করার ব্যাপাওে কোন দলীল অবতীর্ণ করিনি, আমার সাথে সে শিরক করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ করেছে।’
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছ থেকে একথাই প্রমাণিত হয় যে, মানুষের জন্ম হয় তাওহীদের উপর। ফলে তাওহীদি চেতনা তার স্বভাবের মধ্যে মিশে আছে। তাই দেখা যায় একজন মুশরিক, একজন নাস্তিকও বিপদ মুহূর্তে, সংকটকালে একমাত্র শক্তিধর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, কায়মনোবাক্যে তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে।
আল্লাহ্ বলেনঃ
"وَإِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوْا رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ"
‘মানুষদের যখন কোন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের রবের দিকে ফিরে এসে শুধু তাকেই ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদের তাঁর করুণা আস্বাদন করান, তখন তাদের একটি দল তাদের রবের সাথে শিরক করে।’
"وَإِذَا مَسَّكُمُ الْضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَن تَدْعُونَ إِلاَّ إِيَّاهُ فَلَمَّا نَجَّاكُمْ إِلَى الْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ وَكَانَ الإِنْسَانُ كَفُورًا"
‘সমুদ্রে যখন তোমাদের উপর কোন বিপদ আপদ আপতিত হয়, তখন আল্লাহকে বাদ দিয়ে ইতোপূর্বে তোমরা যাদের ডাকতে তারা সবাই (মন থেকে) হারিয়ে যায়, (এক আল্লাহই বাকী থেকে যান) অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে নিয়ে আসেন, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ হচ্ছে অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’
"وَإِذَا مَسَّ الإِنسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنبِهِ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَآئِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُ مَرَّ كَأَن لَّمْ يَدْعُنَا إِلَى ضُرٍّ مَّسَّهُ"
‘মানুষকে যখন কোন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে বসে, শুয়ে, দাঁড়িয়ে সর্বাবস্থায় আমাকেই ডাকে, অতএব আমি যখন তার দুঃখ-কষ্ট তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাই, তখন সে এমনভাবে চলতে শুরু করে, তাকে যে এক সময় দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছিল, মনে হয় তা দূর করার জন্য সে আমাকে কখনও ডাকেইনি।’
’’وَإِذَا غَشِيَهُم مَّوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّين‘‘َ
‘যখন তরঙ্গ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে মেঘচ্ছায়ার ন্যায়, তখন তারা আল্লাহকে ডাকে একনিষ্ঠ ভাবে।’
কোরআন মাজীদে এমন ধরনের আরো অনেক আয়াত রয়েছে যার দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, মানুষের স্বভাবজাত বিশ্বাস তাওহীদ, শিরক নয়। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মানুষ তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। হযরত ইকরামা বলেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও নূহ ‘আলাইহিস্ সালাম-এর মাঝে দশ শতাব্দীকাল ধরে মানুষ ইসলাম তথা তাওহীদের উপর অবিচল ছিল। আল্লাহ্ বলেনঃ
"كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ চ
‘মানুষেরা প্রথমে একই জাতিভুক্ত ছিল। (পরে ‘আকীদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে) আল্লাহ্ নবীদেরকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করেন।’’
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আববাস (রা.) বলেনঃ
"كان من نوح وآدم عشرة قرون كلهم على شريعة الحق فاختلفوا فبعث الله النبيين مبشرين ومنذرين"
‘আদম আলাইহিস সালাম ও নূহ ‘আলাইহিস সালাম এর মধ্যকার দশ যুগ বা প্রজন্ম সকলেই সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, অতঃপর তারা মতবিরোধে লিপ্ত হল, ফলে আল্লাহ্ নবীগণকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করেন।’
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"كان بين آدم ونوح عشرة قرون كلهم على الإسلام"

‘আদম আলাইহিস সালাম ও নূহ ‘আলাইহিস সালাম এর মধ্যবর্তী দশযুগ পর্যন্ত সবাই ইস্লামের উপরেই প্রতিষ্ঠিত ছিল।’
শিরকের সূচনাঃ দুনিয়ায় প্রথম শিরক শুরু হয় হযরত নূহের (আলাইহিস সালাম) কাওমে। আর তা হয়েছিল সৎ ও বুযুর্গ লোকদের প্রতি তাদের অতিরিক্ত ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শণের মধ্য দিয়ে। প্রকৃত পক্ষে অতিরিক্ত কোনটাই ভাল নয়। কথায় বলে ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’। যেমন সৃষ্টির প্রথম মানুষ আদম ও হাওয়াকে ইবলিস ধোঁকা দিয়েছিল অতিরিক্ত হিতাকাংখী হয়ে মিথ্যা কথা বানিয়ে অতিরিক্ত কথা শুনিয়ে, ইবলিস বলেছিল-
’’ فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَى‘‘
‘অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, সে বলল, হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেব অনন্ত জীবনপ্রাণ বৃক্ষের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা।’
’’ فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَاتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَـذِهِ الشَّجَرَةِ إِلاَّ أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ - وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ‘‘
‘অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান, যা গোপন রাখা হয়েছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রনা দিল এবং বলল, পাছে তোমরা উভয়ে ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা জান্নাতে চিরস্থায়ী হয়ে যাও। এজন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষটির কাছে যেতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন। সে তাদেরকে শপথ করে বলল, আমি তোমাদের হিতাকাংখীদের একজন।’
হযরত নূহ ‘আলাইহিস্সালামের কওমকে নেককার লোকদের অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শনের নছীহত করে শয়তান তাদেরকে শিরকে লিপ্ত করেছিল। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেনঃ
’’ وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا‘‘
‘তারা বলল, তোমরা তোমাদের ইলাহদের কোন অবস্থায়ই বর্জন করো না, তোমরা ওয়াদ, সুয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক এবং নাসরকে ত্যাগ করো না।’
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত ‘আবদুল্লাহ্ ইবনে ‘আববাস বলেন-
" هذه اسماء رجال صالحين من قوم نوح فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون فيها أنصابا وسموها بأسمائهم ففعلوا ولم تعبد حتى اذا هلك اولئك ونسى العلم عبدت "
এ আয়াতে যে ক’টি নাম বলা হয়েছে, এরা সবাই ছিল নূহ ‘আলাইহিস্সালামের কওমের নেককার লোক। তাদের মৃত্যুর পর শয়তান ঐ কাওমের লোকদের প্ররোচিত করল এ কথা বলে যে, ঐ সমস্ত নেককার লোকরা যেখানে বসতেন, সেখানে তাদের আকৃতিতে মূর্তি বানিয়ে সেগুলোকে তাদের নামে নামকরণ করো, তারা তাই করলো, কিন্তু সে গুলোর অর্চনা বা উপাসনা করত না। এ প্রজন্মের মৃত্যু হয়ে গেলে পরবর্তী প্রজন্মে তাওহীদের জ্ঞান বিস্মৃত হয়ে গেল এবং ঐ মূর্তিগুলোর উপাসনা হতে লাগল।’
قال ابن جريرحدثنا ابن حميد حدثنا مهران عن سفيان عن موسى عن محمد بن قيس قال: كانوا قوما صالحين بين آدم ونوح وكان لهم أتباع يقتدون بهم فلما ماتوا قال أصحابهم الذين كانوا يقتدون بهم ু لوصورناهم كان أشوق لنا إلى العبادة إذا ذكرناهم فصوروهم ু فلما ماتوا وجاء أخرون دب إليهم إبليس فقال : إنما كانوا يعبدونهم وبهم يسقون المطر فعبدوهم
এ আয়াতের তাফসীরে ইসমাঈল ইবনে কাসীর খ্যাতনামা মুফাসসির ইবনে জারীরের সূত্রে আরেকটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করেছেন তা হলো মুহাম্মাদ বিন কায়স বলেন, আয়াতে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ আদম (আ.) ও নূহের (আ.) মাঝামাঝি সময়ের বুজুর্গ ও নেকবান্দাহ্ ছিলেন। তাঁদের ছিল অনেক অনুসারী। তাঁরা যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাঁদের সাথীগণ যারা তাদের অনুসরণ করত নিজেরা বলাবলি করল, আমরা যদি এসব বুজুর্গের ছবি বানিয়ে নেই, তা হলে তাঁদের কথা স্মরণ করে আমরা ইবাদাতে বেশি আগ্রহান্বিত হব। তাই তারা ঐ সমস্ত নেক লোকের ছবি তৈরী করল। এরা মারা যাওয়ার পর যখন পরবর্তী প্রজন্ম আসল, ইবলীস তাদেরকে এ বলে প্ররোচনা দিল যে, তোমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের ইবাদাত করত। তাদের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য ফরিয়াদ করত। এ কথায় প্ররোচিত হয়ে তারাও ঐ সমস্ত বুজুর্গের ইবাদাত শুরু করে দিল।
" قال ابن ابي حاتم : حدثنا أحمد بن منصور حدثنا الحسن بن موسى حدثنا يعقوب عن ابي المطهر قال : ذكروا عند ابي جعفروهوقائم يصلى يزيد بن المهلب قال: فلما انفتل من صلاته قال: ذكرتم يزيد بن مهلب ু اما إنه قتل في أول أرض عبد فيها غيرالله قال: ثم ذكروا ودّا قال: وكان ود رجلا مسلما وكان محببا في قومهও فلما مات عسكروا حول قبره فى أرض بابل وجزعوا عليه فلما رأى إبليس جزعهم عليه تشبه في صورة إنسان ও ثم قال : إني أرى جزعكم على هذا الرجل ু فهل لكم أن اصورلكم مثله ও فيكون في ناديكم فتذكرونه ؟ قالو- نعم ও فصور لهم مثله قال : ووضعوه في ناديهم وجعلوا يذكرونه ু فلما رأى ما بهم من ذكره قال: هل لكم أن أجعل في منزل كل واحدٍ منكم تمثالا مثله ও فيكون له في بيته فتذكرونه ؟ قالوا : نعم ও قال فمثل لكل أهل بيت تمثالا مثله ও فأقبلوا فجعلوا يذكرونه به ও قال: وأدرك أبناؤهم فجعلوا يرون ما يصنعونه به وتناسلوا ودرس أمر ذكرهم إياه ু حتى اتخذه إلها يعبدونه من دون الله أولاد أولادهم فكان أول ما عبد غيرالله الصنم الذى سموه ودا "
‘ইবনু আবী হাতেম বলেনঃ...................... আবুল মুতাহ্হির হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আবু জা’ফর নামাজে রত ছিলেন, সে সময় লোকেরা ইয়াযীদ বিন মুহাল্লাবের কথা তার নিকট আলোচনা করল, নামাজ শেষে তিনি বললেন, তোমরা ইয়াযিদ বিন মুহাল্লাবের কথা আলোচনা করেছ। জেন রাখ তিনি নিহত হয়েছেন এমন দেশে, যেখানে সর্বপ্রথম গায়রুল্লাহর উপাসনা শুরু হয়েছে। তারপর তিনি ওয়াদদের কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি একজন মুসলিম ছিলেন এবং তার কওমে তিনি খুবই প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। যখন তিনি মারা গেলেন, বাবিল (ব্যাবিলন) শহরে তার কবরের চতুর্পার্শ্বে লোকেরা সমবেত হয়ে দুঃখ বেদনা প্রকাশ করল। ইবলিস যখন দেখল যে, লোকেরা তার কবরের চতুর্পার্শ্বে একত্র হয়ে, দুঃখ বেদনা প্রকাশ করছে, তখন ইবলিস মানুষের আকৃতি ধারণ করে বল্ল, আমি তোমাদেরকে এ ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দুঃখ বেদনা প্রকাশ করতে দেখছি। আমি কি তোমাদের জন্য তার একটি প্রতিমূর্তি বানিয়ে দেব, যা তোমাদের ক্লাবে থাকবে, আর তোমরা তাকে স্মরণ করবে? তারা বলল- হ্যাঁ হতে পারে। তখন শয়তান তার একটি প্রতিমূর্তি তাদের জন্য তৈরী করে দিল এবং তাদের ক্লাবে রাখল। তারা মূর্তি দেখে তাকে স্মরণ করত। ইবলিস এ অবস্থা দেখে তাদেরকে বলল- আমি কি তোমাদের প্রত্যেকের ঘরে অনুরূপ প্রতিমূর্তি বানিয়ে দেব, যাকে দেখে তোমরা তাকে স্মরণ করতে পারবে? তারা সম্মতিসূচক উত্তর দিল। অতঃপর ইবলিস প্রত্যেকের বাড়ীর জন্য আলাদা আলাদা মূর্তি বানিয়ে দিলে তারা তা দেখে দেখে তাকে স্মরণ করত। তাদের সন্তানেরা তাদের এ কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করত। আস্তে আস্তে তাদের বংশ বিস্তার হতে লাগল এবং তাকে স্মরণ করার মূল বিষয়টি এ প্রজন্মের নিকট বিস্মৃত হয়ে গেল। এক কালে এসে তাদের সন্তানের সন্তানেরা একে ইলাহ বানিয়ে তার উপাসনা শুরু করে দিল। এটাই প্রথম মূর্তি, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার উপাসনা শুরু হল, তারা এর নাম রাখল ওয়াদ্দ (ودّ ) ।’
বনী ইসরাঈলে শিরকের সূচনাঃ
বনী ইসরাঈলে প্রথম গোবৎস পূজার প্রচলন করে সামেরী। এই ঘটনাটি আল্লাহ্ তায়ালা কুরআন কারীমের সূরা ত্বাহা এর ৮৫-৮৯ আয়াতে উল্লেখ করেছেন-
" قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِن بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ السَّامِرِيُّ - فَرَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ يَا قَوْمِ أَلَمْ يَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا أَفَطَالَ عَلَيْكُمُ الْعَهْدُ أَمْ أَرَدتُّمْ أَن يَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبٌ مِّن رَّبِّكُمْ فَأَخْلَفْتُم مَّوْعِدِي - قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَكِنَّا حُمِّلْنَا أَوْزَارًا مِّن زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنَاهَا فَكَذَلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ- فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَذَا إِلَهُكُمْ وَإِلَهُ مُوسَى فَنَسِيَ - أَفَلَا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًا وَلَا يَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا "
‘তিনি (আল্লাহ্) বললেন, আমি তোমার (মূসা) সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। অতঃপর মূসা ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেলেন। তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের রব কি তোমাদের নিকট এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে কি প্রতিশ্রুতকাল তেমাদের নিকট সুদীর্ঘ হয়েছে না তোমরা চেয়েছ তোমাদের উপর তোমাদের রবের পক্ষ হতে গযব নিপতিত হউক? আর সে জন্যই কি তোমরা আমার নিকট প্রদত্ত ওয়াদা ভঙ্গ করেছ? তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আপনার প্রতি প্রদত্ত ওয়াদা ভংগ করিনি। তবে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল কওমের অলংকারের বোঝা। আমরা সেগুলো আগুনে নিক্ষেপ করি, অনুরূপভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করে। অতঃপর সে (সামেরী) তাদের জন্য একটি গো-বৎসের অবয়ব তৈরী করল, যা হাম্বা রব করত। তারা বলল, এটি তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্। তারা কি ভেবে দেখলনা, গো-বৎস মূর্তিটি তাদের কথার উত্তরে একটি কথাও উচ্চারণ করতে পারে না। অধিকন্তু তাদের ক্ষতি বা উপকার করার কোন ক্ষমতা নেই।’
উল্লেখ্য যে, সামেরী ছিল সামিরা নামে এক ইয়াহুদী গোত্রের লোক। বাইবেলের বর্ণনা মতে ইসরাঈল রাজ্যের শাসক উমরী ‘‘সামার’’ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি পাহাড় কিনেছিলেন, যার উপর তিনি নিজের রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। যেহেতু পাহাড়ের সাবেক মালিকের নাম সামার ছিল তাই এ শহরের নাম রাখা হয় সামেরিয়া। আর সামেরী ছিল উক্ত শহরের বাসিন্দা।
ইবনে আববাস বলেনঃ সে গোবৎস পূজারী সম্প্রদায়ের লোক ছিল। কোনরূপে মিশরে পৌঁছে সে বনীইসরাঈলীদের ধর্মে দীক্ষা লাভ করে। কিন্তু তার অন্তরে ছিল কপটতা। এ ব্যাপারে আরো ভিন্ন মতও রয়েছে।
বনী ইসরাঈল মিশর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় কিবতীদের নিকট থেকে অলংকার ঋণ নিয়েছিল। ঋণ ফেরত না দেয়ার কারণে হারুন ‘আলাইহিস সালাম এটাকে অবৈধ মনে করে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সবগুলো একটি গর্তে ফেলা হল, সামেরী হাতের মুঠি বন্ধ করে সেখানে পৌঁছল এবং হারুন (আ.) কে জিজ্ঞাসা করল- আমিও নিক্ষেপ করব? হারুন (আ.) মনে করলেন, তার হাতেও কোন অলংকার আছে। তাই তিনি নিক্ষেপ করার আদেশ দিলেন। তখন সামেরী হারুন (আ.) কে বলল: আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হোক আপনি আমার জন্য এ মর্মে দু‘আ করলেই নিক্ষেপ করব নতুবা নয়। তার কপটতা ও কুফর হারুন (আ.) এর জানা ছিলনা। তিনি দু‘য়া করলেন। তখন সে হাত থেকে যা নিক্ষেপ করল তা অলংকারের পরিবর্তে মাটি ছিল। সে এই মাটি জিবরীল (আ.) এর ঘোড়ার পায়ের নীচ থেকে সংগ্রহ করেছিল। কারণ, সে একদা এই বিস্ময়কর ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিল যে, যে মাটিকে জিবরীলের ঘোড়ার পা স্পর্শ করে, সেখানেই সজীবতা ও জীবনের স্পন্দন সৃষ্টি হয়ে যায়। এতে সে বুঝে নিয়েছিল যে, এ মাটিতে জীবনের স্পন্দন নিহিত আছে। তাই অলংকারাদির গলিত স্ত্তপ দ্বারা গো বৎসের অবয়ব সৃষ্টি করে ঐ মাটি মিশ্রিত করার সাথে সাথে হাম্বা হাম্বা রব শুরু করে দিল। বনী ইসরাঈল এ গো বৎসের পূজা শুরু করল।
আরব ভূখন্ডে মূর্তিপূজার উদ্ভবঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে খুয‘আহ গোত্র প্রধান ‘আমর বিন লুহাই এর মাধ্যমে আরব ভূখন্ডে পূজা শুরু হয়।
ইবনে হিশাম আহ্লে ইলমের বরাত দিয়ে বলেন- আমর ইবন লুহাই (عمروبن لحى ) স্বীয় কোন কাজে মক্কা থেকে সিরিয়ায় গেল। যখন সে বালকা (بلقاء ) অঞ্চলের মায়াব ( ماب) নামক স্থানে আগমন করল, তথায় তখন আমালিকা গোত্রের লোকেরা বসবাস করত। আমালিক ছিল লাউস বিন সাম বিন নূহ (আ.) এর পুত্র। আমর বিন লুহাই দেখতে পেল, তারা মূর্তিপূজা করছে। সে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করল, আমি দেখছি, তোমরা এই মূর্তিগুলোর উপাসনা করছ, কারণ কী? তারা বলল- এই মূর্তিগুলোর আমরা অর্চনা করি, এ গুলোর নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করলে বৃষ্টি দেয়, সাহায্য চাইলে সাহায্য দেয়। আমর বিন লুহাই তাদেরকে বললঃ তোমরা কি আমাকে একটি মূর্তি দেবে, যা আমি আরব দেশে নিয়ে যাব, আর তারা তার উপাসনা করবে? তারা তাকে একটি মূর্তি দিল যার নাম ছিল হুবল। সে এটি মক্কায় এনে এক জায়গায় স্থাপন করল আর লোকদেরকে তার উপাসনা ও সম্মান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করল।
‘আমর বিন লুহাই ছিল জিন সাধক। সে তার অনুগত জিন এর পরামর্শ অনুযায়ী নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর জাতির উপাস্য মূর্তিগুলো জিদ্দা এলাকা থেকে মাটি খনন করে বের করে নিয়ে আসে। সেগুলোকে নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর সময়কার প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও তুফান এতদ্ অঞ্চলে বহন করে নিয়ে এসেছিল। ধীরে ধীরে বন্যার পানি নেমে যাবার সময় এগুলো জিদ্দা এলাকার চরাঞ্চলে আটকা পড়েছিল এবং পরবর্তীতে তা বালুর নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। ‘আমর বিন লুহাই তার অনুগত জিনের পরামর্শে এ গুলোকে বের করে নিয়ে এসে হজ্জের মৌসুমে ‘আরব জনগণকে এগুলোর উপাসনা করার প্রতি আহবান জানায়। লোকেরা এতে তার আনুগত্য করলে সে বিভিনণ গোত্রের মাঝে তা বন্টন করে দেয়।
সে অনুযায়ী ‘ওয়াদ’ (ود) নামের মূর্তিটি ছিল দাওমাতুল জানদাল এলাকার ‘কালব’ গোত্রের নিকট, সূয়া’ (سواع) নামের মূর্তিটি ছিল ‘হুযাইল’ গোত্রের নিকট, ‘য়াগুছ’ (يغوث) নামের মূর্তিটি ছিল ‘মুরাদ’ গ্রোত্রের নিকট, ‘ইয়াউক’ (يعوق) নামের মূর্তিটি ছিল হামাদান গোত্রের নিকট। আর ‘নাছর’ (نسر) নামের মূর্তিটি ছিল ‘হিমইয়ার’ গোত্রের নিকট। এছাড়াও লাত, উয্যা ও মানাত নামে তাদের আরো মূর্তি ছিল, যেগুলোকে ইলাহ্ ভেবে তারা পূজা করত।
বনূ ইসমাঈলে পাথর পূজার সূচনাঃ
ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম মক্কায় লালিত পালিত হন। সেখানে তিনি তাওহীদের দাওয়াত দেন। দাওয়াত মেনে নিয়ে বনু ইসমাইল তাওহীদী বিশ্বাসের উপর জীবন যাপন করে। কিন্তু কালের আবর্তনে যখন তাদের মধ্যে কয়েক প্রজন্ম অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন ধীরে ধীরে তাওহীদের পথ থেকে সরে পড়তে থাকে। এক সময় যখন তাদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেল। বসবাসের জন্য মক্কা সংকীর্ণ হয়ে পড়ল তখন প্রশস্ত পরিসরে জীবন যাপনের জন্য তারা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ল, যখনই তারা কোথাও যেত হারামের সম্মানে হারামের একটি পাথর সাথে নিয়ে যেত। যেখানে তারা অবস্থান করত, সেখানে ঐ পাথর রাখত, কাবার মত এটির তওয়াফ করত। তাদের পছন্দনীয় পাথরের তারা উপাসনা করত। পরবর্তী প্রজন্ম এসে দীনে ইবরাহীম এবং ইসমাঈলকে পরিবর্তন করে মূর্তিপূজা শুরু করে দিল।
শিরকের কারণঃ
শিরক করার অনেক কারণ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ নিম্নে আলোচনা করা হল-
১। আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে না পারাঃ
আল্লাহ্ যে কত বড়, কত মহান, কতক্ষমতাবান, তাঁর কর্তৃত্ব যে কত ব্যাপক, এ ধারনা অনেকেরই নেই। আল্লাহ্ যে কত মহাপরাক্রমশালী, এ মূল্যায়ন অনেকেই করতে পারে না। তাই তারা শিরকে লিপ্ত হয়ে যায়। আল্লাহ্ কোরআন মাজীদে তিন জায়গায় বলেছেন (وماقدروا الله حق قدره ) অর্থাৎ তারা আল্লাহকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি। আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেনঃ
" يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِن يَسْلُبْهُمُ الذبَابُ شَيْئًا لَّا يَسْتَنقِذوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ - مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ"
‘হে লোক সকল! একটি উপমা দেয়া হল। তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হলেও কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার নিকট থেকে উদ্ধার করতে পারবেনা। যে চায় এবং যার নিকট চাওয়া হয়, উভয়ই দুর্বল। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা নিরূপণ করতে পারেনি। নিশ্চয় আল্লাহ্ মহা শক্তিধর, পরাক্রমশালী।’
" وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ - بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُن مِّنْ الشَّاكِرِينَ - وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ "
‘তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীগণের প্রতি ওয়াহ্ই প্রেরণ করা হয়েছে এ কথা বলে যে, যদি তুমি শিরক কর, তবে তোমার আমল অবশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই চরম ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। বরং আল্লাহরই ইবাদাত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও। তারা আল্লাহর যথাযথ মর্যাদা নিরূপণ করতে পারেনি। কিয়ামাতের দিন গোটা পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পূত পবিত্র। এরা যাকে তার সাথে শরীক করে, তা থেকে তিনি উর্দ্ধে।’
" عن ابن مسعود (رض) قال : جاء حبر من الأحبار إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " يا محمد انا نجد ان الله يجعل السموات على إصبع والأرضين على إصبع والشجر على إصبع والماء على إصبع الثرى على إصبع وسائر الخلق على إصبع فيقول انا الملك فضحك النبى صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه تصديقا لقول الحبر ثم قرأ ( وماقدروا الله حق قدره والارض جميعا قبضته يوم القيامة )"
ইয়াহুদী এক পন্ডিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল; হে মুহাম্মাদ! আমি (তাওরাতে) পাই আল্লাহ্ (কিয়ামাতের দিন) আকাশগুলোকে একটি অংগুলি, জমিনগুলোকে একটি অঙ্গুলি, গাছগুলোকে একটি অঙ্গুলি, পানিগুলো একটি অঙ্গুলি, মাটিগুলো একটি অঙ্গুলি এবং বাকী সমস্ত সৃষ্টি একটি অঙ্গুলির উপর রাখবেন, অত:পর বলবেন আমি বাদশাহ (ঐ ব্যক্তির এ কথা শুনে) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন ঐ পন্ডিতের কথার সমর্থনে, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁতসমূহ বের হয়ে পড়ল। অত:পর তিনি পড়লেন-
" وماقدروا الله حق قدره والارض جميعا قبضته يوم القيامة "
‘‘তারা আল্লাহর যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি। কিয়ামাতের দিন পুরো জমিন আল্লাহর মুঠিতে থাকবে।’’
হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার হতে বর্ণিত; আল্লাহ কেয়ামতের দিন আকাশগুলোকে পেঁচিয়ে ডান হাতে নিয়ে বলবেন: আমি বাদশাহ। সেচ্ছাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়? অত:পর সাতটি জমিন পেঁচিয়ে বাম হাতে নিয়ে বলবেন: আমি বাদশাহ, স্বেচ্ছাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?’’
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রা) হতে বর্ণিত, ‘সপ্ত আকাশ, সপ্ত জমিন রাহমানের হাতের তালুতে তোমাদের কারো হাতে রক্ষিত সরষে দানার মত।’
অন্য রিওয়ায়াতে আছে ‘কুরসীতে সপ্ত আকাশের অবস্থান হলো, ঢালে রাখা সাতটি দিরহামের মত।’’
আবু যার (রা.) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: কুরসীর অবস্থান হলো আরশে যেমন লোহার রিং বা আংটি যা পৃথিবীর কোন একটি মরুভূমিতে ফেলে রাখা হয়েছে।
এবার ভেবে দেখা উচিত আল্লাহ কত বড়, কত মহান, কত তাঁর শক্তি, ক্ষমতা, কিন্তু যারা এ কথাটি উপলব্ধি করতে পারে না, তারাই আল্লাহর সাথে অন্যদেরকে শরীক করে থাকে।
২. শিরকের আরেকটি কারণ হলো কারও ব্যাপারে অতিরঞ্জন করাঃ
আরবীতে এটিকে বলা হয় غلو অর্থাৎ কারও মান-মর্যাদা-ভক্তি শ্রদ্ধা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা, বাড়াবাড়ি করা। আল্লাহ غلو তথা অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।
" يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لاَ تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ وَلاَ تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ إِلاَّ الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ فَآمِنُواْ بِاللّهِ وَرُسُلِهِ وَلاَ تَقُولُواْ ثَلاَثَةٌ انتَهُواْ خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللّهُ إِلَـهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَات وَمَا فِي الأَرْضِ وَكَفَى بِاللّهِ وَكِيلاً "

‘হে আহলি কিতাব, তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করোনা এবং আল্লাহর ব্যাপারে সঙ্গত বিষয় ছাড়া কথা বলোনা। ঈসা ইবনে মারইয়াম নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আগত রূহ। অতএব তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন। আর এ কথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক। একথা পরিহার কর, তোমাদের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক ইলাহ। সন্তান হওয়া থেকে তিনি পূত পবিত্র। আসমান জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবকিছুর মালিক তিনি। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’
উক্ত আয়াতে দীনের ব্যাপারে সীমালংঘন করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপর ঈসা ইবনে মারইয়ামকে আল্লাহর রাসূল বলা হয়েছে, আল্লাহকে তিনের এক বলতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা বলতঃ ইলাহ তিনজন আল্লাহ, মসীহ, মারইয়াম। আল্লাহ্ একথা পরিহার করতে বলেছেন। কেননা তিনি শিরক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ঈসা ইবন মারইয়ামের ব্যাপারে সীমালংঘনই হল শিরকের অন্যতম কারণ।
অন্যত্র আয়াতে আল্লাহ বলেন-
" قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لاَ تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلاَ تَتَّبِعُواْ أَهْوَاء قَوْمٍ قَدْ ضَلُّواْ مِن قَبْلُ وَأَضَلُّواْ كَثِيرًا وَضَلُّواْ عَن سَوَاء السَّبِيلِ "
‘বল হে আহলে কিতাব, তোমরা অন্যায়ভাবে তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করোনা। তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করোনা যারা ইতোপূর্বে পথ ভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথ ভ্রষ্ট করেছে। আর তারা সৎপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।’
এ আয়াতে দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ বাড়াবাড়ি করেই একদল লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে। অতএব বাড়াবাড়িই গোমরাহীর অন্যতম কারণ। ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান মর্যাদায় অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি মানুষকে শিরকে পৌঁছে দেয়। যে সমস্ত গুণ আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট দুর্বল মানুষকে সে গুণে গুণান্বিত করা সুষ্পষ্ট শিরক। আল্লাহ এ উম্মাতকে বানিয়েছেন মধ্যমপন্থী উম্মত। যারা বাড়তি কমতি কোন ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন করবেনা। বরং যেখানে যাকে যে পরিমাণ মর্যাদা দেয়া প্রয়োজন, সেখানে তাকে সে পরিমান মর্যাদাই আর এটাই হবে ইনসাফ। কারো ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন যেহেতু মারাত্মক ব্যাধি, যা মানুষকে শিরকে পৌঁছে দেয়, ধ্বংস করে দেয়, তাই আল্লাহর রাসূল উম্মাতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেনঃ
" إياكم والغلو فانما أهلك من كان قبلكم الغلو"
তোমরা বাড়াবাড়ির ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন কর। কেননা এ বাড়াবাড়িই তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এ ভক্তি শ্রদ্ধার সীমালংঘনই খৃস্টানদের ভ্রান্তি ও পথ ভ্রষ্টতায় নিক্ষেপ করেছিল। ফলে তারা আল্লাহর বান্দা ও নবী ঈসা (আ.) কে মানুষ ও নবীর সীমানা থেকে বের করে নিয়ে ইলাহ তথা প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। আল্লাহর মত তাঁরও উপাসনা করেছে।
এ অতিরঞ্জনের কারনেই আহলে কিতাব তাদের আহবার (ইয়াহুদী ’আলিম) ও রোহবান (খৃস্টান ধর্ম যাজক) কে রব বানিয়েছিল আল্লাহকে বাদ দিয়ে।
আল্লাহ্ বলেনঃ
" اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابامن دون الله والمسيح ابن مريم "
আদী ইবনে হাতিম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো তাদের ইবাদাত করতাম না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তারা কি তা হারাম করেনি, আর তোমরা কি তা হারাম বলে বিশ্বাস করোনি, আর আল্লাহ্ যা হারাম করেছেন এমন কিছু কি তারা হালাল করেনি যা তোমরা মেনে নিয়েছ? আমি বললাম হ্যাঁ, তিনি বললেন, এটাই হল তাদের ‘ইবাদাত’।
এ অতিশয় ভক্তিশ্রদ্ধার কারনেই কথিত মৃত বুজুর্গ ও ওলীদেরকে ভাল মন্দ করার মালিক, রোগ ব্যাধি নিরাময়কারী, বিপদ আপদ থেকে মুক্তি দানকারী, মান্নতপূর্ণকারী, চাকরী বাকরীতে, ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতিদানকারী এবং মনোবাঞ্ছা পূরণকারী বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই দেখা যায় লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষ তাদের মনো বাঞ্ছা পূরণের জন্য এ সমস্ত লোকদের কবরে গরু ছাগল ইত্যাদি নিয়ে হাজির হয়, প্রচুর টাকা পয়সা দেয়। ঐ সমস্ত লোকদের কবরকে এত পূত পবিত্র ও বরকতময় বলে বিশ্বাস করে যে, সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা অনেক দূর থেকে জুতা খুলে রেখে আসতে হয়, কবরের পাশে জুতা হাতে করে নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি নেই। অথচ জুতা পাক পবিত্র থাকলে সে জুতা পরে সালাত আদায়েরও অনুমতি রয়েছে। যেমন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাহাবীগণ কোন কোন সময় জুতা পায়ে দিয়েই সালাত আদায় করেছেন। তারা বরকতের জন্য সে সমস্ত কবরের দেয়াল, দরওয়াজা ইত্যাদিতে চুমু দেয়, এতে নারী পুরুষের কোন ভেদাভেদ নেই। এমনকি সদ্য প্রসূত সন্তানকেও সেখানে নিয়ে কবরের ধূলাবালি মাখিয়ে বরকত হাসিলের অপপ্রয়াস চালায়, অথচ এ সন্তানটিকে আল্লাহ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন তওহীদের বিশ্বাসের উপর। যেমন আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
" كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه"
‘প্রতিটি সন্তানের জন্ম হয় ফিতরাত তথা তাওহীদের উপর, তারপর পিতামাতা তাকে ইহুদী বানায় অথবা খৃস্টান বানায় অথবা অগ্নি পূজক বানায়।’
আল্লাহ্ বলেন
"فظرة الله التى فطر الناس عليها "
‘আল্লাহর ফিতরাত তথা তাওহীদের অনুসরণ কর, যার উপর আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।’
শুধু তাই নয় সে সমস্ত কবরের পার্শ্বের গজার মাছ, কাছিম, কুমিরগুলো পর্যন্ত বরকতময় হয়ে যায়, তাইতো তাদের গায়ের শেওলা নিজেদের এবং বাচ্চাদের গায়ে মেখে নিজেদেরকে ধন্য করে থাকে। এ সবকিছুই করার একমাত্র কারণ হল, সে সমস্ত কবরবাসীদের প্রতি অতিরিক্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধা। এ অতিরঞ্জন করতে গিয়ে কাউকে বলে গাউছুল আযম অর্থাৎ বড় ত্রাণকর্তা, কারো সম্পর্কে বলে, তার দরবার থেকে কেউ খালি হাতে ফিরেনা, এ ধরনের আরো অনেক কথাবার্তা, যা সম্পূর্ণ শিরক। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম মানব, আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসা সকলের কর্তব্য। তাঁকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। কিন্তু বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে অতিরঞ্জন করে ফেলে কিনা, তাই তো আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ
"انا محمد بن عبد الله ورسوله والله ما احب ان ترفعونى فوق منزلتى التى أنزلني الله عزوجل"
‘আমি আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর কসম, মহান আল্লাহ আমাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন তোমরা আমাকে তার উপরে উঠাও, তা আমি পছন্দ করি না।’ অন্য হাদীছে রয়েছে, উমার রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
"لا تطرونى كما أطرت النصارى ابن مريم إنما أنا عبد الله فقولوا عبد الله ورسوله "
‘তোমরা আমার ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না, যেমন অতিরঞ্জন করেছে ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে। আমিতো শুধু আল্লাহর একজন বান্দা। তোমরা আমার ব্যাপারে এটুকুই বল, ‘আল্লাহর বান্দাও তাঁর রাসূল’ অনেকে বাড়াবাড়ি করে রাসূল এমনকি ওলীদের ব্যাপারে বলে থাকে, তাঁরা গায়েব জানেন। অথচ এ বিষয়টি একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। আল্লাহ্ বলেনঃ
" قُل لاَّ أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَآئِنُ اللّهِ وَلا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلاَّ مَا يُوحَى إِلَيَّ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلاَ تَتَفَكَّرُونَ "
‘বল, আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার নিকট রয়েছে আল্লাহর ভান্ডার সমূহ, আমি গায়েব জানিনা, আমি একথাও বলিনা যে, আমি ফেরেশতা, আমি তো শুধু আমার নিকট প্রেরিত ওয়াহ্ইর অনুসরণ করি। তুমি বল অন্ধ এবং চক্ষুষ্মান ব্যক্তি কি বরাবর হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা করো না?’
" قُل لاَّ أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلاَ ضَرًّا إِلاَّ مَا شَاء اللّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لاَسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَاْ إِلاَّ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ "
‘বল ! আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধন ও অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, তবে আল্লাহ্ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, আমাকে কোন অমঙ্গল স্পর্শ করতে পারতো না। আমিতো শুধু ঈমানদার গোষ্ঠীর জন্য একজন ভীতিপ্রদর্শন কারী ও সুসংবাদদাতা।’
উল্লেখ্য যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (সিনিয়র ও জুনিয়র) ইরাক আক্রমন করে এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে ইতিহাসের জঘন্যতম অন্যায় করেছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আর একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, যারা বিশ্বাস করত, আব্দুল কাদের জিলানী (র.) এর ক্ষমতা অনেক মৃত্যুর পরেও তাঁর ক্ষমতা বহাল রয়েছে, তাঁর দেশে বোম মারলেও ফুটবেনা। কারও রূহ কবজ করতে হলে মালাকুল মউতকে তাঁর অনুমতি নিতে হয়। বুশের বোমে দেশকে তছনছ করে দেয়া এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের ‘আকীদা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।
তারা অলীদের ব্যাপারে একটি জাল হাদীস বানিয়ে নিয়েছে-
" ألا إن اولياء الله لايموتون "
‘জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ্র ওলীগণ মরে না।’ তাই তারা বিশ্বাস করে যে ওলীগণ মরেনি, তাঁরা শুধু স্থান পরিবর্তন করেছেন, তারা পূর্বের মতই সবকিছু দেখেন, সব কিছু করার ক্ষমতা রাখেন, তাই তারা ওলীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেনা। বরং বলে থাকে ইনতিকাল করেছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন বলাটা বেয়াদবি মনে করে। অথচ কোরআন সুন্নায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোথাও ইনতিকাল শব্দ ব্যবহার করেনি বরং ওফাত বা মৃত্যু শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহ্ বলেছেন :
" إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ "
‘নিশ্চয় তুমি মৃত্যুবরণকারী এবং তারাও মৃত্যুবরণকারী’
" أَفَإِن مَّاتَ .........."
‘যদি সে (মুহাম্মাদ) মারা যায়.....’
"عن ابن عباس رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مات ودرعه رهن عند يهودى . . . . "
‘আবদুল্লাহ ইবনে ‘আববাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু বরণ করেছেন এ অবস্থায় যে, তাঁর লৌহ বর্মটি এক ইয়াহুদির নিকট বন্ধক ছিল।
"مات رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ابن ثلاث وستين
রাসূলুল্লুাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেছেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বৎসর।’
"عن أبي هريرة رض قال: لما توفى رسول الله صلى الله عليه وسلم"
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত হল।’
রাসূলুল্লুাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর আবু বাকর (রা.) বলেছিলেনঃ
"من كان يعبد محمدا فإن محمدا قد مات ومن كان يعبد الله عزوجل فإن الله حى لايموت"
‘যে মুহাম্মাদ এর উপাসনা করে সে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুক যে মুহাম্মাদ মৃত্যু বরণ করেছেন। আর যে আল্লাহ্র উপাসনা করে সে জেনে রাখুক যে আল্লাহ্ নিশ্চিত জীবিত, তিনি মরেন না।’
এমনিভাবে ওলীদের কবরকে কবর বলা তারা বেয়াদবি মনে করে মাযার বলে থাকে। অথচ কোরআন সুন্নাহ্ কোথাও কবরকে মাযার বলা হয়নি, এমনকি আল্লাহ্র সবচেয়ে বেশি প্রিয় ব্যক্তিত্ব সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকে মাযার না বলে বলা হয়েছে "قبر النبى" সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যেমন ইমাম বুখারী (র.) তাঁর সহীহ আল বুখারীতে একটি অধ্যায় এনেছেন এভাবেঃ
"باب ما جاء فى قبر النبي صلى الله عليه عليه وسلم وأبي بكر وعمر رضى الله عنهما" ‘
আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে-
كان يقف على قبر النبي صلى الله عليه وسلم فيصلى على النبي صلى الله عليه وسلم
তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর উপর দুরূদ পড়তেন।
৩. শিরকের আর একটি বড় কারণ হচ্ছে এ ধারণা পোষণ করা যে, আমরা সরাসরি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হব না, অথবা আমাদের আমল সরাসরি আল্লাহর নিকট পৌঁছবেনা। এর জন্য প্রয়োজন কোন মাধ্যম বা উছিলা অবলম্বন করা। তাই তারা ওলী পীর দরবেশের কাছে ধরনা দেয় এবং বিশ্বাস করে যে, এদের মাধ্যমেই আমাদের ’আমলকে আল্লাহর নিকট পৌঁছাতে হবে। শুধু জীবিত নয় মৃত ব্যক্তিকেও ওছীলা হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। অনেক সময় আরো অগ্রসর হয়ে মৃত ওলী ব্যক্তিকেই জীবিত ভেবে তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে। তারা মনে করে এরা তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করে দিতে সক্ষম হবে। এ সমস্ত লোক কিন্তু আল্লাহকে অস্বীকার করে না। বরং এদের বিশ্বাস ঐ সমস্ত ওলীদের উসিলায়ই এরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হবে এবং পরকালেও এরা তাদেরকে পার করিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। আরবের মুশরিকরা তাদের মূর্তি ও দেবদেবীর ব্যাপারে এ বিশ্বাসই পোষণ করত। আল্লাহ্ বলেন-
" وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى "
‘যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করে, (তারা বলে) আমরা তো তাদের অর্চনা এ জন্যই করি যে তারা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছিয়ে দেবে’
‘যখন মুশরিকদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় কে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন? কে আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন? কে তোমাদের এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের রব? তারা উত্তরে বলেঃ আল্লাহ্, তখন তাদেরকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে তোমাদের মূর্তি পূজার উদ্দেশ্য কি? তারা বলেঃ তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছিয়ে দেবে এবং তার নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করবে।’
" وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللّهِ مَا لاَ يَضُرُّهُمْ وَلاَ يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَـؤُلاء شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللّهِ "
‘ওরা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর উপাসনা করে যে, তাদের কোন উপকার এবং অপকার করার ক্ষমতা রাখেনা, তারা বলে, এরা আমাদের জন্য সুপারিশকারী।’
এ ধরণের ‘আকীদা পোষণ করা যে আমল আল্লাহর নিকট পৌঁছাতে হলে অন্যের মাধ্যম প্রয়োজন বা দু‘আ করতে হলে অন্য কোন ব্যক্তিকে মাধ্যম অবলম্বন করে আল্লাহর নিকট দু’আ পৌঁছাতে হবে এ ধরণের ‘আকীদা পোষণ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। ‘আমল সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায় কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। এমনিভাবে দু‘আও।
আল্লাহ ‘আমলের ব্যাপারে বলেছেন:
" إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ "
‘ তাঁরই (আল্লাহ্) দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে।’
আল্লাহ্ এখানে ‘আমলকে আল্লাহর নিকট পৌঁছাবার জন্য কোন মাধ্যমের কথা বলেননি।
দু’আ সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন-
" وقال ربكم ادعوني أستجب لكم "
‘ তোমাদের রব বললেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব’
" وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ "
‘এবং যখন তোমাকে আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে (বল) আমি তো নিকটেই। আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি আহবানে সাড়া দেই।’
এখানে কোন মাধ্যম বা উসীলার কথা বলা হয়নি। এমনিভাবে আল্লাহ্ স্বয়ং যত দু’আ আমাদেরকে শিখিয়েছেন কোন মাধ্যমের কথা বলেন্নি। বরং সরাসরি বলতে শিখিয়েছেন। যেমন-
" ربنا لاتزغ قلوبنا.......... ربنا هب لنا....... ربنا لاتوأخذنا............ ربنا أتنا فى الدنيا .......... رب اشرح لى ......... رب اغفرلى............" ইত্যাদি
‘হে আমারদের রব!
সকল মানুষের এবং সকল বিষয়ের শিক্ষক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু’আগুলো আমাদেরকে শিখিয়েছেন তাতেও কোন উসীলার কথা নেই। সেখানেও সরাসরি দু‘আ করতে শিখিয়েছেন। যেমন-
" اللهم أت نفسى تقواها............. اللهم أعنى على ذكرك............. اللهم انى أسئلك الهدى........... اللهم أحسن عاقبتنا....... اللهم أجرنى من النار." ইত্যাদি
‘হে আল্লাহ, হ্যাঁ দু‘আ করার ক্ষেত্রে কুরআন সুন্নাহ সমর্থিত কিছু উসীলা রয়েছে, সে উসীলা অবলম্বন করা কোন দোষণীয় নয়। যেমনঃ (১) আল্লাহ্ তা‘য়ালার নাম ও গুণাবলীর উসীলা দিয়ে দো‘আ করা। আল্লাহ্ বলেন-
" ولله الأسماء الحسنى فادعوه بها "
‘আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম আছে, সে নামের মাধ্যমে তোমরা তাকে ডাক’। যেমন বলল, হে আল্লাহ্ তোমার غفور নামের উসীলায় তুমি আমাকে মাফ কর। হে আল্লাহ্, তোমার رحمن নামের উসীলায় আমাকে দয়া কর, ইত্যাদি।
(২) নিজের কোন নেক ‘আমলের উসীলা দিয়ে আল্লাহর নিকট দু‘আ করা। যেমন এভাবে বলবে, আল্লাহ্, আমি যে সালাত আদায় করেছি এর উসীলায় আমাকে ক্ষমা করে দাও। সহীহ্ আল বুখারীতে আছে, বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি গুহায় আটক হয়ে যাওয়ার পর প্রত্যেকেই নিজ নিজ উত্তম ‘আমলের উসীলা দিয়ে আল্লাহর নিকট দু’আ করেছেন এবং আল্লাহ্ তাদেরকে গুহা থেকে মুক্ত করেছেন।
(৩) কোন নেক ব্যক্তির নিকট দু‘আ চাওয়া যেমন, সাহাবা (রা.) অনেকেই বিভিন্ন সময়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দো‘আ চেয়েছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও উমার ফারুক (রা.) এর নিকট দু‘য়া চেয়েছেন, যখন তিনি উমরায় যাচ্ছিলেন।
قال النبى صلى الله عليه وسلم لعمر لما أراد أن يعتمر من المدينة "لا تنسنا يا أخيَ من دعائك"
‘‘হে আমার প্রিয় ভাই, তুমি দু‘আয় আমাদেরকে ভুলে যেয়ো না।’’
কোন মৃতব্যক্তির উসীলা দিয়ে দু‘আ করা বৈধ নয়। এমনকি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উসীলা দিয়ে দু‘আ করা বৈধ হবেনা। যেমন সাহাবা (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসা সত্ত্বেও যখন তাঁরা দুর্ভিক্ষে পড়েছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উসীলা দিয়ে কেউ দু‘আ করেননি, অথচ তাঁর কবর তাদের নিকটেই ছিল। বরং তাঁর চাচা ‘আববাস (রা.) এর দু‘আর উসীলা করেছিলেন অর্থাৎ তাঁর নিকট তাঁরা দু‘আ চেয়েছিলেন, যেন অভাব দূর হয়ে যায়।
"اللهم إنا كنا نتوسل إليك بنبينا صلى الله عليه وسلم فتسقينا وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فأسقنا"
‘‘হে আল্লাহ্! আমরা আমাদের নবীর উসীলায় তোমার নিকট বৃষ্টি চাইতাম, তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি দিয়ে সিক্ত করতে, এখন আমাদের নবীর চাচার উসীলা দিয়ে বৃষ্টি চাচ্ছি। তুমি আমাদের বৃষ্টি দাও। কোন মৃত ব্যক্তির উসীলা দিয়ে দোয়া করা যাবে না।
(৪) শিরকের আর একটি কারণ হল পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণঃ যখনই নবীরাসূলগণ বা তাঁদের ওয়ারিশ ‘আলিমগণ হিদায়াতের পথে আহবান জানায়, তখনই মুশরিকরা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদা, চৌদ্দপুরুষের পথ ছাড়তে রাজী নই, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে যে পথে চলতে দেখেছি, আমরা সে পথেই চলব। যেমনঃ ইব্রাহীম ‘আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর জাতির কথা আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ্ বলেনঃ
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ- قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ - قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ - أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ- قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ
‘যখন সে (ইব্রাহীম) তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কিসের ‘ইবাদাত কর? তারা বলল- মূর্তির পূজা করি, আমরা সব সময় তাদের পূজায় রত থাকি। সে বলল, তোমরা যখন ডাক, তারা কি তোমাদের ডাক শুনে অথবা তারা কি তোমাদের উপকার বা অপকার করতে পারে? তারা বলল, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এমনটি করতে পেয়েছি’
অনুরূপভাবে মূসা আলাইস্ সালাম-এর জাতির দিকে তাকালেও একই চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। তিনি তাঁর জাতির লোকদের যখন তাদের দেবতাদের পূজা করা ছেড়ে দিতে বললেন, তখন তারা বললঃ
أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا
‘তুমি কি আমাদেরকে বিমুখ করার জন্য এসেছ সে পথ থেকে, যে পথের উপর পেয়েছি আমরা আমাদের পিতৃপুরুষকে।’
একইভাবে আমরা দেখতে পেয়েছি ‘আরবের মুশরিকদেরকে যখন আল্লাহর রাসূল তাদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে দিয়ে এক আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করার জন্য আহবান জানালেন। আল্লাহ্ বলেনঃ
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنزَلَ اللّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُواْ حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا
‘যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন সে দিকে ও রাসূলের দিকে তোমরা এসো, তখন তারা বলে, আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে আমরা যা করতে পেয়েছি, তা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا
‘যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন, তা অনুসরণ কর। তারা বলল, আমরা অনুসরণ করবো যার উপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি।’
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللّهُ قَالُواْ بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا .......
‘যখন তাদেরকে বলা হয়, অনুসরণ কর যা আল্লাহ্ নাযিল করেছেন তারা উত্তরে বলল: বরং আমরা অনুসরণ করব সে পথ, যে পথের উপর পেয়েছি আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে।’
(৫) শিরকের আর একটি কারণ হলো দেব-দেবী, পীর ওলীদেরকে শাফা’আতকারী বলে বিশ্বাস করাঃ মুশরিকদের বিশ্বাস, তারা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করছে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে পার করে দেবে। যেমন আল্লাহ্ বলেনঃ
وَيَقُولُونَ هَـؤُلاء شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللّهِ
‘আর তারা (মুশরিকরা) বলে, তারা (যাদেরকে শরীক করছে) আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।’
অথচ শাফা’আতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্। তিনি যাকে যার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন একমাত্র সে-ই এবং একমাত্র তার জন্যই সুপারিশ করতে পারবে।
আল্লাহ্ বলেনঃ
مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ
‘কে আছে যে সুপারিশ করবে তাঁর (আল্লাহ্র) নিকট তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে।’
قُل لِّلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا
‘বল! সমস্ত শাফা‘আতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্’
يَوْمَئِذٍ لَّا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ
‘সেদিন (হাশরের দিন) কোন সুপারিশ উপকারে আসবে না, কিন্তু দয়াময় আল্লাহ্ যাকে অনুমতি দেবেন (তার সুপারিশ উপকারে আসবে)।’
(৬) শিরকের আরেকটি কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা, মূর্খতাঃ আল্লাহর সাথে শিরক করার, একটি বড় কারণ হল, শিরক-ঈমানের পার্থক্য করতে না পারা। শিরককারীরা বুঝতে পারেনা যে এ সমস্ত কাজের ফলে একজন মুমিন মুশরিক হয়ে যায়। যেমনঃ যারা মাজর টাকা পয়সা দেয়, গরু-ছাগল দেয়, তারা কোন দিন ভাবে না যে, তারা ঈমান থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তারা নামাজও পড়ে, রোযাও রাখে, জান্নাতেরও আশা রাখে। আবার মাজারেও মান্নত করে ইত্যাদি। তাদের ধারণা, যারা দূর্গা, লক্ষী ইত্যাদির মূর্তি পূজা করে, তারাই শুধু মুশরিক। আল্লাহ্ বলেনঃ
قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ
‘বল, হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা, তোমরা কি আমাকে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের ‘ইবাদাত করতে বলছো?’
وَأُبَلِّغُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ
‘আর আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি, যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেখছি মূর্খ সম্প্রদায়।’
بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ
‘‘বরং তোমরা হলে মূর্খ জাতি’’
(৭) শিরকের আর একটি কারণ অতিরিক্ত আবেগঃ অতিরিক্ত আবেগের বশবর্তী হয়ে, মাথা নুইয়ে কবরের দেয়ালে চুমু খায়, ধূলা শরীরে মাখে, সাহায্য পর্যন্ত প্রার্থনা করে। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর যিয়ারত করতে গিয়ে অনেককে বলতে শুনা যায়, হে পেয়ারে হাবীব, অনেক দূর থেকে এসেছি, তুমি আমার প্রয়োজন পূরণ কর ইত্যাদি। এ রকম আবেগেই বোছিরী রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছিলঃ
يا أكرم الخلق مالى من ألوذبه : سواك عند حدوث الحادث العمم،
‘হে সৃষ্টির সবচেয়ে সম্মানী ব্যক্তি, সর্বগ্রাসী বিপদ যখন অবতীর্ণ হয়, তখন আপনি ব্যতীত আমার আশ্রয় নেয়ার আর কেউ নেই।’
শিরকের প্রকারভেদঃ
শিরক মূলত: তিন প্রকার
১। আশ্ শিরকু ফিররুবুবিয়্যাহ (الشرك فى الربوبية) রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরক আল্লাহর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার বলে বিশ্বাস করা। আল্লাহর কাজে অন্যকে শরীক করা। যেমন সৃষ্টি করা, রিযক দেয়া, জীবন মৃত্যু দেয়া, রোগমুক্ত করা, বিপদ থেকে উদ্ধার করা, মান সম্মান দেয়া, আইন দেয়া, আসমান যমীন পরিচালনা করা ইত্যাদি কার্যকলাপ একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এ সমস্ত বিষয়ে অন্য কাউকে আল্লাহর সাথে শরীক করা হলো আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরক। যদি কেউ এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ বাঁচাতে পারে, রোগ মুক্ত করতে পারে, বিপদ আপদ দূর করতে পারে, রিযক দিতে পারে, নিঃসন্তানকে সন্তান দিতে পারে, মনের কামনা বাসনা পূরণ করতে পারে, তা হলে সে আল্লাহর সাথে রুবুবিয়্যতের ক্ষেত্রে শরীক করল। এমনিভাবে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে আইন দাতা বিধানদাতা বলে বিশ্বাস করা। প্রত্যেক শহরে একজন কুতুব আছেন, যিনি শহর পরিচালনা করেন, এ কথা বিশ্বাস করা। এ সমস্ত বিশ্বাসই আল্লাহর রুবুবীয়্যতের ক্ষেত্রে শরীক করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এগুলো আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ বলেন:
أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ
‘জেনে রাখ, সৃষ্টি ও হুকুম একমাত্র তাঁরই।’
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
‘হে মানব মন্ডলী, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদাত কর, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।
قُلْ أَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ
‘বল, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে অথবা আসমান সমূহে তাদের কোন অংশীদায়িত্ব আছে কি?’
أَفَرَأَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ- أَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ
‘তোমরা যে বীজবপন কর, সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি? তোমরা কি তা অংকুরিত কর, না আমি অংকুরিত করি?’
أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاء الَّذِي تَشْرَبُونَ-أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ
‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? তা মেঘ হতে তোমরা নামিয়ে আন, না আমি বর্ষণ করি।’
وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ - وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ -وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ
‘তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয়, যখন আমি রোগাক্রান্ত হই তখন তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন। তিনিই আমাকে মৃত্যু দেবেন, তিনিই আমাকে পুনরায় জীবিত করবেন।’
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاء وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاء وَتُعِزُّ مَن تَشَاء وَتُذِلُّ مَن تَشَاء
‘বল, হে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্, তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর, আর যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে লও, যাকে ইচ্ছা তুমি ইজ্জত দাও, যাকে ইচ্ছা তুমি অপমান কর।’
لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاء يَهَبُ لِمَنْ يَشَاء إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاء الذُّكُورَ -أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَاء عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
‘আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন, অথবা দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা, করেন বন্ধ্যা, নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্ব শক্তিমান।’
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ
‘তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, এতে তাদের কোন হাত নেই।’
মোট কথা আল্লাহর কাজ, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতায় অন্য কোন মাখলুককে অংশী সাব্যস্ত করাই হচ্ছে রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরক।
২। আশ্ শিরক ফিলউলুহিয়্যাহ (الشرك فى الألوهية)ঃ ‘ইবাদাতে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করার নাম হচ্ছে শিরক ফিলউলুহিয়্যাহ। এটাকে শিরক ফিল উবূদিয়্যাহ বা শিরক ফিল‘ইবাদাহ্ও বলা হয়। এটাই হল মূল শিরক। জাহেলী যুগে এ শিরকই প্রচলিত ছিল। কেননা আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের বিশ্বাস জাহেলী যুগের লোকদের ছিল। কোরআন কারীমের বিভিন্ন আয়াত তার সুষ্পষ্ট দলীল। আল্লাহ্ বলেনঃ
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ
‘তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর আকাশ সমূহ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ (আল্লাহ্)।’
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِن بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ
‘যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অত:পর তা দ্বারা মাটিকে মৃত হওয়ার পর জীবিত করেন। তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ্ ! বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝেনা।’
قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ السَّمْعَ والأَبْصَارَ وَمَن يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيَّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَن يُدَبِّرُ الأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللّهُ فَقُلْ أَفَلاَ تَتَّقُونَ
‘তুমি বল, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে জীবিকা প্রদান করেন? কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে এবং মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? এবং কে সকল বিষয় নিয়ন্ত্রন করেন? তখন তারা বলবে আল্লাহ্,বল্ তবুও কি তোমরা ভয় করছো না?’
قُل لِّمَنِ الْأَرْضُ وَمَن فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ - قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ - قُلْ مَن بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ
‘তুমি বল! পৃথিবী এবং এতে যারা আছে, তারা কার যদি তোমরা জান? তারা বলবে আল্লাহর। বল, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? জিজ্ঞাসা কর, সাত আসমানের রব কে? মহান আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহ্। তবুও কি তোমরা ভয় করোনা? বল! কার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব। যিনি রক্ষা করেন এবং যার কবজা থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না, যদি তোমরা জান? তারা বলবে আল্লাহর। বল, তা হলে কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা হচ্ছে?’
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ
‘যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমান সমূহ এবং জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং চন্দ্র-সূর্যকে নিয়ন্ত্রিত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ্! তা হলে তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?’
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
‘যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর আসমানসমূহ এবং জমিন কে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ্! বল, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। বরং অধিকাংশ লোক জানেনা।’
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ
‘আর যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর আসমানসমূহ এবং জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তারা নিশ্চিত করেই বলবে, আল্লাহ্ ।’
উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে একথাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আরবের মুশরিকরা আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা, রিযকদাতা, জীবন-মৃত্যুর মালিক, বৃষ্টিদানকারী, সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি মানা সত্ত্বেও উবুদিয়্যাতের ক্ষেত্রে তারা শিরক করতো। আল্লাহ্ তা‘য়ালা তাদের ঈমান সম্পর্কে বলেনঃ
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللّهِ إِلاَّ وَهُم مُّشْرِكُونَ
‘তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, কিন্তু তারা মুশরিক।’
এ ধরণের ঈমান যথেষ্ট নয় বলেই আল্লাহ্ বলেন:
الَّذِينَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَـئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা, তারাই সৎপথ প্রাপ্ত।’
এখানে যুলম বলতে শিরক বুঝানো হয়েছে। যেমন: সূরা লুকমানে আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন:
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
‘স্বরণ কর, যখন লুকমান উপদেশচ্ছলে তার ছেলেকে বলল, হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শরীক করোনা। নিশ্চয় শিরক হচ্ছে বড় যুলম।’

আশ্ শিরক ফিলউলুহিয়্যাহ বা আশ্ শিরক ফিল ‘উবুদিয়্যাহ দুই প্রকার-
ক) আশশিরকুল আকবার, খ) আশ্শিরকুল আসগার
আশ্ শিরকুল আকবার বা বড় শিরক বলতে বুঝায়, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার বানানো, কাউকে তাঁর সমকক্ষ মনে করা। এর মাধ্যমে মুমিন ঈমান থেকে বের হয়ে চির জাহান্নামী হয়ে যায়। তাওবা ব্যতীত তার মুক্তির আশা নেই। নিম্ন লিখিত কাজগুলো বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত-
(১) কবরকে মসজিদ অর্থাৎ সিজদার জায়গা বানানোঃ কোন নবী বা নেকলোকের সম্মানে তাদের কবরে সিজদা করা অথবা তাদের ছবি বা মূর্তি বানিয়ে তাকে সিজদা করা বা সম্মান করা।
" عن عائشة : أن أم سلمة ذكرت لرسول الله صلى الله عليه وسلم كنيسة رأتها بأرض الحبشة وما فيها من الصور فقال " أؤلئك إذا مات منهم الرجل الصالح أو العبد الصالح بنوا على قبره مسجدا و صوروا فيه تلك الصور أولئك شرار الخلق عند الله"
‘আয়িশা (রা) হতে বর্ণিত, উম্মে সালমা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাবাশার ভূখন্ডে তার দেখা একটি গির্জা এবং তাতে রক্ষিত মূর্তি সম্পর্কে আলোচনা করলেন তখন তিনি বললেন, তাদের মাঝে যখন কোন ভাল লোক মারা যেত, তার কবরের উপর তারা মস্জিদ বানিয়ে তথায় তাদের মূর্তি বানিয়ে রাখতো। তারা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতি।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
" اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبورأ نبيائهم مساجد"
‘আল্লাহর প্রচন্ড গযব পড়ুক ঐ সম্প্রদায়ের উপর, যারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ (সিজদার জায়গা) বানিয়েছে।’
"لعن الله قوما اتخذوا قبورا نبيائهم مساجد"
‘আল্লাহর লা‘নত ঐ জাতির উপর, যারা তাদের নবীগণের কবরগুলোকে মস্জিদ অর্থাৎ সিজদা করার স্থান বানিয়েছে।’
عن عائشة (رض): لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم طفق يطرح خميصة له على وجهه، فاذا اغتم بها كشفها، فقال- وهو كذلك- "لعن الله اليهود والنصارى اتخدوا قبور أنبيائهم مساجد" يحذر ما صنعوا، ولولا ذلك أبرز قبره، غيرأنه خشى أن يتخذ مسجدا
‘আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু ঘনিয়ে আসল, যে চাদরটি তাঁর চেহারার উপর ছিল, ফেলে দিতে লাগলেন, কিছুক্ষণ ঢেকে রাখার পর আবার খুলতেন। এ অবস্থায় তিনি বললেন আল্লাহ লা’নত করুন ইয়াহুদী, নাসারার উপর, যারা তাদের নবীগণের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে, আয়িশা (রা.) বলেন: তারা যা করেছে তা থেকে সতর্ক করে দেয়ার জন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন। যদি তা না হত তাঁর কবরকে প্রকাশ্যেই রাখা হত। তবে তিনি আশংকা করেছেন যে, তাঁর কবরকে মসজিদ বানানো হবে ( তাইতো প্রকাশ্যে না রেখে চার দেয়ালের মাঝে রাখা হয়েছে)।
২। কবরকে সামনে রেখে ইবাদাত করাঃ আর কবরকে সামনে রেখে ইবাদাত করা মানেই হল কবরের ইবাদাত করা। আর কবরের ‘ইবাদাত করা মূর্তিপূজারই নামান্তর। তাই তো আল্লাহ্র রাসূল আল্লাহর নিকট দু’আ করেছেনঃ
"اللهم لا تجعل قبرى وثنا يعبد"
‘হে আল্লাহ্, আমার কবরকে মূর্তি বানাবেন্ না, যার ‘ইবাদাত করা হবে’’।
আল্লাহ্ তাঁর দু’আ কবুল করেছেন, যেমন ইবনুল কাইয়্যেম (র.) বলেনঃ
فأجاب رب العالمين دعاءه  وأحاطه بثلاثة الجدران
অতঃপর রববুল ‘আলামীন তাঁর দু‘আ কবুল করলেন এবং তাঁর কবরকে তিনটি প্রাচীর দিয়ে বেষ্টন করে দিলেন।
عن أبى مدثر عن النبى صلى الله عليه وسلم " لاتصلوا إلى القبور"
আবু মারছাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, ‘‘তোমরা কবরের দিকে ফিরে বা কবরকে সামনে রেখে নামাজ পড় না।’’ মূলত: মূর্তিপূজা শুরু হয়েছে মৃতদেরকে সম্মান করা, তাদের ছবি বানানো, তা স্পর্শ করা, তাদেরকে সামনে রেখে নামায পড়ার মাধ্যমেই।
৩। কবরে বাতি জ্বালানোঃ
عن ابن عباس رضى الله عنه قال: "لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج"
ইবনে ‘আববাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন কবর যিয়ারত কারিণী মহিলাদের উপর এবং ঐ সমস্ত লোকদের উপর যারা কবরের উপর মসজিদ বানায় এবং বাতি লটকায়।
৪। কবরকে উঁচু করা, কবরের উপর গম্বুজ বানানো, কবরের উপর চাদর জড়ানো, কবরকে কেন্দ্র করে লোক জমানো, ওরশ করা হারাম, কবীরা গুনাহ্। অনেক সময় এ সমস্ত কাজগুলো শিরক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এজন্যই আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সমস্ত কার্যকলাপ করতে নিষেধ করেছেন। আলী (রা.) কে পাঠিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
"ألا تدع صورة إلاطمستها ولاقبرا مشرفا إلاسويته"
‘কোন প্রতিকৃতিকে নিশ্চিহ্ণ না করে এবং উঁচু কবরকে সমান না করে ছাড়বে না।’
عن جابر رضى الله عنه : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم " نهى عن تجصيص القبور وأن يقعد عليها وأن يكتب عليها"
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।’’
عن جابر رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم " نهى عن تجصيص القبر وأن يكتب عليها"
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে এবং তার উপর লিখতে নিষেধ করেছেন।’’ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"لا تتخذوا قبرى عيدا "
‘তোমরা আমার কবরে এসে জমায়েত হয়োনা মেলার, স্থানে পরিণত করোনা।’ এ ধরনের কবর কেন্দ্রিক জমায়েতকে ওরশ বলা হয়।

৫। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ করাঃ
আল্লাহ্ বলেন:
(قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ- لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ)
‘‘বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার হজ্জ, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য যিনি সমস্ত আলমের রব, তাঁর কোন শরীক নেই, এ ব্যাপারে আমি আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের একজন।
)فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ(
‘‘তোমার রবের জন্য সালাত আদায় কর এবং কোরবানী কর’’
عن على رضى الله تعالى عنه قال: حدثنى رسول الله صلى الله عليه وسلم بأربع كلمات: " لعن الله من ذبح لغير الله، لعن الله من لعن والديه لعن الله من اوى محدثا لعن الله من غير منار الارض"
‘আলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট চারটি কথা বর্ণনা করেনঃ আল্লাহ্ লা’নত করুন, যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহ্র উদ্দেশ্যে যবেহ করে, আল্লাহ্ লা’নত করুন, যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে লা’নত করে, আল্লাহ্ লা’নত করুন, যে ব্যক্তি (ইসলামের মাঝে) কোন নতুন সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দেয়, আল্লাহ্ লা’নত করুন, যে ব্যক্তি জমিনের সীমানা পরিবর্তন করে।’
৬। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন দেবতা, মূর্তি, মাজার ইত্যাদির উদ্দেশ্যে কিছু পেশ করা, শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা আল্লাহর নামে যবেহ করা হউক, আল্লাহর নামে খাওয়া হউক। যেমন মূর্তি, দেবতা, মাজারের উদ্দেশ্যে গরু, শিরনী ইত্যাদি দেয়া।
عن طارق بن شهاب : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال "دخل الجنة رجل فى ذباب ودخل النار رجل فى ذباب قالوا وكيف ذلك يا رسول الله؟ قال مر رجلان على قوم لهم صنم لايجاوزه أحد حتى يقرب له شئيا. قالوا لاحدهما: قرب، قال: ليس عندى شئ أقرب. قالوا له: قرب ولوذبابا، فقرب ذبابا، فخلوا سبيله، فدخل النار وقالوا للاخر قرب، قال: ماكنت لأقرب لأحد شئيا دون الله عزوجل، فضربوا عنقه فدخل الجنة"
তারিক বিন শিহাব হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি মাছির কারণে এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে আর এক ব্যক্তি একটি মাছির কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, এটা কিভাবে সম্ভব? তিনি বললেন: দু’জন ব্যক্তি একটি সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল, যাদের একটি মূর্তি ছিল। সে মূর্তির উদ্দেশ্যে কিছু পেশ না করা ব্যতীত কেউ তা অতিক্রম করতে পারত না। তারা দু’জনের একজনকে বলল। কিছু পেশ কর, সে বলল: আমার নিকট পেশ করার মত কোন কিছু নেই, তারা বলল, একটি মাছি হলেও পেশ কর, সে মূর্তির উদ্দেশ্যে একটি মাছি পেশ করল। তারা তার রাস্তা ছেড়ে দিল। সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করল। তারা অপরজনকে বলল, মূর্তির উদ্দেশ্যে কিছু পেশ কর। সে বলল: আমি আল্লাহ ছাড়া কারো উদ্দেশ্যে কিছু পেশ করব না। তারা তার গর্দান উড়িয়ে দিল আর এ লোকটি জান্নাতে প্রবেশ করল।
৭। যে স্থানে গায়রুল্লাহ্র উদ্দেশ্যে যবেহ করা হয়, যা স্পষ্টত: শিরক, সেখানে আল্লাহর নামে যবেহ করা হলেও তা হবে নাজায়েয। যেমন- কুবার মসজিদে দেরার (مسجد ضرار) অসৎ উদ্দেশ্য থাকার কারণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মসজিদে সালাত আদায় করা তো দূরের কথা, বরং মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেন। মসজিদে দেরার (مسجد ضرار) সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়া’লা বলেন:
(وَالَّذِينَ اتَّخَذُواْ مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللّهَ وَرَسُولَهُ مِن قَبْلُ وَلَيَحْلِفَنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلاَّ الْحُسْنَى وَاللّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ-لاَ تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا لَّمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِ )
‘আর যারা মসজিদ নির্মান করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরী ও মুমিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতোপূর্বে আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সংগ্রাম করেছে। (তার গোপন ঘাঁটি স্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে), তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে, আমরা নেক উদ্দেশ্যেই এটি করেছি, আল্লাহ্ সাক্ষী, তারা তো মিথ্যাবাদী। তুমি (সালাতের উদ্দেশ্যে) কখনও এতে দাঁড়াবে না, যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হতেই স্থাপিত হয়েছে তাকওয়ার উপর, সেটাই তোমার সালাতের অধিক যোগ্য’..........)
উল্লেখিত মসজিদটি তৈরী করেছিল মুনাফিকরা কোবার মসজিদকে ক্ষতি করার জন্য যার ভিত্তি ছিল তাকওয়ার উপর। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি্ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধে যাওয়ার প্রাক্কালে মুনাফিকরা তাদের নির্মিত মসজিদে তাঁকে সালাত আদায়ের জন্য বলল এবং তাঁকে জানাল যে, তারা এ মসজিদটি তৈরী করেছে শীতের রাত্রিতে দুর্বল ও অসুস্থ লোকদের জন্য, যাদের পক্ষে কুবা মসজিদে দূরের কারণে যাওয়াটা কষ্টকর হয়। । রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি্ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো এখন সফরে আছি, যখন আমি সফর হতে ফিরে আসি, তখন আল্লাহ্ চাহেতো (সে মসজিদে সালাত আদায় করব)। কিন্তু একদিন অথবা তার চেয়ে কম সময়ের পথ থাকতেই সে মসজিদ নির্মাণের কারণ সম্পর্কে ওহীর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি্ওয়াসাল্লামকে জানিয়ে দেয়া হল। তিনি মদীনা আগমনের পূর্বেই লোক পাঠিয়ে তা ধ্বংস করে দিলেন। উল্লেখিত মসজিদটি যেহেতু অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয়েছিল, গুনাহের কাজ করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য তাইতো সে মসজিদে নামাজ পড়া নাজায়েয। এমনিভাবে যেস্থানে গায়রুল্লাহর নামে যবেহ করা হয়,যা সম্পূর্ণই শিরক, সে স্থানে আল্লাহর নামে যবেহ করা হলেও তা খাওয়া জায়েয হবে না।
عن ثابت بن الضحاك رضي الله عنه قال: نذر رجل ان ينحرإبلاببوانة، فسأل النبى صلى الله عليه وسلم فقال: "هل كان فيها وثن من أوثان الجاهلية يعبد؟ قالوا لا. فقال: "هل كان فيها عيد من أعيادهم؟ قالوا لا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أوف بنذرك، فانه لا وفاء لنذر في معصية الله ولا فيها لايملك ابن ادم".
সাবিত বিন দাহহাক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোন এক ব্যক্তি মান্নত করল যে, সে বোয়ানা নামক স্থানে (ইয়ামানের ইয়ালামলাম পাহাড়ের নিকটে অবস্থিত স্থান) একটি উট নহর করবে (নহর বলা হয় উটকে দাঁড় করিয়ে গলার রগে ছুরি মেরে রক্ত বের করা । এতে উটটি মাটিতে পড়ে মারা যায়। উট কুরবানী বা যবেহ করার এটিই শরীয়া’ সম্মত পদ্ধতি) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি্ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, সে স্থানে জাহেলী যুগে কোন মূর্তি বা প্রতিমা ছিল কিনা, যার অর্চনা করা হত? তারা বললঃ না , তিনি বললেনঃ সেখানে জাহেলী যুগের কোন মেলা বসত কিনা? তারা বললঃ না রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি্ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মান্নত পূরা কর। আল্লাহর নাফরমানীর কোন কাজে মান্নত পূরা করা যাবেনা, ইবনু আদম যার মালিক নয়, সে কাজেও মান্নত পূরা করা যাবে না।
উপরোক্ত হাদীস দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হল যে, যে স্থানে শিরকী বা কুফরী কোন কাজ করা হয়, সেখানে কোন ভাল কাজ করাও বৈধ হবে না। যেমন, হিন্দুরা যেখানে পূজা করে সেখানে বসে কুরআন তেলাওয়াত করা, সালাত আদায় করা বৈধ হবে না, যদিও তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হউক।
যে সব জীবজন্তু আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যবেহ অথবা উৎসর্গ করা হয়, তার পদ্ধতি তিনটি:
প্রথমত: আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো নামে যবেহ অথবা উৎসর্গ করা হয়, যবেহ করার সময় সে নাম নিয়েই যবেহ করা হয় যে নামে তা উৎসর্গিত।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা যবেহ করা হয়, তবে যবেহ করার সময় তা আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করা হয়। যেমন, অনেক অজ্ঞ মুসলমান পীর বুযুর্গদের সন্তুষ্টি অর্জনের মানসে গরু, ছাগল, মুরগী ইত্যাদি মান্নত করে তা যবেহ করে থাকে।
তৃতীয়ত: জাহেলী যুগের আরবরা কাবা ঘরের চতুর্পাশ্বে কিছু পাথর স্থাপন করেছিল, যেগুলোর তারা উপাসনা করত। তাদের সম্মানে সেখানে তারা জন্তু যবেহ করত, বিভিন্ন কিছু মান্নত করে তথায় বন্টন করত। যেমন আজকাল বিভিন্ন মাযার, দরগাহ্, কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের সম্মানে যবেহ করে বন্টন করা হয়, এসব প্রকারের যবেহই শিরকের পর্যায়ভুক্ত, খাওয়া হারাম। উপরিউক্ত সব যবেহই আল্লাহর নিষিদ্ধ যবেহ এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ বলেন:
(......وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللّهِ.......)
‘যে জন্তু যবেহ করার সময় গায়রুল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, অথবা গায়রুল্লাহ্র নামে যা উৎসর্গ করা হয়। (তা হারাম)
(......وَمَا ذبِحَ عَلَى النُّصُبِ.....)
‘পাথরের সম্মানে বা পাথর রক্ষিত স্থানে যা যবেহ করা হয়’ (তা হারাম)
৮। কোন গাছ, পাথর, স্থান, কবর এমন ধরনের কোন কিছুর দ্বারা বরকত নেয়া।
আল্লাহ বলেনঃ
) أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى- وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى- أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَى- تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى)
‘‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত, উয্যা এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্বন্ধে? তবে কি পুত্র সন্তান তোমাদের জন্য আর কন্যা সন্তান আল্লাহর জন্য? এ প্রকার বন্টনতো অসংগত।’’
লাত দেবতাটি ছিল সাকীফ গোত্রের উয্যা ছিল কুরাইশ ও বনু কানানা গোত্রের, মানাত ছিল বনু হেলাল গোত্রের। ইবনে হিশাম বলেনঃ মানাত দেবতাটি ছিল হোযাইল এবং খুযা’আহ গোত্রের।
লাতের নামকরণ করা হয়েছে আল্-ইলাহ থেকে আর উয্যা আল্লাহর গুণবাচক নাম আল্ ‘আযীয থেকে।
ইবনু কাছীর বলেন, লাত ছিল তায়েফে অবস্থিত একটি শুভ্র নকশা করা পাথর, তার উপর ছিল একটি ঘরের চিত্র অংকিত, তাতে ছিল পর্দা এবং সে ঘরের ছিল অনেক খাদেম। তার ছিল বড় আঙ্গিনা, তায়েফবাসী সাকীফ গোত্র এবং তাদের অনুসারীরা কুরাইশ ব্যতীত অন্যদের উপর এ দেবতা নিয়ে গর্ব করত। ইবনে ‘আববাস থেকে বর্ণিত যে, সেখানে সুদূর অতীতে একটি চারকোণা বিশিষ্ট পাথরে বসে একজন ইয়াহুদী ব্যক্তি হাজীদের জন্য ‘সাতু’ তৈরী করে খেতে দিত। লোকটি সেখানে মৃত্যু বরণ করলে তার সততা ও ভালকর্মের জন্য লোকেরা এ পাথরকে সম্মান করে এর পার্শ্বে অবস্থান গ্রহণ করতে আরম্ভ করে। কুরাইশ এবং সমগ্র আরব গোত্রের লোকেরাও একে পূজা ও সম্মান করত। ইবনে হিশাম বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুগীরা বিন শু‘বাকে প্রেরণ করলেন তিনি গিয়ে তা ভেঙ্গে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন।
উয্যাঃ মক্কা ও তায়েফের মাঝে নাখলা নামক স্থানে তিনটি বাবলা গাছের সমষ্টি একটি বৃক্ষ ছিল। তার উপর ছিল ঘর এবং খেজুর পাতার পর্দা। তাতে ছিল উয্যা মূর্তি। কুরাইশরা এটাকে সম্মান করত, বরকত মনে করত। এটাকে নিয়ে গর্ববোধ করত। উহুদ যুদ্ধের দিন আবু সুফিয়ান বলে ছিল ‘‘ لنا العزى ولاعزى لكم’’ আমাদের উয্যা দেবতা আছে। তোমাদের উযযা দেবতা নেই। তখন আল্লাহর রাসূল মুসলমিদেরকে বলেছিলেন, তোমরা বলঃ ‘‘ الله مولانا ولامولى لكم’’ আল্লাহ আমাদের মনিব, তোমাদের কোন মনিব নেই।
মক্কা বিজয়ের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদ কে পাঠালেন সে গাছটি কেটে ফেলার জন্য এবং ঘরটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য, খালিদ তা করলেন। খালিদ (রা.) গাছগুলো কেটে ফেললেন আর ঘরটি ভেঙ্গে ফেললেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সংবাদ দিলে তিনি বললেন ফিরে যাও, কেননা তুমি কিছুই করোনি। খালিদ ফিরে গেলেন। যখন খাদেমরা তাঁকে দেখল, তখন তারা পাহাড়ের দিকে দৌড়ে গেল এবং বলতে লাগল হে ঊয্যা, হে ঊয্যা! খালিদ তার নিকট আসলেন, দেখলেন, একটি উলঙ্গ মহিলা, চুলগুলো এলোমেলো, মুষ্টি ভরে মাটি স্বীয় মাথায় মাখছে। খালিদ (রা.) তরবারীর আঘাতে তাকে হত্যা করলেন। অত:পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলে তিনি বললেন, এটাই হল উয্যা।
মানাতঃ মূলতঃ আল্লাহর গুণবাচক নাম মান্নান থেকে এসেছে। এ মূর্তিটি ছিল মক্কা মদীনার মাঝে কুদাইদ নামক স্থানে। খুযা‘আ, আউস এবং খায্রাজ এটিকে খুব সম্মান করত এবং এখান থেকে হজ্জেরইহরাম বাঁধত। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বৎসর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে পাঠালেন এটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য। তিনি গিয়ে মূর্তিটি ধ্বংস করে দিলেন। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, এতে একটি মহিলা জিন থাকতো এবং এ জিনই এর পূজারীদেরকে নানা রকম অলৌকিক কর্মকান্ড করে দেখাতো। মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে সায়ীদ ইবন যায়িদ আল্-আশহালী (রা.) এ মূর্তিটি ধ্বংস করতে যান। এ সময় সে জিনটি কালো বর্ণের একটি মহিলার আকৃতিতে উলঙ্গ অবস্থায় এলোমেলো কেশে আত্মপ্রকাশ করে নিজের জন্য ধ্বংস আহবান করে বুক চাপড়াতে ছিল। সায়ীদ (রা.) তাকে এ অবস্থায়ই হত্যা করেন।
উল্লেখিত মূর্তিগুলোকে আরবের লোকেরা সম্মান করত। তা থেকে বরকত নিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়।
বাই‘আতে রিদওয়ান ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ বাই‘আতটি হয়েছিল একটি গাছের নীচে। এ বায়‘আতটিতে আল্লাহ্ মোমেনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। আল্লাহ্ বলেনঃ
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ.......
‘মুমিনরা যখন বৃক্ষতলে তোমার নিকট বাই’আত গ্রহণ করল, তখন আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন।’
এ বাই‘আতটিই ছিল মূলত: হুদাইবিয়া সন্ধির কারণ। যে সন্ধিটিকে আল্লাহ্ স্পষ্ট বিজয় (مبين فتح) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا
‘নিশ্চয় আমি তোমাকে স্পষ্ট বিজয় দিয়েছি।’
এ গাছটিকে বরকতময় মনে করে পাছে এগাছটিকে কেন্দ্র করে শিরক চালু হয়ে যেতে পারে বিধায় এ গাছটিকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। সাহাবা (রা.) পরে এ গাছটিকে চিহ্ণিত করতে পারে নি।
" فلما خرجنا من العام المقبل نسيناها فلم نقدر عليها"
মুসায়্যাব (রা.) যিনি বাই‘আতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তিনি বলেন: ‘পরবর্তী বৎসর আমরা যখন বের হলাম, গাছটি আমরা ভুলে গেলাম। গাছটি চিনতে আমরা সক্ষম হলাম না।’
وعن ابى واقد الليثى قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى حنين ونحن حدثاء عهد بكفر وللمشركين سدرة يعكفون عندها وينوطون بها أسلحتهم يقال لها ذات أنواط- فمررنا بسدرة- فقلنا يا رسول الله اجعل لنا ذات أنواط كمالهم ذات أنواط فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألله أكبر- إنها السنن، قلتم والذى نفسى بيده كما قالت بنو إسرائيل لموسى (اجعل لنا إلها كما ألهة، قال إنكم قوم تجهلون ) لتركبن سنن من قبلكم চ
হযরত আবু ওয়াকিদ লায়সী (রা.) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুনাইনের যুদ্ধে বের হলাম। তখন আমরা ছিলাম কুফর যুগের সন্বিহিত নতুন মুসলিম। তৎকালে তথায় ছিল মুশরিকদের একটি কূলবৃক্ষ, তার পার্শ্বে তারা উপবেশন করত এবং তার সাথে তাদের অস্ত্রগুলো ঝুলিয়ে রাখত বরকতের জন্য, তাকে বলা হত ‘যাতু আনওয়াত’ আমরা একটি কূলবৃক্ষের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, আমরা বল্লাম- হে আল্লাহর রাসূল তাদের যেমন ‘যাতু আন্ওয়াত’ রয়েছে, আমাদের জন্য একটি ‘যাতু আন্ওয়াত’ এর ব্যবস্থা করে দিন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ‘আল্লাহু আকবর’ এটাতো পূর্ববতীদের প্রথার কথা তোমরা বললে যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম খেয়ে আমি বলছি, তোমরা তো ঐ কথাই বললে, যা বলেছিল বনু ইসরাঈল মূসা (আ.) কে ‘‘আমাদের জন্য ইলাহ ঠিক করে দিন, যেমন রয়েছে তাদের জন্য অনেক ইলাহ। তিনি (মুসা) বললেন, তোমরা হলে মূর্খ জাতি’’ তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি অনুসরণ করে চলতে অভ্যস্ত। ইমাম আত্ তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ্ বলেছেন। যেমন কোন বুযুর্গ কোন স্থানে বসেছিলেন বা কোন পাথরে বসে বিশ্রাম করেছিলেন, সে স্থানকে বা পাথরকে বরকতময় মনে করে তাথেকে ধূলা নিয়ে শরীরে মাখা, পাথরকে চুম্বন করা, বুযুর্গের কবরের পার্শ্বের পুকুরের কাছিমের গা থেকে শেওলা নিয়ে শরীরে মাখা, গজার মাছকে, কুমিরকে খাবার দিলে মকসুদ পূরা হবে বলে বিশ্বাস করা, কবরের দেয়ালে চুম্বন করা, মসেহ করা, কবরের পার্শ্বের গাছে মান্নত করে সুতা বাঁধা, মাযারের কাছ থেকে নেয়া লাল, হলুদ মালা হাতে, গলায় বাঁধা ইত্যাদি।
৯. গায়রুল্লাহর নামে মান্নত করাঃ
মান্নত করা একটি ‘ইবাদাত। যখন মান্নত করবে তা পূরণ করতে হবে। কিন্তু মান্নত গায়রুল্লাহর নামে করা শিরক। যেমন কোন ওলীর মাযারে, মূর্তির উদ্দেশ্যে গরু, ছাগল মান্নাত করা অথবা এভাবে মান্নত করা যে অমুক কার্যটি হাসিল হলে বা রোগমুক্ত হলে মাযারে একটি গরু দেব। এগুলো শিরকের অন্তর্ভূক্ত। মুমিনরা আল্লাহর জন্য মান্নত করে এবং তা পূরা করে।
আল্লাহ বলেনঃ
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ
‘‘তারা মান্নত পূরা করে’’
عن عائشة رضى الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : "من نذر أن يطيع الله فليطعه ومن نذر ان يعصي الله فلا يعصه"
‘‘হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মান্নত করবে, সে তা পূরা করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজের মান্নত করে, সে তা পূরণ করবে না।’’
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لاوفاء لنذر فى معصية الله
‘‘আল্লাহর অবাধ্যতায় মান্নত পূর্ণ করতে নেই।’’
১০. গায়রুল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করাঃ
যেমন আরবদেশে প্রচলন ছিল, কোন উপত্যকায় অবতরণ করলে অথবা কোন ময়দান অতিক্রম কালে সে উপত্যকায় বা ময়দানের জিন সরদারের নিকট তারা আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতোঃ
"أعوذ بسيد هذا الوادى من شرسفهاء قومه"
‘এ উপত্যকার সরদারের নিকট তার জাতির দুষ্টদের অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ পবিত্র কুরআনে তাদের এ জাতীয় প্রার্থনা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
‘মানুষের মধ্যে কিছু লোক কতিপয় জিনের নিকট আশ্রয় চায়। এতে তারা তাদের ভয় আরো বাড়িয়ে দেয়।’ যেমন আমাদের দেশেও দেখা যায়, নদীতে নৌকা লঞ্চ চালনার সময় খোয়াজ খিজিরের নাম নিয়ে বলে, হে খোয়াজ খিজির, নিরাপদে তীরে নিয়ে পৌঁছিয়ে দিও। সকাল বেলায় বাস চালনার সময় রাস্তার পাশে মাযারে দু-চারটি টাকা দিয়ে ঐ মৃত ব্যক্তির আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়।
১১. গায়রুল্লাহর সাহায্য চাওয়া অথবা গায়রুল্লাহকে ডাকাঃ
আল্লাহ বলেন:
وَلاَ تَدْعُ مِن دُونِ اللّهِ مَا لاَ يَنفَعُكَ وَلاَ يَضُرُّكَ فَإِن فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِّنَ الظَّالِمِينَ
‘‘আর ডাকবেনা আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে যে না তোমার কোন উপকার করতে পারে, না তোমার কোন ক্ষতি করতে পারে। যদি তুমি এমন কাজ কর, তা হলে তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’’
আল্লাহ্ বলেনঃ
وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِن قِطْمِيرٍ
‘তাঁকে (আল্লাহ্) বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা খেজুরের বিচির উপরের পাতলা অংশটুকুরও মালিক নয়।’
১২. বালা মুসীবত হতে নিষ্কৃতি লাভের উদ্দেশ্যে বালা, তাগা, সুতা, তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করা।
عن عمران بن حصين رضى الله عنه " ان النبى صلى الله عليه وسلم رأى رجلا فى يده حلقه من صفر فقال : ما هذا؟ قال من الواهنة: فقال انزعها فإنها لاتزيدك إلا وهنا، فإنك لومت وهى عليك ما أفلحت أبدا"
‘‘ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে একটি পিতলের বালা দেখতে পেলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি? সে বলল, এটা রোগের প্রতিরোধের জন্য। তখন তিনি বললেন, এটা খুলে ফেল, এটা কেবল তোমার দুর্বলতাই বৃদ্ধি করবে। কেননা এটা তোমার সংগে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তুমি কখনও সফল কাম হতে পারবে না।
عن عقبة بن عامر مرفوعا " من تعلق تميمة فلا أتم الله له من تعلق ودعة فلا ودع الله له وفى رواية من تعلق تميمة فقد أشرك"
‘উকবা বিন ‘আমের হতে মরফূ’ সূত্রে বর্ণিতঃ ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলায় আল্লাহ যেন তার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ না করেন। আর যে ব্যক্তি ঝিনুক জাতীয় ঘুঙ্গুর ঝুলায়, আললাহ যেন তাকে রক্ষা না করেন অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি তাবিয ঝুলায়, সে শিরক করল।
ولابن ابى حاتم عن حذيفة أنه رأى رجلا فى يده خيط من الحمى فقطعه وتلا وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللّهِ إِلاَّ وَهُم مُّشْرِكُونَ
‘‘ইবনু আবি হাতিমে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে তার হাতে জ্বর নিবারণের তাগা, সুতা পরিহিত দেখতে পেলেন, তখন তিনি তা ছিড়ে ফেললেন। এবং তিলাওয়াত করলেন وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللّهِ إِلاَّ وَهُم مُّشْرِكُونَ।
عن أبى بشير الأنصارى رضى الله عنه أنه كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى بعض أسفاره فأرسل رسولا أن لايبقين فى رقبت بعير قلادت من وتر أو قلادت إلا قطعت ু
আবু বশীর আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন, তখন তিনি একজন দূত প্রেরণ করলেন এ কথা বলে যে, কোন উটের গলায় যেন কোন সুতার হার বা অন্য কোন কিছু না থাকে, থাকলে তা ছিঁড়ে ফেলতে হবে।
عن ابن مسعود رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : "إن الرقى والتمائم والتولة شرك"
আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ঝাড়-ফুঁক, তাবীয, যাদু শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
عن عبد الله بن حكيم مرفوعا من تعلق شيئا وكل إليه
আব্দুল্লাহ বিন হাকীম হতে মারফু’ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি কোন কিছু (হাতে বা গলায়) ঝুলায়, তাকে উক্ত বস্ত্তর সোপর্দ করা হবে। অর্থাৎ সে আল্লাহর জিম্মা হতে বের হয়ে যাবে।
تمائم শব্দটি ةميمة এর বহুবচন। ঐ সকল হাড়, ঘংঘুরকে বুঝায়,যা শিশুদের গলায় ঝুলানো হয় বদ নযর হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য। এটা বৈধ নয়, কেননা এর কোন ক্ষমতা নেই অনিষ্ট হতে রক্ষা করার। ةميمة বলতে তাবীয কবযকেও বুঝায় যা গলায় ঝুলানো হয় বা হাতে বাঁধা হয়।
তাবীয কবয যদি কুরআন বা আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা হয়, তা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয। আর যদি কুরআন দ্বারা হয়, তা হলে জায়েয হবে কিনা, এ নিয়ে সাহাবা ও পরবর্তী আলিমগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে।
অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ী এটাকে নাজায়েয বলেছেন। যেমন ‘আবদুল্লাহ বিন মাসউদ, ‘আবদুল্লাহ বিন আববাস, হোযাইফা প্রমুখ। কতিপয় সাহাবী ও তাবেয়ী এটাকে জায়েয বলেছেন। যেমনঃ আবদুল্লাহ বিন ‘আমর বিন আস, আরো কেউ কেউ। তবে তিনটি কারণে এটি নাজায়েয হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত (১) নাজায়েয হওয়ার দলীলগুলো সব তাবীযকেই অন্তর্ভুক্ত করে, কুরআন দ্বারা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কোন হাদীসে কোন প্রকারের ইংগিত দেয়া হয়নি (২) এটাকে বৈধ বলা হলে অবৈধ পন্থায়, তাবিয লেখার রাস্তা খুলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে (আর হারামের রাস্তা খুলে দেয়া হারাম)। (৩) তাবীয গলায় ঝুলিয়ে বা হাতে কোমরে লাগিয়ে টয়লেট, নাপাক জায়গায় যাওয়ার কারণে কুরআনের অবমাননা হবে। সর্বোপরি কুরআন তাবিযের জন্য নাযিল করা হয়নি। কুরআন নাযিল হয়েছে হিদায়াতের জন।্য যদি তাবিযের জন্যই নাযিল হতো, তা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তাবিয দিতেন। কিন্তু তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমনকি কোন সাহাবী তাবীয দিয়েছেন, তারও কোন প্রমাণ নেই।
الرقى বলতে ঝাড় ফুঁককে বুঝায়। ঝাড় ফুঁক যদি শিরক মুক্ত হয় তা হলে জায়েয। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ নযর, সাপ বিচ্ছু প্রভৃতি বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে এর অনুমতি দিয়েছেন।
عن عوف بن مالك ........ لابأس بالرقى ما لم تكن شركا
‘আউফ বিন মালিক হতে বর্ণিত, ..... ঝাড় ফুঁকে কোন অসুবিধা নেই, যদি তাতে শিরক না থাকে।’’
বোখারী শরীফের একটি দীর্ঘ হাদীসে সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড় ফুঁক করে বিচ্ছুর বিষ নামানোর কথা রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বৈধতা দিয়েছেন এবং বিনিময় নেয়ারও অনুমতি দিয়েছেন।
আল্লামা আস্ সুয়ূতী বলেছেন, তিনটি শর্ত পাওয়া যাওয়ার শর্তে ঝাড়-ফুঁক সমস্ত আলিমের জন্য জায়েয। (১) আল্লাহর কালাম অথবা তাঁর নাম বা গুণাবলী দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা, (২) আরবী ভাষায় হওয়া এবং তার অর্থ বুঝা, (৩) এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, ঝাড়-ফুঁকের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই, যা হবে আল্লাহর ক্ষমতায়ই হবে।
ةولة ঐ তদবীরকে বলা হয় যা দ্বারা স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এবং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর প্রেম আকর্ষণ সৃষ্টি করা হয়। এটি এক প্রকার যাদু। এটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কেউ যদি হাতে বা গলায় সূতা, তাগা লাগায় আর কেউ তা ছিড়ে ফেলে, তা হলে সে ছাওয়াব পাবে।
عن سعيد بن جبير قال "من قطع تميمة من إنسان كان كعدل رقبة"
সাঈদ বিন যুবাইর বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মানুষের তাগা কেটে দেয়, সে যেন একটি দাস মুক্ত করল। ওয়াকী’ হাদীছটি মরফু’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
১৩. ভয়ের ক্ষেত্রে শিরকঃ
ভয় তিন প্রকারঃ
(1) আল্লাহ্ ছাড়া জিন, ভূত, দেবতা, মৃত, তাগুত ইত্যাদিকে ভয় করা যে এরা তার ক্ষতিসাধন করবে। এটাকে বলা হয় গোপন ভয়। যেমন হুদ আলাইহিস্ সালাম-এর কাওম তাঁকে বলল
إِن نَّقُولُ إِلاَّ اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوَءٍ
‘বরং আমরা তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে।’
আরবের মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের মূর্তির ভয় দেখিয়েছে। যেমন আল্লাহ্ বলেনঃ
وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِن دُونِهِ
‘তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যের ভয় দেখায়।
মূলতঃ ভালমন্দ করার ক্ষমতা কারোই নেই। সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। আল্লাহ বলেনঃ
قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ
‘বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি। যদি আল্লাহ্ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করেন তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে?’ অতএব ভয় একমাত্র আল্লাহকেই করতে হবে, অন্য কাউকে নয়।
আল্লাহ্ বলেনঃ
فَلاَ تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
‘অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করোনা, আমাকে ভয় কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকে।’
فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي
‘অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করোনা, আমাকে ভয় করো।’
فَاللّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤُمِنِينَ
‘‘আল্লাহ অধিক উপযুক্ত যে তোমরা তাকে ভয় করবে, যদি তোমরা মুমিন হও।’’
(2) মানুষের ভয়ে, ফিতনার ভয়ে, শরীয়াতের হুকুম পালন থেকে বিরত থাকা। সৎকর্মের আদেশ এবং অসৎকর্মের নিষেধ হতে বিরত থাকা।
আল্লাহ্ বলেনঃ
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّواْ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً
‘তুমি কি সে সব লোককে দেখনি, যাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা নিজেদের হাতকে সংযত রাখ, সালাত কায়েম রাখ, যাকাত আদায় কর, অতঃপর যখন তাদের উপর জেহাদ ফরয করা হল, তখন তাদের মধ্যে হতে একদল মানুষকে ভয় করতে লাগল আল্লাহকে ভয় করার মত, এমনকি তার চেয়েও অধিক ভয়।’
আল্লাহ্ কিয়ামাতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ
وما منعك إذا رأيت المنكر أن لاتغير فيقول يارب خشيت الناس، فيقول الله عزوجل: فإياى كذت أحق أن تخثى
‘অন্যায় কর্ম দেখার পর তা পরিবর্তন করতে তোমাকে কে বাধা দিয়েছে? বান্দা বলবে, হে প্রভু! আমি লোকদেরকে ভয় করেছি, তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি ভয় করবে, এর যোগ্য আমিই বেশি ছিলাম।’ অতএব মানুষের ভয়ে সত্যকথা বলা থেকে বিরত থাকা নিতান্তই অন্যায়, হারাম এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ বলেনঃ
فَلاَ تَخْشَوُاْ النَّاسَ وَاخْشَوْنِ
সুতরাং তোমরা মানুষের কোন অনিষ্টের ভয় করো না, ভয় কেবল আমাকেই কর।’
মুমিনদের পরিচয়দান প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন:
يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ يَخَافُونَ لَوْمَةَ لآئِمٍ
‘তারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে এবং আল্লাহর পথে কথা বলতে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করে না’ এটাকে আল্লাহর রাসূল উত্তম জিহাদ বলেছেনঃ
" عن أبى سعيد الخدرى رض عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر"
‘‘সবচেয়ে উত্তম জিহাদ হল, অত্যাচারী শাসকের নিকট সঠিক কথা বলা।’’
(3) তৃতীয় প্রকার ভয় হচ্ছে, প্রকৃতিগত ভয়। যেমন, হিংস্র জন্তুর ভয়, দুশমনের ভয় ইত্যাদি। এটা দোষনীয় নয়। যেমন আল্লাহ্ মূসা আলাইহিস্ সালাম-এর ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন
فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ
‘অতঃপর তিনি (মূসা) শত্রু আগমনের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে সেখান থেকে ভীত অবস্থায় বের হয়ে পড়েন।’’
ইয়াকুব (আ) তাঁর সন্তান ইউছুফের (আ) ব্যাপারে বললেনঃ
قَالَ إِنِّي لَيَحْزُنُنِي أَن تَذْهَبُواْ بِهِ وَأَخَافُ أَن يَأْكُلَهُ الذِّئْبُ وَأَنتُمْ عَنْهُ غَافِلُونَ
তিনি (ইয়াকুব) বললেনঃ আমার দুশ্চিন্তা হয় যে, তোমরা তাকে (ইউসুফ) নিয়ে যাবে এবং আমি ভয় করি যে, বাঘ তাকে খেয়ে ফেলবে আর তোমরা তার ব্যাপারে গাফিল থাকবে। এ ধরণের ভয় শিরকভুক্ত নয়, কেননা তাতে সম্মান, ইবাদাত কোনটাই মিশ্রিত নয়।
আর এক প্রকারের ভয় রয়েছে, যা প্রশংসনীয়, তা হলো আল্লাহর ভয়। আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। আল্লাহ্ বলেনঃ
ذلك لمن خاف مقامى وخاف وعيد
‘এ (পুরস্কার) তাদের জন্যই, যারা হিসাবের জন্য আমার সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে এবং আমার শাস্তিকে ভয় করে।’
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ
‘‘আর যে ব্যক্তি তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু’টি জান্নাত।’’

১৪. মহববতের ক্ষেত্রে শিরকঃ
মহববত প্রথমত: দুই প্রকারঃ
(ক) বিশেষ ধরনের ভালবাসা এ জাতীয় ভালবাসা একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এ ধরণের ভালবাসা ‘ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত। এতে থাকবে পূর্ণ বিনয়, পরিপূর্ণ আনুগত্য ও পরিপূর্ণ সম্মান মর্যাদা। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللّهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّهِ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلّهِ
‘লোকদের মাঝে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকিছুকে তাঁর সমকক্ষ মনে করে, তারা তাদেরকে ভালবাসে যেমন আল্লাহকে ভালবাসে। বস্ত্ততঃ যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসে।
আরবের মুশরিকরা তাদের দেবতাদের এ ধরনের ভালবাসতো বিধায় আল্লাহ্ তাদের সমালোচনা করেছেন। এ ধরনের ভালবাসা একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এরকম যদি অন্য কাউকে ভালবাসা হয়, সেটা হবে ভালবাসার ক্ষেত্রে শিরক্। আল্লাহকে সব কিছুর চেয়ে অধিক ভালবাসার দাবীর সত্যতা প্রমাণিত হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার মাধ্যমে। আল্লাহ্ বলেনঃ
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي .....
‘বল! তোমরা যদি সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে ভালবেসে থাক, তা হলে তোমরা আমার অনুসরণ কর।’
(খ) সাধারণ ভালবাসা। এটা আবার তিন প্রকারঃ
(১) প্রকৃতিগত ( طبعى) ভালবাসা, যেমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির খাদ্য এবং তৃষ্ণার্ত ব্যাক্তির পানির ভালবাসা (আকর্ষণ)। মিষ্টি ভালবাসা, এ জাতীয় ভালবাসায় যেহেতু সম্মান মিশ্রিত নেই, তাই এ ধরণের ভালবাসা শিরকভুক্ত নয়।
(২) একত্রে বসবাস ও সহাবস্থানগত ভালবাসা।
যেমন সহপাঠিদের পারস্পরিক ভালবাসা, ব্যবসা সাথীদের, একই অফিসে চাকুরীরত কর্মকর্তাদের পারস্পরিক ভালবাসা। এ জাতীয় ভালবাসাও শিরক নয়, যেহেতু এতে আনুগত্য ও সম্মান নেই।
(৩) মায়া মমতা ও দয়া অনুগ্রহপ্রসূত ভালবাসা।
যেমন স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক ভালবাসা, সন্তানদের প্রতি পিতার ভালবাসা এ জাতীয় ভালবাসাও শিরক নয়। কারণ এতে পূর্ণ বিনয়, সম্মান ও আনুগত্য নেই।

১৫. ভরসার (توكل) ক্ষেত্রে শিরকঃ
মুমিনের বৈশিষ্ট হল সকল ব্যাপারে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা। আল্লাহ্ বলেনঃ
وَعَلَى اللّهِ فَتَوَكَّلُواْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
‘তোমরা যদি সত্যিকার অর্থে মুমিন হয়ে থাক, তা হলে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা কর।’
فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُواْ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ
‘তাঁর (আল্লাহর) উপর তাওয়াক্কুল কর যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।’
তাওয়াক্কুল বা ভরসা তিন প্রকারঃ
1. যে সমস্ত বিষয় আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো সামর্থের মধ্যে নেই, যেমনঃ সন্তান দান, ব্যবসায় উন্নতি, রোগ-ব্যাধি নিরাময় করা, বিপদ আপদ থেকে বাঁচানো ইত্যাদি এ সমস্ত ক্ষেত্রে আল্লাহর উপর ভরসা না করে কোন ব্যক্তি জীবিত বা মৃত অথবা অন্য কিছুর উপর ভরসা করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
2. বাহ্যিক আসবাবের উপর ভরসা করাঃ যেমন বাদশাহ্, আমীর যাকে আল্লাহ্ কোন কিছু করার বা প্রতিহত করার ক্ষমতা দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে তার উপর ভরসা করা। এটা শিরকে আসগার এর অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রেও প্রকৃত ভরসা আল্লাহর উপরই করতে হবে।
3. উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসবাব গ্রহণ করাঃ যেমন রিযকের জন্য ব্যবসা বানিজ্য করা, চিকিৎসার জন্য ঔষধ সেবন করা ইত্যাদি শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়। কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বাহ্যিক আসবাবকে গ্রহণ না করে শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করা প্রকৃত তাওয়াক্কুল নয়, প্রকৃত তাওয়াক্কুল হল উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যে মাধ্যম প্রয়োজন, সে মাধ্যম গ্রহণ করেই তা হাসিলের চেষ্টা করা। এটাই আল্লাহর বিধান। এটাই আল্লাহর রীতি।
আল্লাহ বলেনঃ
وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا
‘আর তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।’
وَلاَ تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلاً
‘তুমি আমার নিয়মের কোন ব্যতিক্রম পাবে না।’
عن أنس رضى الله عنه قال: قال رجل : يارسول الله أعقلها وأتوكل أوأطلقها وأتوكل؟ قال: إعقلها وتوكل.
আনাস রাদিয়াল্লাহু বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তা (উট) বেঁধে তাওয়াককুল করব নাকি ছেড়ে দিয়ে তাওয়াক্কুল করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বল্লেনঃ উট বেঁধে তাওয়াক্কুল কর।
উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু একদল ইয়ামান বাসীর সাক্ষাত পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কারা? তারা বলল, আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী। তিনি বললেন, বরং তোমরা তাওয়াক্কুলের বাহানা করছ। প্রকৃত তাওয়াক্কুলকারীতো সে ব্যক্তিই যে যমীনে বীজ বপন করেছে, তারপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেছে।
ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিতঃ ইয়ামানবাসীরা হজ্জে যেত, কিন্তু কোন পাথেয় নিত না, তারা বলত, আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী। তারা মক্কায় গিয়ে ভিক্ষা করত। আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেনঃ
وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى
‘তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে যাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া।’
আহমদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হল ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে বসে থাকে, কোন উপার্জন করেনা এবং বলেঃ আমি আল্লাহর উপর তাওয়াককুল করেছি, তিনি উত্তরে বললেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তিরই আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা কর্তব্য, তবে নিজে উপার্জনের অভ্যাস সৃষ্টি করতে হবে। সমস্ত নবী নিজেরা উপার্জনের জন্য খেটেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কাজ করেছেন। আবু বাকর, উমার করেছেন। কেউই বলেননি, আমরা বসে থাকি, আল্লাহ্ আমাদের রিয্ক দেবেন\ আল্লাহ্ বলেনঃ
فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ
‘তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর ফযল (রিযক) তালাশ কর।’
একদিন উমার ফারুক (রা.) জুম’আর নামাজের পর একদল লোককে দেখলেন মসজিদের পিলারের পার্শ্বে নিভৃতে বসে আছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কারা? তারা বল্ল,আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী। উমার (রা.) বর্ম দিয়ে তাদেরকে আঘাত করলেন এবং ধমকালেন, তারপর বললেন, তোমাদের কেউ একথা বলে রিয্ক অন্বেষণ করা থেকে বসে থাকতে পারবেনা যে, আল্লাহ্ আমাকে রিযক দেবেন, অথচ সে জানে যে, আকাশ স্বর্ণ বা রৌপ্য কোন কিছুই বর্ষণ করেনা, আর আল্লাহ্ বলেছেন-
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ
‘যখন নামায শেষ হয়ে যায়, তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিয্ক) তালাশ কর।’’
সুফইয়ান ছাওরী (র.) মস্জিদে হারামে উপবিষ্ট একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কে তোমাদেরকে বসিয়ে রাখল? তারা বল্ল, তা হলে আমরা কী করব? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ (রিয্ক) তালাশ কর। মুসলিমদের উপর বোঝা হয়োনা।’
১৬. আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরকঃ
আল্লাহ হালাল করেছেন এমন বিষয়কে হারাম করা, আল্লাহ হারাম করেছেন এমন বিষয়কে হালাল করার ব্যাপারে কোন আলিম, পীর, নেতা বা দলের আনুগত্য করা। যেমনঃ সুদকে বৈধ করা, মীরাসের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান বন্টন করা, একাধিক বিবাহ নিষিদ্ধ করা, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি। আল্লাহ্ বলেনঃ
اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ
‘তারা (ইয়াহুদ ও খৃস্টান সম্প্রদায়) আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পন্ডিত পুরোহিতদেরকে এবং ঈসা বিন মারইয়ামকে রব বানিয়ে নিয়েছে।’
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। আদি বিন হাতিম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমরা তো তাদের ‘ইবাদাত করিনা, তিনি বললেন, আচ্ছা তোমরা কি এরূপ করনা যে, আল্লাহর হালাল ঘোষিত বস্ত্তগুলিকে তারা যদি হারাম বলে দেয়, তোমরা কি তা হারাম বলে মেনে নেও, পক্ষান্তরে আল্লাহর হারাম ঘোষিত বস্ত্তগুলোকে তারা যদি হালাল বলে দেয়, তোমরা কি তা হালাল বলে মেনে নেও? আদী বললেন, হ্যাঁ ! তিনি বললেন, এটাইতো তাদের ’ইবাদাত।
আল্লাহ বলেনঃ
وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ
‘যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর তবে তোমরাও মুশরিক হয়ে যাবে।’
প্রতিটি মু’মিনের কর্তব্য যাবতীয় ক্ষেত্রে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নেতাদের যে আদেশ পালনের মাধ্যমে আল্লাহ্ বা তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা হবে, সেক্ষেত্রে তাদের আদেশ নিষেধ মানা নিষিদ্ধ, শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ্ বলেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
‘হে মুমিনগণ ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর এবং আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের নেতাদের। যদি তোমরা মতবিরোধ কর কোন বিষয়ে তা’হলে মীমাংসার জন্য ফিরিয়ে নাও সে বিষয়টিকে আল্লাহ্ ও রাসূলের দিকে যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক আল্লাহ্ ও পরকালে। এটা সর্বোত্তম পন্থা এবং পরিণতির দিক থেকে খুবই সুন্দর।’
উক্ত আয়াতে লক্ষ্যনীয় যে, আল্লাহ্ أطيعوا অর্থাৎ আনুগত্য কর শব্দটি أولى الأمر এর পূর্বে উল্লেখ করেননি। অথচ আল্লাহ্ এবং রাসূল শব্দদ্বয়ের পূর্বে أطيعوا শব্দটি উল্লেখ করেছেন। এতে একথাই সুস্পষ্ট হলো যে, আল্লাহর কথা বিনা বাক্য ব্যয়ে, বিনা যুক্তি তর্কে মেনে নিতে হবে, আর রাসূলের কথা যদি সহীহ্ সূত্রে প্রমাণিত হয় বিনা বাক্যে, বিনা যুক্তিতর্কে মেনে নিতে হবে। কিন্তুأولى الأمر অর্থাৎ অন্য নেতাদের কথা ততক্ষণ মানা যাবে যতক্ষণ তা কুরআন সুন্নাহ্র পরিপন্থী নয়।
এ আয়াত দ্বারা আরো প্রমাণিত হয় যে, কোন বিষয়ে মতবিরোধ হলে বিনা দলীলে কেউ কারো কোন কথা মানতে পারবে না, বরং সে ক্ষেত্রে সাধারণ ও নেতা নির্বিশেষে সকলকেই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সহীহ্ সুন্নাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।
قال ابن عباس : يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء اقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقولون: قال ابوبكر وعمر.
কোন একটি মাসয়ালার ব্যাপারে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘আমি আশংকা করছি যে, তোমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ হবে। যেহেতু আমি বলি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তোমরা তার মুকাবিলায় বলঃ আবুবকর, উমার বলেছেন।’’
আল্লাহ্ বলেনঃ
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার পর কোন মুমিন পুরুষ এবং কোন মুমিন মহিলার সে ব্যাপারে কথা বলার কোন অধিকার নেই, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।’
পিতামাতা যাদের সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ বলেনঃ
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
‘পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়ে শিরক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের কথা মানবেনা, তবে দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহ অবস্থান করবে।’
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
لاطاعة لمخلوق فى معصية الخالق
‘স্রষ্টার বিরুদ্ধাচরণ করে সৃষ্টির আনুগত্য করা চলবে না।’
عليكم بالسمع والطاعة وإن كان عبدا حبشيا وإذا أمرة معصية فلا سمع ولاطاعة
‘তোমাদের কর্তব্য (নেতার কথা) শুনা এবং মানা, যদিও নেতা হাবশী হয়, আর যখন তোমাকে আদেশ করা হয় কোন গুনাহের কাজের, তখন শুনবেও না মানবেও না।’
অতএব সকল ক্ষেত্রেই আনুগত্য হবে একমাত্র আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের। এব্যাপারে সকল ইমাম ও মুজতাহিদ সুষ্পষ্ট ভাষায় তাদের মতামত প্রদানের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাকে সঠিক গাইডলাইন দিয়েছেন। যেমনঃ
ইমাম আবু হানীফা (রঃ) বলেছেন, ‘‘কুরআন-সুন্নাহের দলীল না জেনে শুধু আমার কথা দিয়ে কেউ ফতোয়া দিলে তা হারাম হবে।’’
তিনি আরো বলেনঃ ‘‘হাদীস যদি সহীহ্ হয়, উহাই আমার মাযহাব’’।
ইমাম শাফেয়ী (র.) বলেনঃ ‘‘কোন্ আকাশ আমাকে ছায়া দেবে, আর কোন জমিন আমাকে আশ্রয় দেবে, যদি আমার নিকট রাসূলের কোন বর্ণনা আসে, আর আমি তার বিপরীত কথা বলি’’?
এছাড়া তিনি আরো বলেনঃ
إذا صح الحديث بما يخالف قولى فاضربوا بقولى الحائط
‘যদি আমার কথার বিপরীত কোন সহীহ্ হাদীস হয়, তাহলে আমার কথাকে দেয়ালে ছুঁড়ে মারবে।’
ইমাম মালিক (র.) বলেনঃ
ما منا إلا راد ومردود عليه إلا صاحب هذا القبر صلى الله عليه وسلم
‘আমাদের প্রত্যেকেরই কোন কথা গ্রহণযোগ্য আবার কোন কথা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু এ কবরে যিনি শায়িত আছেন, তিনি ছাড়া’’ অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল কথাই গ্রহণযোগ্য’
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল বলেনঃ
عجبت لقوم عرفوا الإسناد وصحته يذهبون الى رأى سفيان والله تعالى يقول (فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنه أويصيبهم عذاب أليم )
‘আমি আশ্চর্য হই ঐ সম্প্রদায়ের জন্য যারা সনদ এবং তার বিশুদ্ধতা জানা সত্ত্বেও তা ছেড়ে দিয়ে সুফিয়ান ছাওরীর মতকে গ্রহণ করে অথচ আল্লাহ্ বলেন যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের ভয় করা উচিত যে, ফিতনা তাদেরকে পাবে অথবা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।’ ইমাম আহমদ বলেনঃ তুমি কি জান, ফিতনা বলতে এখানে কী বুঝানো হয়েছে? ফিতনা বলতে এখানে শিরকে বুঝানো হয়েছে।’’
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র.) বলেন : ‘আমি তো একজন মানুষ মাত্র, আমি সঠিকও করতে পারি আবার ভুলও করতে পারি। অতএব আমার কথাকে কুরআন-সুন্নাহর মাপকাঠিতে যাচাই করে দেখবে’’।
হিদায়া গ্রন্থ প্রণেতা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম (র.) বলেছেন ‘‘সঠিক মত হল যে, নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসরণ আবশ্যকীয় নয়। কেননা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ওয়াজিব করেছেন, একমাত্র তা-ই ওয়াজিব। আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন মানুষের উপর এটি ওয়াজিব করেননি যে, সে উম্মাতের কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাযহাব গ্রহণ করবে ও দীনের ব্যাপারে এ ব্যক্তিটি যা গ্রহণ বা বর্জন করবে, প্রতিটি বিষয়ে অন্ধের মত সে একমাত্র তা-ই অনুসরণ করে চলবে।’’
শায়খ ‘আব্দুল হক দেহলবী (র.) বলেনঃ
‘প্রকৃত অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ইমাম হচ্ছেন একমাত্র নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব তাঁকে ছাড়া অন্যের অনুসরণ যুক্তিযুক্ত নয়।’’
উপরিউক্ত আলোচনায় এ কথাই স্পষ্ট যে, কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কারো অনুসরণ, আনুগত্য বৈধ নয়। যদি করা হয়, তা হলে তা হবে আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরক।
১৭. আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিরকঃ
আল্লাহ্ বলেনঃ
إِنِ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلّهِ أَمَرَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُونَ
‘হুকুম হবে একমাত্র আল্লাহরই। তিনি আদেশ করেছেন তোমরা একমাত্র তাঁরই ‘ইবাদাত করবে। এটাই হচ্ছে সুদৃঢ় দীন। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই এটা জানে না।
أَلاَ لَهُ الْحُكْمُ
‘জেনে রাখ, তাঁরই জন্য একান্তভাবে সংরক্ষিত রয়েছে হুকুম দেয়ার অধিকার।’
এ অধিকার আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো আছে বলে বিশ্বাস করা বা মেনে নেয়াই হচ্ছে আইনের ক্ষেত্রে শিরক।
فاحكم بينهم بما أنزل الله
অতএব আইন কার্যকর কর তাদের (লোকদের) মাঝে আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী।’
إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللّهُ
‘নিঃসন্দেহে আমি তোমার নিকট কিতাব নাযিল করেছি পরম সত্যতা সহকারে, যেন তুমি আল্লাহর দেখিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে লোকদের উপর হুকুম চালনা করতে পার।’
অতএব আইনদাতা হলেন একমাত্র আল্লাহ্। আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে যদি আইনদাতা বলে বিশ্বাস করা হয় অথবা আল্লাহর আইনকে কোন কোন ক্ষেত্রে অকার্যকর বা অকল্যাণকর মনে করে মানুষের রচিত আইনকে কল্যাণকর বলে বিশ্বাস করা হয়, তা হলে এটা হবে শিরক। আর যদি মনে করা হয় যে, এ যামানায় ইসলামী আইন চলতে পারে না তবে তা হবে কুফুরী।
আল্লাহ বলেনঃ
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
‘আর যারা আল্লাহ্ তা’য়ালা কর্তৃক নাযিলকৃত বিধান দ্বারা বিচার করেনা, তারাই হচ্ছে কাফির।’
অতএব সকল ব্যাপারেই হুকুমদাতা হলেন একমাত্র আল্লাহ্ ।
أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ
‘যেনে রাখ, সৃষ্টি এবং নির্দেশ তাঁরই।’
১৮. যাদুঃ (السحر)
যাদু দুটি কারণে শিরকের অন্তর্ভুক্তঃ
1. যাদু বিদ্যায় শয়তানকে ব্যবহার করা হয়। কোন কোন সময় শয়তান যে সব কাজ পছন্দ করে, সে সব কাজ সম্পাদন করে তার নৈকট্য লাভ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শয়তান যেন যাদুকরের কাজ করে দেয় এবং তার উদ্দেশ্য হাসিলে সচেষ্ট হয়।
2. যাদু বিদ্যায় ইলমে গায়বের দাবী করা হয়, যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কেননা গায়ব একমাত্র আল্লাহই জানেন। যাদু করা শয়তানী কাজ। আল্লাহ্ বলেনঃ
وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـكِنَّ الشَّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
‘সুলাইমান কুফরী করেনি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল, তারা লোকদেরকে যাদুবিদ্যা শিখাতো’
عن أبى هريرة رضى الله عنه " من عقد عقدة ثم نفث فيها فقد سحر، ومن سحر فقد أشرك،
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত ‘যে ব্যক্তি গিরা লাগিয়ে তাতে ফুঁ দিল, সে যাদু করল, আর যে যাদু করল সে শিরক করল’। যাদুকরকে হত্যা করার নির্দেশ রয়েছে।
عن بجالة بن عبيدة قال: كتب عمر بن الخطاب: "أن اقتلوا كل ساحروساحرة" قال: فقتلنا ثلات سواحر.
বাজালা ইবনে ‘উবাইদা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু লিখিত ফরমান জারী করলেন যে, তোমরা প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও নারীকে হত্যা কর। তিনি বলেন, অতপর আমরা তিনজন যাদুকর হত্যা করেছি।
১৯. গণকঃ যদি কেউ যে কোন পন্থায় গায়ব জানার দাবী করে, আর মানুষকে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলে দেয়, তা হলে এটা হবে শিরক। কেননা গায়ব জানার একচ্ছত্র অধিপতি হলেন একমাত্র আল্লাহ্। তিনি বলেনঃ
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ
‘বল! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যারা রয়েছে, আল্লাহ্ ব্যতীত তাদের কেউ গায়ব সম্পর্কে জানে না।’
عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال " من أتى كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم"
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি গণকের নিকট যায় আর সে যা বলে তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, তা হলে সে কুফরী করল সে বিষয়গুলোর সাথে যা নাযিল করা হয়েছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর।’’
২০. عراف ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে দাবী করে যে, বিশেষ নিয়ম পদ্ধতির মাধ্যমে সে চোরাইমালের এবং হারানো মাল কোথায় আছে বলে দিতে পারে। অথবা গায়বের খবর জানে বলে দাবী করে। এটাও শিরকের অনুর্ভুক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
"من اتى عرافا فسأله عن شئي فصدقه لم تقبل له صلاة أربعين يوما"
‘যে ব্যক্তি কোন ‘আররাফের নিকট আসবে এবং তাকে কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে আর তাকে সত্যবলে বিশ্বাস করবে, তাহলে চল্লিশদিন তার সালাত কবুল হবে না।’
২১. জ্যোতির্বিদ্যাঃ
যে জ্যোতির্বিদ্যা দ্বারা শুধু চন্দ্র, সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের সাহায্যে সময় ও দিক নির্ণয় করা হয়, তা দোষনীয় নয়।
কিন্তু যে জ্যোতির্বিদ্যা আকাশের বিভিন্ন অবস্থা থেকে জাগতিক ঘটনাবলীর প্রমাণ বা মাসয়ালা গ্রহণ করা হয়। তা হবে শিরক। কেননা এতে ‘ইলমে গায়বের দাবী করা হয়, যা আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। যেমনঃ কয়েক বৎসর পূর্বে জ্যোতিষরা বলেছিল অমুক সনের অমুক তারিখের অমুক সময়ে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। অনেকেই তা বিশ্বাস করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা করছিল। অথচ কুরআন সুন্নাহ্ বলে কিয়ামাতের ইলম একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কেউ এটা জানার দাবী করা শিরক ।
আল্লাহ বলেনঃ
يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي
‘তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামাত সম্পর্কে, কিয়ামাত কবে হবে? বল! এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আমার প্রতিপালকের নিকটই রয়েছে।’
২২. দুনিয়া পরিচালনা করার ক্ষেত্রে শিরকঃ এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, বিভিন্ন অঞ্চল, শহর পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীল ওলী রয়েছেন তাঁদেরকে বলা হয় কুত্ব (قطب)। এ অঞ্চল ও শহরের ভালমন্দ তাঁরা দেখে থাকেন। অতএব এ অঞ্চল বা শহরে ভালভাবে বাস করতে হলে বা এ এলাকা নিরাপদে পার হতে হলে ঐ কুতবের নিকট সাহায্য চাইতে হবে। এ ধরণের আকীদা পোষণ করা শিরক। আল্লাহ্ বলেনঃ
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
‘আরও এই যে অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় প্রার্থনা করত ফলে তারা জিনদের অহংকার আরো বাড়িয়ে দিত।
কোন কোন মুফাসসিরرهقا অর্থ বলেছেন ভয়, গুনাহ্। তখন অর্থ হবে জিনেরা তাদের ভয় বা গুনাহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জাহেলী যুগের লোকদের এ ধরণের আকীদা ছিল, তাই তারা কোন স্থান বা ময়দান অতিক্রম করার সময় তাদের আকীদা অনুযায়ী সে স্থান বা ময়দানের কুতবের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত।
আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়েছেন তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে এভাবে
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
‘বল ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের পালনকর্তার।’
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
‘বল ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।’
হাদীসে আছে-
عن خولة بنت حكيم قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " من نزل منزلا فقال: أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق، لم يضره شئى حتى يرحل من منزله ذلك"
‘খাওলা বনতে হাকীম (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করে বলে, আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যগুলো দ্বারা তাঁর সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি। তাহলে সে স্থান্ ত্যাগ করা পর্যন্ত কোন কিছুই তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।
২৩. হুলুলের (حلول) এর ক্ষেত্রে শিরক্ঃ এ ধারণা পোষণ করা যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করছেন। ‘আল্লাহর সাথে মানবাত্মার মিলন’। সাধারণত সূফীরা এ ধারণা পোষণ করে থাকে। তাদের মধ্যে মহীউদ্দীন ইবনু আরাবী (৫৬০-৬৩৮হি.দামেশ্ক) বলেছেঃ রবই আবদ, আবদই রব। তাই তো মনসূর হাল্লাজ বলেছেঃ ‘আনাল হক, আনাল হক’। এ কথা বলার জন্য ৩০৯ হিজরী ৬ই জিলকা’দা মঙ্গলবার তাকে হত্যা করা হয়।
২৪. মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সৃষ্টির আকীদায় শিরক্ঃ
একদল ভন্ড লোক এ আকীদা পোষণ করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ তাঁর নূর দিয়ে তৈরী করেছেন, অন্যান্য মানুষের মত মাটি দিয়ে তৈরী করেননি। তাইতো তারা বলে থাকে মুহাম্মাদ খোদা নেহী, খোদা ছে জুদা নেহী। অর্থাৎ মুহাম্মাদ খোদা নন তবে খোদা থেকে পৃথকও নন। অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেনঃ
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ .......
‘বল! আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ (পার্থক্য শুধু এটুকু যে) আমার প্রতি ‘ওহী পাঠানো হয়। (যা তোমাদের কাছে হয় না)
مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ- وَلَئِنْ أَطَعْتُم بَشَرًا مِثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًا لَّخَاسِرُونَ
‘(কাফিররা বলল) এতো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। তোমরা যা খাও, সেতো তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে। যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা নিতান্তই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এছাড়া সূরা আশ্ শুয়া’রা ১৫৪, সূরা হামীমুস্ সাজদা এর ৬ নং আয়াত সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি একজন মানুষই। অন্যান্য মানুষের সৃষ্টি যে উপাদান দিয়ে তাঁরও সৃষ্টি সে উপাদান দিয়েই। তবে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তিনি আল্লাহর ওহী প্রাপ্ত ‘রাসূল’।
২৫. গায়রুল্লাহ্র নামে শপথ করাঃ
عن عمربن الخطاب رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من حلف بغير الله فقد كفر أو أشرك"
‘উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নামে শপথ করল সে কুফর বা শিরকের কাজ করল।
২৬. طيرة অর্থাৎ কোন কাজ করতে গিয়ে অথবা কোথাও রওয়ানা হতে গিয়ে কোন কিছু দেখে বা কোন কথা শুনে অলক্ষী বা কুলক্ষণ বা অশুভ মনে করে সে কাজ না করা বা সফরে না গিয়ে ফিরে আসা। যেমন বাড়ি থেকে বের হয়ে খালী কলসি, ভাঙ্গা কলসি দেখল, বামদিকে পাখি উড়ে যেতে দেখল, মারামারি করতে দেখল, অশোভনীয় কিছু দেখল বা মনে আঘাত লাগার মত কোন কথা শুনল। এগুলোকে অশুভ বা কুলক্ষণ মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আরব দেশে নিয়ম ছিল, কোথাও তারা রওয়ানা হলে পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করত। পাখি ডান দিক উড়ে গেলে এটাকে শুভ লক্ষণ এবং বাম দিক উড়ে গেলে এটাকে অশুভ লক্ষণ মনে করত। এগুলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه مرفوعا " الطيرة شرك الطيرة شرك"
‘আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফূ’ সূত্রে বর্ণিত ‘কুলক্ষণ মানা শিরক, কুলক্ষণ মানা শিরক।’
عن عبد الله بن عمرو "من ردته الطيرة عن حاجته فقد أشرك قالوا: فما كفارة ذلك ؟ قال: أن تقول: أللهم لاخير إلا خيرك ولاطير إلا طيرك ولا إله غيرك"
‘আব্দুল্লাহ্ বিন ‘আমর হতে বর্ণিতঃ কুলক্ষণ যাকে স্বীয় প্রয়োজন হতে ফিরিয়ে দেয়, সে অবশ্যই শিরক করল। তাঁরা (সাহাবা) জিজ্ঞাসা করল, এর কাফ্ফারা কী হবে? তিনি বললেন, তুমি বলবেঃ হে আল্লাহ্ ! তোমার কল্যাণ ব্যতীত আর কোন কল্যাণ নেই, তোমার পক্ষ হতে অকল্যাণ ব্যতীত আর কোন অকল্যাণ নেই এবং তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই।
عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لاعدوى ولاطيرة ولاهامة لاصفر"
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণ, বাড়িতে পেঁচা আসাতে অশুভ লক্ষণ মনে করা এবং সফর মাসকে অশুভ মনে করা ইসলামে নেই।’’
জাহিলী যুগের লোকদের বিশ্বাস ছিল, সফর মাস অধিক রোগ শোক এবং ফিতনা ফাসাদের মাস। ইসলাম এ বিশ্বাসকে বাতিল করে দিয়েছে। অথবা সফর বলতে বুঝানো হয়েছে পেটে এক প্রকার কীট সাপের মত, যাকে আমরা লম্বা কৃমিও বলতে পারি। তৎকালীন আরববাসীদের বিশ্বাস ছিল। মানুষ যখন ক্ষুধার্ত থাকে তখন এ কীটটি তার পেটে জন্ম হয় এবং তাকে কষ্ট দেয়। এ কীটটি আবার সংক্রামিত হয়।
এগুলো জাহিলী যুগের ‘আকীদা, ইসলাম এ ‘আকীদাকে বাতিল বলে আখ্যায়িত করেছে।
২৭. রোগ নিজে নিজে সংক্রমিত হয় বলে বিশ্বাস করা। জাহিলী যুগের লোকেরা কোন উট খুজলী রোগে আক্রান্ত হলে সেটিকে অন্যান্য উট থেকে আলাদা করে রাখত এ ভয়ে যে এর কারণে অন্যান্য উটগুলোও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়বে। ইসলাম এ ধারণাকে বাতিল হরে দিয়েছে।
عن ابى هريرة قال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا عدوى فقام أعرابي فقال ارايت الابل تكون فى الرمال امثال الظباء فياتيها البعير الاجرب فتجرب قال النبى صلى الله عليه وسلم فمن أعدى الاول.
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোগ সংক্রমণ নেই। এক বেদুঈন উঠে দাঁড়িয়ে বললো, তাহলে এ ব্যাপারে আপনার কি রায় যে, উট চারণ ভূমিতে হরিণের মতো (সুস্থ ও সুন্দর) থাকে। এসব উটের মাঝে একটি চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে মিশে এবং সবগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দেয়? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, প্রথম উটটির চর্মরোগ আসলো কোথা থেকে?
عن أبى هريرة رض : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال "لا عدوى"
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোগ নিজে নিজে সংক্রমিত হয় না।
২৮. নিম্ন জগতের উপর উর্ধ্ব জগতের গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাবে বিশ্বাসী হওয়াঃ জাহিলী যুগের লোকদের বিশ্বাস ছিল আকাশে অমুক তারকা উদিত হলে তার প্রভাবে জমিনে বৃষ্টি হয়, অমুক তারকা উদিত হলে খেজুর পাকা শুরু হয় ইত্যাদি।
عن زيد بن خالد رضى الله عنه قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الحديبية فأصابنا مطر ذات ليلة فصلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبح ثم أقبل علينا بوجهه فقال أتدرون ماذا قال ربكم قلنا الله ورسوله أعلم فقال قال الله أصبح عبادى مؤمن بى وكافر بى فأما من قال مطرنا برحمة الله وبرزق الله وبفضل الله فهو مؤمن بى وكافر بالكوكب وأمامن قال مطرنا بنجم كذا فهو مؤمن بالكوكب كافربى-
‘যায়িদ বিন খালিদ (রা.) বলেন, আমরা হুদাইবিয়ার বৎসর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলাম, এক রাত্রিতে বৃষ্টি আমাদেরকে পেল, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সকালের সালাত আদায় করলেন তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? আমরা বললাম আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহ্ বলেছেন, আমার বান্দারা প্রাতকাল করেছে। কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী হয়ে, আবার কেউ আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে। যে বলেছে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে আল্লাহর রহমতে, আল্লাহর রিয্ক দ্বারা এবং আল্লাহর অনুগ্রহে সে আমার প্রতি বিশ্বাসী, তারকার উপর অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে অমুক তারকার কারণে সে তারকায় বিশ্বাসী হয়েছে, আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে। অপর বর্ণনায় রয়েছে ’’مطرنا بنؤكذا’’ অমুক তারকা উদিত হওয়ার কারণে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
মূলত: বৃষ্টি হওয়া না হওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছায়ই হয়ে থাকে। আসমান জমিনে যা-ই ঘটে, সবটা আল্লাহর ইচ্ছায়ই ঘটে। অন্য কারো হাত আছে বলে বিশ্বাস করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ বলেন:
أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ-أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاء الَّذِي تَشْرَبُونَ
‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করেছ? তোমরা কি মেঘমালা হতে তা অবতীর্ণ কর না আমি অবতীর্ণ করি।’
(২৯) বিপদে আপদে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকাঃ যেমন- ইয়া রাসূলাল্লাহু্ইয়া গাওছুল আযম, ইয়া খাজা বাবা, ইয়া বাবা এনায়েতপুরী ইত্যাদি।
(৩০) নবী, রাসূল, ওলী সর্বত্র হাজির হতে পারেন বলে বিশ্বাস করাঃ যেমন মীলাদ মাহফিলে রাসূল হাজির হন, বিপদে পড়লে ওলীরা এসে সাহায্য করেন। এ ধরণের বিশ্বাস শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
(২) আশ্শিরকুল আসগার বা ছোট শিরক:
এটিকে আশশিরকুল খফী বা গোপন শিরকও বলা হয়। এধরনের শিরকের দ্বারা তাওহীদে ত্রুটি সৃষ্টি হয় এবং কখনও কখনও বড় শিরক পর্যন্ত পৌছে দেয়। এ ধরনের শিরক থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন:
فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
‘অতএব তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবেনা।’
ইবনে আববাস বলেছেন উক্ত আয়াত বড় ছোট দু’ধরনের শিরককেই অন্তর্ভুক্ত করেছে।
عن أبى بكر رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال " الشرك أخفى من دبيب النمل"
আবু বাকর (রা) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: শিরক হলো পিপিলিকার ধীরগতির চলার চেয়েও আরো গোপন।
قال ابن عباس رضى الله عنهما " الشرك أخفى من دبيب النمل على صفاة سوداء فى ظلمة الليل"
আব্দুল্লাহ বিন আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: শিরক হল রাতের আঁধারে কালো মসৃন পাথরের উপর পিপিলিকার মন্থর গতির চেয়ে আরো সূক্ষ্ম।
নিম্নে বর্ণিত বিষয় গুলো ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত:
১.রিয়া (الرياء) : অর্থাৎ লোক দেখানো কোন কাজ করা। আল্লাহ বলেনঃ
فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاء رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
‘অতএব, যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।’
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘‘الرياء شرك’’ ‘রিয়া হল শিরক’
عن أبى هريرة مرفوعا " قال الله تعالى : " أنا أغنى الشركاء عن الشرك ، من عمل عملا أشرك معى فيه غيرى تركته وشركه"
আবু হুরাইরা (রা) হতে মরফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ বলেন, শিরকের ব্যাপারে আমি শরীকদের অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি তার ‘আমলে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে আমি তাকে এবং তার শরীককে বর্জন করে থাকি।’
عن أبى سعيد مرفوعا " ألا أخبركم بما هو أخوف عليكم من المسيح الدجال؟ قالوا: بلى يا رسول الله : قال الشرك الخفى : يقوم الرجل فيصلى فيزين صلاته لما يرى من نظر رجل"
আবু সাঈদ (রা) হতে মরফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আমি [রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কি তোমাদেরকে সংবাদ দেবনা এমন বিষয় সম্পর্কে, যা তোমাদের উপর মসীহ দাজ্জাল অপেক্ষা অধিক ভীতিপ্রদ। তাঁরা (সাহাবা রা ) বললেন, হাঁ, তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে শিরকে খফী। এক ব্যক্তি এজন্যই তার সালাত কে সুন্দর করে আদায় করে যে, অপর কোন ব্যক্তি তা দেখছে।
عن محمود بن لبيب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر " قالوا : وما الشرك الأصغر يارسول الله؟ قال: "الرياء يقول الله تعالى يوم القيامة إذا جازى الناس بأعمالهم إذهبوا إلى الذين كنتم تراؤون فى الدنيا فانظروا هل تجدون عندهم جزاء؟"
মাহমুদ বিন লাবীব হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের উপর যে বিষয়ের সবচেয়ে বেশি ভয় করছি তা হল, ছোট শিরক। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, ছোট শিরক কোনটি? রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রিয়া, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামাতের দিন যখন লোকদেরকে তাদের কাজের বিনিময় দেবেন, তখন তাদের বলবেন, দুনিয়ায় যাদেরকে দেখাবার জন্য কাজ করেছ, দেখ তাদের নিকট কোন বিনিময় পাও কিনা?
عن محمود بن لبيب قال : خرج النبى صلى الله عليه وسلم فقال : يا أيها الناس إياكم وشرك السرائر، قالوا يارسول الله وما شرك السرائر؟ قال " يقوم الرجل فيصلى فيزين صلاته جاهدا لما يرى من نظر الرجل إليه فذلك شرك السرائر"
মাহমুদ বিন লাবীব হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেনঃ হে লোকেরা, তোমরা গোপন শিরক থেকে বেঁচে থাক, সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, গোপন শিরক কোনটি? তিনি বললেন, একজন লোক সালাত আদায় করে সুন্দর করে একারণে যে, অপর কোন ব্যক্তি তার দিকে তাকিয়ে আছে। এটাই হল গোপন শিরক।
عن شداد بن أوس مرفوعا " من صلى يرائى فقد أشرك ومن صام يرائى فقد أشرك ومن تصدق يرائى فقد أشرك"
শাদ্দাদ বিন আউস হতে মরফূ সূত্রে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি দেখাবার জন্য সালাত আদায় করল, সে শিরক করল, যে ব্যক্তি দেখাবার জন্য রোযা রাখল, সে শিরক করল, যে ব্যক্তি দেখাবার জন্য দান করল, সে শিরক করল।
عن شداد بن أوس قال : كفا نعد الرياء على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم الشرك الأصغر"
‘শাদ্দাদ বিন আউস বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা রিয়াকে ছোট শিরক হিসেবে গণনা করতাম।’
রিয়া মূলতঃ মুনাফিকের বৈশিষ্ট। আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُواْ إِلَى الصَّلاَةِ قَامُواْ كُسَالَى يُرَآؤُونَ النَّاسَ وَلاَ يَذْكُرُونَ اللّهَ إِلاَّ قَلِيلا
‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, আর তিনি তাদেরকে তাদের প্রতারণার শাস্তি দেবেন, যখন তারা সালাত আদায়ে দাঁড়ায় আলস্যভরে দাঁড়ায়, লোকদেরকে দেখায়, মুলতঃ তারা আল্লাহকে খুবই কম স্মরণ করে।’
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ-الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ-الَّذِينَ هُمْ يُرَاؤُونَ-وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ
‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজীর, যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে গাফিল, যারা লোকদেরকে দেখায় এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্ত্ত অন্যদেরকে দেয়না।’ হাদীছে আছে-
‘‘ أن يسير الرياء شرك’’
‘‘নিশ্চয় সামান্য রিয়াও শিরক’’
২.السمعة সুখ্যাতি , সুনাম ঃ অর্থাৎ কোরআন তিলাওয়াত , ওয়াজ নসীহত ইত্যাদি শুনিয়ে উদ্দেশ্য সুনাম ছড়ানো। লোকেরা তা শুনে তার ভূয়সী প্রশংসা করবে। যেমন কারো ব্যাপারে বলবে পীরেকামেল, সুমিষ্টভাষী, যুক্তিবাদী ইত্যাদি। হাঁ যদি এ ধরণের গুণাবলী বললে মনে আনন্দ না যাগে, এমনটি কামনা তার না থাকে বা এধরনের কথায় সে উৎফুল্ল বোধ না করে , তাহলে এতে তার কোন পাপ হবেনা। যেমন হাদীসে আছেঃ
عن أبى ذر رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم " أنه سئل عن الرجل يعمل العمل من الخير يحمده الناس عليه فقال : تلك عاجل بشرى المؤمن"
‘আবু যার (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে কোন ভালকাজ করে আর লোকেরা তার একাজের প্রশংসা করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , এটা মুমিনের আগাম সুসংবাদ।’
رياء ও سمعة এর কারণে আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণ যোগ্য হবেনা , তা যতবড় আমলই হোকনা কেন, বরং ঐ সমস্ত আমল তার জন্য কঠিন শাস্তির কারণ হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
" إن أول الناس يقضى يوم القيامة عليه رجل أستشهد فأتى به فعرفه نعمه فعرفها قال : فما عملت فيها قال : قاتلت فيك حتى استشهدت قال: كذبت ولكنك قاتلت لأن يقال جرئ فقد قيل ثم أمربه فسحب على وجهه حتى ألقى فى النارورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن فأنى به، فعرفه نعمه فعرفها قال: فما عملت فيها؟ قال تعلمت العلم وعلمته وقرآت فيك القرآن قال: كذبت ولكنك تعلمت العلم ليقال عالم . وقرأت القرآن ليقال هو قارئ فقد قيل، ثم أمربه فسحب على وجهه حتى ألقى فى النار. ورجل وسع الله عليه وأعطاه من أصناف المال كله فأتي به فعرفه نعمه فعرفها قال: فما عملت فيها قال: ما تركت من سبيل تحب أن ينفق فيها إلا أنفقت فيها لك، قال: كذبت. ولكنك فعلت ليقال هو جواد فقد قيل. ثم أمربه فسحب على وجهه ثم ألقى فى النار."
‘‘নিশ্চয় কিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার হবে, সে হল ঐ ব্যক্তি যে শাহাদাত বরণ করেছে। তাকে আনা হবে, তাকে তার (আল্লাহর দেয়া) নিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করবেন, সে তা অবহিত হবে। তিনি (আল্লাহ ) জিজ্ঞাসা করবেন , তুমি এতে কী করেছ? সে বলবেঃতোমার পথে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছ। তুমিতো এজন্য যুদ্ধ করেছ যে, তোমাকে বীর বলা হবে, আর তাতো বলা হয়েছে, তার পর তাকে তার চেহারার উপর উপুড় করে হেঁচড়ে আনার নির্দেশ দেয়া হবে। তার পর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তার পর আনা হবে ঐ ব্যক্তিকে যে ইলম শিখেছে এবং শিখিয়েছে, কুরআন পড়েছে, তাকে তাঁর দেয়া নিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করবেন, সে অবহিত হবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এতে কী করেছ? সে বলবে, ‘ইলম অর্জন করেছি, তা শিখিয়েছি এবং তোমার পথে কুরআন পড়েছি, আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ , বরং তুমি ইলম শিখেছ যেন তোমাকে ‘আলিম বলা হয়। আর কুরআন পড়েছ যেন বলা হয় যে, সে একজন ক্বারী আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামে ফেলার নির্দেশ দেয়া হবে এবং জাহান্নামে ফেলা হবে। তারপর আনা হবে ঐ ব্যক্তিকে যাকে আল্লাহ সম্পদের প্রাচুর্য দিয়েছেন এবং সকল প্রকারের সম্পদ দান করেছেন। আল্লাহ তাকে অবহিত করবেন তাঁর দেয়া সকল নিয়ামত সম্পর্কে, সে অবহিত হবে আল্লাহ বলবেন এ ক্ষেত্রে তুমি কী আমল করেছ, সে বলবে , আপনি যে পথে খরচ করাটা পছন্দ করেন, এমন সকল পথেই আপনার সন্তুষ্টির জন্য খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেন , তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি তো এজন্যই খরচ করেছ যে, যেন বলা হয় , সে একজন দানশীল ব্যক্তি। আর তাতো বলা হয়েছে। তারপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’
سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم من الرجل يقاتل شجاعة ويقاتل حمية ويقاتل رياء أى ذلك فى سبيل الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قاتل لتكون كلمة الله هى العليا فهو فى سبيل الله
‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল এক ব্যক্তি বীরত্বের জন্য লড়াই করে। আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে অহমিকার জন্য, আরেকজন যুদ্ধ করে দেখাবার জন্য কোনটা আল্লাহর পথে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কালেমাকে উঁচু রাখার জন্য যে যুদ্ধ করে সেটাই হবে আল্লাহর পথে।’
অতএব প্রত্যেকটি আমলই হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। লোক দেখানো বা সুখ্যাতির মনোভাব রাখার কোন সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেনঃ
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء
‘তাদেরকে এ ছাড়া কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ-لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
‘বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি রববুল আলামীন , ‘যার কোন শরীক নেই , এ ঘোষণা দেয়ার জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের প্রথম মুসলিম।’
৩. আমলের দ্বারা দুনিয়া উদ্দেশ্য হওয়াঃ যে আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণ চাওয়া উচিত, সে আমলের দ্বারা শুধু দুনিয়ার কল্যাণ চাওয়া। আল্লাহ বলেনঃ
مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لاَ يُبْخَسُونَ-أُوْلَـئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ إِلاَّ النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُواْ فِيهَا وَبَاطِلٌ مَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ
‘যারা দুনিয়ার জীবন এবং এর চাকচিক্য কামনা করে, আমি তাদেরকে দুনিয়ায় তাদের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেব, এবং এতে তাদের কোন কমতি করা হবেনা । এরাই হল সেসব লোক যাদের জন্য আখিরাতে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই, তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই ধ্বংস হয়ে গেছে, আর যা তারা করত সবই বাতিল।’
যারা শুধু দুনিয়ার জন্য আমল করে , আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার উন্নতি , সন্তান সন্তুতি ইত্যাদি দান বরবেন , আখেরাতে তারা কিছূই পাবেনা ।
مَّن كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاء لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلاهَا مَذْمُومًا مَّدْحُورًا
‘যে ব্যক্তি (শুধু) দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করে, আমি যাকে চাই, যে পরিমান চাই সত্তর এ দুনিয়ায় তাকে তা দান করি। অতঃপর তার জন্য আমি জাহান্নাম নির্ধারণ করি। সে তাতে নিন্দিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে।’
৪. কথায় আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করাঃ যেমন বলল, আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তোমার ইচ্ছায়।
عن ابن عباس رضى الله عنهما " أن رجلا قال للنبى صلى الله عليه وسلم وماشاء الله وشئت، فقال : أجعلتنى لله ندا بل ما شاء الله وحده"
‘আব্দুল্লাহ ইবন আববাস (রা) হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন এবং আপনি যা ইচ্ছা করেন । তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাকে আল্লাহর সাথে শরীক করছ? বরং (বল) যা এক আল্লাহ চান।’
عن قتيلة: " أن يهوديا أتى النبى صلى الله عليه وسلم فقال: إنكم تشركون تقولون : ما شاء الله وشئت وتقولون: والكعبة. فأمرهم النبى صلى الله عليه وسلم : إذا أرادوا أن يحلفوا أن يقولوا : ورب الكعبة وأن يقولوا : ماشاء الله ثم شئت"
‘কুতাইলা হতে বর্ণিত, জনৈক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, তোমরা শিরক করছ, তোমরা বলছঃ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন এবং তুমি যা ইচ্ছা কর, আর তোমরা বল, কাবার কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আদেশ করলেন, যখন তারা কসম করতে চায় , তখন বলবে , কাবার রবের কসম, আর বলবেঃ যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন অতঃপর আপনি ইচ্ছা করেন।’
আল্লাহ্ বলেন:
وما تشاؤون إلا أن يشاء الله
‘তোমরা ইচ্ছা করবেনা যদি না আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন।’ অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত শুধু তোমার ইচ্ছা কোন কাজে আসবে না।
৫. আল্লাহর সাথে অন্যকে বলার মাধ্যমে এভাবে শরীক করাঃ যেমন কেউ বললঃ
"لولا فلان قتلنى فلان "
‘অমুক না থাকলে অমুক আমাকে মেরে ফেলত।’
"لولا البط فى الدار لأتانا الصوص"
‘যদি ঘরে হাস না থাকত, তা হলে আমাদের ঘরে চোর আসত।’
যেমন লোকেরা বলে থাকেঃ ‘চেয়ারম্যান সাহেব, আপনি না থাকলে এবার অভাবে বাঁচতামনা’ ইত্যাদি কথা।
৬. অর্থ সম্পদ পাওয়ার উদ্দেশ্য নেক আমল করা। যেমনঃ সালাতের ইমামতি করা, কুরআন শিক্ষা দেয়া বেতন পাওয়ার উদ্দেশ্যে।
"عن أبى هريرة رض قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "من تعلم علما مما يبتغى به وجه الله لا يتعلمه إلا ليصيب به عرضا من الدنيا لم يجد عرف الجنة يوم القيامة يعنى ريحها"
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করে, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত, কিন্তু অর্জন করে দুনিয়ার সামগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে, কিয়ামাতের দিন জান্নাতের ঘ্রানও পানে না।’
৩য় প্রকার শিরক হচ্ছে আশশিরক ফিল আসমা ওয়াস সিফাত (الشرك فى الأسماء والصفات)ঃ আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে শিরক। আল্লাহর নাম দু’প্রকার। সত্তাগত নাম ও গুণবাচক। সত্তাগত নাম হল আল্লাহ। কোন মাখলুকের নাম আল্লাহ রাখা হলে তা হবে সত্তাগত শিরক। এমনি ভাবে আল্লাহর কোন সন্তান নেই, কাউকে আল্লাহর সন্তান বলে বিশ্বাস করা সত্তাগত শিরকের অন্তর্ভুক্ত। যেমন ইয়াহুদীরা ‘উযায়রকে আল্লাহর ছেলে, খৃস্টানরা ঈসাকে (আ) আল্লাহর ছেলে বলে বিশ্বাস করে থাকে। আল্লাহ বলেনঃ
وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللّهِ وَقَالَتْ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللّهِ
‘ইয়াহুদীরা বলে উযায়র আল্লাহর ছেলে আর খৃস্টানরা বলে মসীহ আল্লাহর ছেলে।’
অথচ আল্লাহ্র নেই কোন সন্তান, না তিনি কারো সন্তান। আল্লাহ বলেনঃ
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ-اللَّهُ الصَّمَدُ-لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ-وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
‘বল, তিনি আল্লাহ এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী । তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকে জন্ম দেয়া হয়নি। তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই।’
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا- لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا- تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا- أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا- وَمَا يَنبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا
‘তারা বলে, রাহমান (আল্লাহ্) সন্তান গ্রহণ করেছেন, তোমরা তো এক বীভৎস কথার অবতারণা করছ, এতে যেন আকাশ মন্ডলী বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খন্ড বিখন্ড হবে ও পর্বতমন্ডলী চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে। যেহেতু তারা রাহমানের প্রতি সন্তান আরোপ করে । অথচ সন্তান গ্রহণ করা রাহমানের জন্য শোভন নহে।’
قَالُواْ اتَّخَذَ اللّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ..........
‘তারা বলে আল্লাহ্ সন্তান গ্রহণ করেছেন, তিনি মহান, পবিত্র তিনি অভাবমুক্ত.............’
হাদীসে আছেঃ
"عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله تعالى " كذبنى ابن أدم ولم يكن له ذلك وشتمنى ولم يكن له ذلك فأما تكذيبه إياى فقوله لن يعيدنى كما بدأنى وليس أول الخلق بأهون على من إعادته وأما شتمه إياى فقوله اتخد الله ولدا وأنا الأحد الصمد الذى لم ألد ولم أولد ولم يكن لى كفوا أحد وفى رواية ابن عباس واما شتمه إياى فقوله لى ولد وسبحانى أن أتخذ صاحبة أوولدا"
‘‘আবু হুরাইরা (রা ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ ‘‘ইবনু আদম আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে্। এটা করা তার জন্য সমীচীন নয়, আমাকে গালি দিয়েছে, এটা করা তার উচিত নয়। আমাকে তার মিথ্যা অভিহিত করা হল তার একথা বলা যে, আল্লাহ আমাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারবেননা যেমন প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। অথচ পুনর্বার সৃষ্টি করার চেয়ে প্রথমবার সৃষ্টি করা অধিক সহজ নয় আর আমাকে তার গালি দেয়া হল, তার একথা বলা যে, আল্লাহ সন্তান জন্ম গ্রহন করেছেন অথচ আমি একক সত্তা, অমুখাপেক্ষী, আমি সন্তান জন্ম দেইনি এবং আমাকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর আমার সমকক্ষ কেউ নেই । ইবন আববাসের (রা) বর্ণনায় রয়েছে, আর আমাকে তার গালি দেয়া হল তার একথা বলা যে, আমার সন্তান রয়েছে, অথচ আমি স্ত্রী গ্রহণ করা অথবা সন্তান গ্রহণ করা থেকে পূত পবিত্র।
আরবের মুশরিকরা বলত ‘ফেরেশতাগণ আল্লাহর মেয়ে।’ আল্লাহ্ তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন-
أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُم بِالْبَنِينَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلآئِكَةِ إِنَاثًا إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلاً عَظِيمًا
‘তোমাদের রব কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করেছেন আর তিনি নিজে ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? তোমরাতো নিশ্চয় মারাত্মক কথা বলছ’
أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَى- تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى
‘তবে কি পুত্রসন্তান তোমাদের জন্য এবং কন্যা সন্তান আল্লাহর জন্যই, এ প্রকার বন্টন তো অসংগত।’

আল্লাহর কতগুলো গুণবাচক নাম রয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاء الْحُسْنَى
‘‘আল্লাহর ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ।’’
وَلِلّهِ الأَسْمَاء الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا
‘‘ আল্লাহর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ, সুতরাং তাঁকে ঐ সব নামে ডাক।’’
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
‘‘আল্লাহ তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব সব কিছুর ধারক।’’
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ- هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ-هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاء الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহর কতগুলো গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনঃ রাহমান, রাহীম , কুদ্দুস , মুহায়মিন ইত্যাদি। হাদীসে আছেঃ
عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله قال " إن لله تسعة وتسعين إسما مائة إلا واحدا من أحصاها دخل الجنة"
‘‘আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত , রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহর নিরানববইটি অর্থাৎ একটি কম একশটি নাম আছে। যে এ নাম গুলো মুখস্থ করবে , সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।’’
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো থেকে কোন একটি নামে কোন মাখলুকের নামকরন করা হচ্ছে আল্লাহর গুণবাচক নামের ক্ষেত্রে শিরক। যেমন কারো নাম রাখা রাহমান, কুদ্দুস, মুহায়মিন ইত্যাদি। এক লোকের কুনিয়াত বা উপনাম ছিল আবুল হাকাম । আল্লাহর রাসূল বললেনঃ আল্লাহ হলেন হাকাম। তিনি তার নাম পরিবর্তন করে তার বড় ছেলের নামে রাখলেন আবু শুরাইহ।
আল্লাহর গুণাবলীতে শিরক হলো দু’প্রকার । প্রথম প্রকার হলো এমন সমস্ত গুণ যা আল্লাহর মাঝেও রয়েছে। মাখলুকের মাঝেও রয়েছে। যেমন মানুষ দেখে, শুনে , অন্যান্য প্রাণী দেখে, শুনে, আল্লাহও দেখেন শুনেন। যদি কেউ একথা বিশ্বাস করে যে , মানুষ তেমনি দেখেন যেমন আল্লাহ দেখেন , হাতির তেমনি শক্তি আছে যেমন আল্লাহর শক্তি আছে। উমুক পীর এমনি ক্ষমতা রাখে, যেমন আল্লাহ ক্ষমতা রাখেন। এ ধরণের বিশ্বাস পোষণ করা আল্লাহর গুণাবলীতে শিরক করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লা্হ বলেনঃ
ليس كمثله شئ وهو السميع البصير
‘তাঁর অনুরূপ কেউ নেই। তিনি শুনেন দেখেন ।’
আল্লাহর গুণাবলীতে আর এক প্রকার শিরক হলো যে সমস্ত গুণ আল্লাহর জন্য নির্ধারিত , সে সমস্ত গুণে অন্য কাউকে গুণাণ্বিত করা । যেমনঃ গায়ব জানা একমাত্র আল্লাহর বৈশিষ্ট। অন্য কাউকে গায়ব জানে বলে বিশ্বাস করা আল্লাহর গুণাবলীতে শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এসম্পর্কে পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, এখানে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করছি।
গায়ব এর ইলম একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে। নবী রাসূল ওলী কেউই এ সম্পর্কে অবগত নন। আল্লাহ্ বলেন-
عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا- إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِن رَّسُولٍ .....
‘তিনি (আল্লাহ্) গায়বের জ্ঞানী, তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত অপর কারো নিকট তাঁর গায়ব প্রকাশ করেন না।’’
وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ هُوَ
‘গায়বের চাবিসমূহ তাঁরই (আল্লাহ্) নিকট রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না’
وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لاَسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ
‘আমি যদি গায়বের খবর জান্তাম, তবে তো আমি প্রভূত কল্যাণই লাভ করতাম, কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করতো না।’
وَلِلّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ
‘আকাশমন্ডলী এবং পৃথিবীর গায়ব- এর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে।’
এছাড়া আরো আয়াত রয়েছে যা প্রমাণ করে ইলমুল গায়ব একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।
হাদীসের বিভিন্ন ঘটনাবলী দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, রসূল গায়ব জানতেন না। যেমন- তৃতীয় হিজরীতে ‘আদল ( عضل) ও কারা ( قارة) গোত্রদ্বয়ের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বল্ল, আমাদের সাথে আপনার কতিপয় সাহাবী প্রেরণ করুন, যারা আমাদেরকে কুরআন পড়াবেন, দীন শেখাবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথা বিশ্বাস করে মুরসিদ বিন আবু মুরসিদ আল্গানবীর নেতৃত্বে ছয়জন সাহাবীকে প্রেরণ করলেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করে তারা ছয়জন সাহাবীকেই হত্যা করল। যদি আল্লাহর রাসূল গায়ব জানতেন, তাহলে তাঁর ছয়জন সাহাবীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতেন না।
বিরে মাউনার (بئر معونة) ঘটনাঃ
উহুদ যুদ্ধের চারমাস পর চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাসে আবু বারা আমের বিন মালিকের আবেদনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্তরজন সাহাবী প্রেরণ করলেন। বিরে মাউনা নামক স্থানে পৌঁছলে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে সত্তরজন সাহাবীকে শহীদ করে দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি গায়ব জানতেন, তা হলে তাঁদেরকে এভাবে পাঠাতেন্ না।
বনুনযীরের (بنوا النضير) ঘটনা:
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থ হিজরী সনে বনু নযীরে এক হত্যার সালিশী করতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের এক বাড়ির দেয়ালের পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। সুযোগ বুঝে তাদের একজন বাড়ির ছাদে উঠে পাথর মেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করল। জিব্রাঈল (আ.) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে দিলে তিনি তথা থেকে উঠে মদীনা চলে আসলেন। যদি তিনি গায়ব জানতেন, তাহলে তিনি তথায় যেতেন না এবং বসতেন না।
ইফকের ঘটনাঃ
ষষ্ঠ হিজরী শা‘বান মাসে সংগঠিত হয়েছে বনুল মুস্তালিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধ শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়শা (রা.) গলার হার হারিয়ে যাওয়ার কারণে তা তালাশ করতে গিয়ে পেছনে একা রয়ে গেলেন। সাফওয়ান বিন মু’আত্তাল (রা.) নিয়ম মুতাবিক পেছনে পড়া বস্ত্ত সামগ্রী তালাশ করতে গিয়ে আয়িশা (রা.) কে দেখতে পেলেন। এদিকে মুনাফিকরা আয়িশা (রা.) এর বিরুদ্ধে যিনার অপবাদ রটনা শুরু করে দিল। এমনকি এ নিয়ে কতিপয় সাহাবীও কানাঘুষা করতে লাগল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ একমাস ঘটনার সত্যমিথ্যা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। একমাস পর আল্লাহ্ তা‘য়ালা আয়িশা (রা.) এর পবিত্রতার ঘোষণা দিয়ে সূরা নূরের দশটি আয়াত (১১-২০) নাযিল করলেন।
যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ব জানতেন, তা হলে মুনাফিকরা এ অপবাদের সুযোগ পেত না।
উক্ত ঘটনাবলী ছাড়াও আরো অনেক ঘটনা রয়েছে, যা প্রমাণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ব জানতেন না। যেমন উহুদে আহত হওয়ার ঘটনা, মধু হারাম করার ঘটনা ইত্যাদি। রাসূলই যদি গায়ব না জানেন, তা হলে অন্যান্য ওলী দরবেশদেরতো গায়ব জানার প্রশ্নই আসে না।
এ প্রসঙ্গে আরো বলা সঙ্গত যে, কুরআন সুন্নায় আল্লাহর হাত পা ইত্যাদি অংগের কথা বলা হয়েছে। কুরআন সুন্নাহয় যে সব অংগের কথা বলা হয়েছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকীদা হলো সে সব অংগের স্বীকৃৃতি দেয়া। নাই একথা বলা যাবেনা, কোন ব্যাখ্যা করা যাবেনা , কোন সাদৃশ্য আছে বলে যাবেনা , বরং তাঁর শান অনুযায়ী যেমন থাকা দরকার , তেমনি আছে বলা বিশ্বাস করতে হবে। আল্লাহর হাত অমুকের হাতের মত, আল্লাহর পা অমুকের পায়ের মত বলা হবে শিরক। আল্লাহ তাঁর হাত সম্পর্কে বলেনঃ
بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاء
‘বরং তাঁর (আল্লাহর) দু’হাত প্রশস্ত, তিনি যেমন ইচ্ছা ব্যয় করেন।’
وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ
‘কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আকাশ সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে।’
قُلْ إِنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
‘বল! নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে চান, তাকে তা দেন, আল্লাহ প্রাচুর্যময় সর্বজ্ঞ’
مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ
‘তোমাকে কিসে বাধা দিল তাকে সিজদা করতে, যাকে আমি আমার দু’হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছি।’
এভাবে কুরআন মাজীদে দশবারের অধিক আল্লাহ তায়া’লা নিজের হাতের কথা উল্লেখ করেছেন। হাদীসেও আল্লাহর হাতের কথার উল্লেখ রয়েছে। যেমনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يد الله ملأى لاتغيضها نفقة سحاء الليل والنهار أرأيتم ما أنفق مذ خلق السماء والأرض فإنه لم يغض ما فى يده وكان عرشه على الماء وبيده الميزان يخفض ويرفع"
‘‘আবু হুরাইরা (রা.) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহর হাত (সম্পদে) পরিপূর্ণ , দিবা রাত্রির অবিরাম খরচ তা থেকে কমায়নি। তোমরা কি দেখনি যে, আসমান জমিন সৃষ্টি থেকে যা তিনি খরচ করেছেন , তাঁর হাতে যা রয়েছে , তা থেকে একটুকুও কমেনি। তাঁর আরশ ছিল পানির উপর । তাঁর হাতে রয়েছে মীযান , তিনি নিচু করেন, উঁচু করেন।’’
وفى رواية لمسلم " يمين الله ملأى"
মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে ‘আল্লাহর ডানহাত পরিপূর্ণ’।
عن ابى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: يقبض الله الأرض يوم القيامة ويطوى السماء يمينه ثم يقول أنا الملك أين ملوك الأرض؟"
‘‘আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহ কেয়ামতের দিন পৃথিবীকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন আর তাঁর ডান হাত দিয়ে আকাশকে পেঁচিয়ে ধরবেন । অতঃপর বলবেন, আমিই বাদশাহ, পৃথিবীর রাজা বাদশাহরা কোথায়?’’
عن عبد الله أن يهوديا جاء إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال يامحمد إن الله يمسك السموات السبع على إصبع والأرضين على إصبع والجبال على إصبع والشجر على إصبع والخلائق على إصبع ثم يقول أنا الملك فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه ثم قرأ " وما قدروا الله حق قدره" وقال عبد الله : فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم تعجبا وتصديقاله"
‘আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত যে, একজন ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ সাত আকাশ এক আঙ্গুলে, পাহাড় গুলো এক আঙ্গুলে, জমিন গুলো এক আঙ্গুলে, বৃক্ষরাজি এক আঙ্গুলে এবং সকল সৃষ্টি এক আঙ্গুলে ধারণ করবেন, অতঃপর বলবেন, আমিই বাদশাহ। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁতসমূহ প্রকাশ হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি পড়লেনঃ তারা আল্লাহর মর্যাদা যথাযথ নিরূপন করতে পারেনি। হাদীস বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবাক হয়ে এবং তার কথার সত্যতা স্বীকার করে হেসেছিলেন।’
روى عن ابن عباس قال " ما السموات السبع والأرضون السبع فى كف الرحمن الا كخردلة فى يد أحكم"
‘ইবনে আববাস (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘সপ্ত আকাশ এবং সপ্ত জমিন রাহমানের হাতের তালুতে এমনি ক্ষুদ্র যেমন তোমাদের কারও হাতে একটি শস্য দানা’
আরো বিভিন্ন হদীসে আল্লাহর হাতের কথার উল্লেখ রয়েছে।
আল্লাহর মুখমন্ডল বা চেহারার ব্যাপারে কুরআন- সুন্নাহয় যা রয়েছে,
আল্লাহ বলেনঃ
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ-وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
‘পৃথিবীর সবকিছুই ধ্বংসশীল, টিকে থাকবে শুধু তোমার মহিমান্বিত ও মহানুভব রবের মুখমন্ডল।’
كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ
‘তাঁর (আল্লাহর) মুখমন্ডল ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল।’
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ-إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
‘সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।’
আল্লাহর মুখমন্ডলই যদি না থাকে, তাহলে দেখবেটা কি?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
" إنكم سترون ربكم عيانا"
‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের রবকে প্রকাশ্যভাবে ‘দেখতে পাবে।’
عن جرير بن عبد الله قال خرج علينا رسول الله صلى عليه وسلم ليلة البدر فقال " إنكم سترون ربكم يوم القيامة كما ترون هنا لاتضامون فى رويته"

‘জারীর বিন আব্দূল্লাহ (রা) বলেন, পূর্ণিমার রাতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বেরিয়ে এসে বললেনঃ নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবকে কিয়ামাতের দিন দেখতে পাবে, যেমন এটাকে (পূর্ণিমার চাঁদ) তোমরা দেখতে পাচ্ছ, তাঁকে দেখতে তোমাদের কোন কষ্ট হবেনা , বরং প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থান থেকে সুস্পষ্ট দেখতে পাবে।’
এ ছাড়া আরো হাদীস রয়েছে, যা আল্লাহর চেহারা আছে বলে প্রমাণ করে।
আল্লাহ তাঁর চোখ সম্পর্কে বলেছেনঃ
فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا
‘অতঃপর আমি তাঁর (নূহের) নিকট ওহী প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার চোখের সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরী কর’
وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِّنِّي وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي
‘আমি (আল্লাহ) তোমার (মূসা) উপর মহববত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ হতে , যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও।’
تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاء لِّمَن كَانَ كُفِرَ
‘যা চলে আমার চোখের সামনে, এটা হল বদলা ঐ ব্যক্তির জন্য যে অস্বীকার করেছিল। ’
হাদীসে আছেঃ
عن أنس رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: ما بعث الله من نبى إلا أندز قومه الأعور الكذاب إنه أعورو إن ربكم ليس بأعور مكتوب بين عينيه كافر"
‘আনাস (রা) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহ যত নবী পাঠিয়েছেন , প্রত্যেকেই তাঁর জাতিকে প্রতারক মিথ্যাবাদী কানা (দাজ্জাল) সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে। নিশ্চয় সে (দাজ্জাল) কানা ( এক চোখ বিশিষ্ট) আর তোমাদের রব অবশ্যই কানা নন। তার (দাজ্জাল) দু চোখের মাঝে লেখা থাকবে ‘কাফের’।
এ হাদীস দ্বারা বুঝা গেল আল্লাহ দু চোখ বিশিষ্ট।
আল্লাহ পা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমানঃ
عن أنس رضى الله عنه وسلم قال: "لايزال يلقى فيها وتقول هل من مزيد حتى يضع فيها رب العالمين قدمه فينزوى بعضها إلى بعض ثم تقول قد بعزتك وكرمك"
আনাস (রা) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জাহান্নামে (জাহান্নামীদেরকে) নিক্ষেপ করা হতে থাকবে, তারপরও সে (জাহান্নাম) বলবে, আরো আছে কি? শেষ পর্যন্ত বিশ্বজাহানের রব তাতে তার পা রাখবে, এতে জাহান্নাম একাংশের সাথে আরেকাংশ মিশে যাবে। অতঃপর বলবে, তোমার প্রতিপত্তি ও মর্যাদার শপথ, যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে একথাই সুস্পষ্ট হলো যে , আল্লাহর হাত পা ইত্যাদি যে সমস্ত অংগের কথা কোরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত , তা যেভাবে আছে সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে, অস্বীকার করা যাবেনা , কোন ব্যাখ্যা করা যাবেনা , কারো সাদৃশ্য বলা যাবেনা । সাদৃশ্য বলা হবে শিরক , ব্যাখ্যা করা হল ভ্রষ্টতা । অস্বীকার করা কুফরী। অতএব আল্লাহ নিরাকার নন, এটাই বিশুদ্ধ আকীদা।
قال ابو حنيفة رح " له يد ووجه ونفس كما ذكر تعالى فى القرآن من ذكر اليد والوجه والنفس فهوله صفة بلا كيف ولا يقال : إن يده قدرته ونعمته لأن فيه إبطال الصفة" ( الفقه الأكبر .ص ৩৬-৩৭)
‘আবু হানীফা (রা.) বলেনঃ তাঁর (আল্লাহর) রয়েছে হাত, চেহারা ও আত্মা, যেমন আল্লাহ তা‘য়ালা কুরআন করীমে তাঁর হাত, চেহারা ও আত্মার কথা বলেছেন। এটা তাঁর গুণ, কেমন, তা বলা যাবে না, এ কথাও বলা যাবে না যে, তাঁর হাত বলতে তাঁর কুদরত, তাঁর নিয়ামত বুঝানো হয়েছে। কেননা এতে তাঁর সিফাত বা গুণকে বাতিল করা হয়।
এমনিভাবে علوّঅর্থাৎ উপরে বা উঁচুতে আল্লাহর অবস্থান । এটি আল্লাহর একটি ছিফাত বা গুণ। এ বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ দ্বারা আল্লাহ কোথায়? এ বিষয়টির সুস্পষ্ট সমাধান দিয়েছে কুরআন সুন্নাহ । কুরআন মজীদে আল্লাহ তায়ালা নিজ অবস্থান সম্পর্কে সাতবার বলেছেন যে তিনি আরশের উপরে অধিষ্ঠিত। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى
‘দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন’
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হলেন।’
এমনিভাবে সূরা ইউনুসের ৩নং আয়াত , সূরা রাদেরঃ ২নং আয়াত , সূরা আল ফোরকানের ৫৯নং আয়াত সূরা সিজদা ৪নং ও সূরা আল হাদীদ- ৪ আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠিত আছেন। আরশের অবস্থান হলো আসমানের উপর।
عن العباس بن عبد المطلب رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل تدرون كم بين السماء والأرض؟ قال: قلنا الله ورسوله أعلم قال: بينهما مسيرة خمس مئة سنة، ومن كل سماء إلى سماء مسيرة خمس مئة سنة، وكثف كل سماء مسيرة خمس مئة سنة، وفوق السماء السابعة بحر بين أسفله وأعلاه كما بين السماء والأرض، ثم فوق ذلك العرش بين أسفله وأعلاه كما بين السماء والأرض، والله فوق ذلك، ليس يخفى عليه من أعمال بنى أدم شئى"
‘আববাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান আসমান ও জমিনের মাঝে দূরত্ব কতটুকু? তিনি বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ পাঁচশত বৎসরের ভ্রমণ পথ। প্রত্যেক আকাশের পুরু হল পাঁচশ বছরের ভ্রমণ পথ, সাত আসমানের উপর রয়েছে সমুদ্র , যার উপর এবং নিচের ব্যবধান হল যেমন আসমান জমিনের ব্যবধান। তার উপর রয়েছে ‘আরশ, যার উপর এবং নিচের ব্যবধান যেমন আসমান জমিনের ব্যবধান। আল্লাহ রয়েছেন এর উপর। বনী আদমের কোন আমল তাঁর নিকট গোপন নয়।

কুরআন করীমের আরো অনেক আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহর অবস্থান উপরে। যেমনঃ
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ
‘ফেরেশতাগণ এবং রূহ তার (আল্লাহর) দিকে উর্ধগামী হয়।’
إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ
‘তাঁরই (আল্লাহর) দিকে আরোহণ করে উত্তম বাক্য আর সৎকর্ম তাকে তুলে নেয়।’
بَل رَّفَعَهُ اللّهُ إِلَيْهِ
‘বরং আল্লাহ তাকে তার নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন।’
আল্লাহ কোরআন করীমের অনেক স্থানেই কোরআন নাযিলের কথা বলেছেন, যা হল তার কালাম। আর নাযিল অর্থাৎ অবতরণ হয়ে থাকে উপর থেকে নিচে। আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
‘নিশ্চয় আমি নাযিল করেছি এটি (কুরআন মজীদ) কদরের রাতে’
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ
‘এটি একটি কিতাব যা আমি নাযিল করেছি তোমার প্রতি যাতে তুমি বের করতে পার মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।’
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ
‘নিশ্চয় আমি নাযিল করেছি এটি (কুরআন করীম) বরকতময় রাত্রিতে।’
কিতাব নাযিল করার ব্যাপারে এরকম ত্রিশটিরও অধিক আয়াত রয়েছে।
হিজরাতের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৬/১৭ মাস বাইতুল্লাহর পরিবর্তে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তার মনের বাসনা ছিল যেন বাইতুল্লাহ কিবলা হয়ে যায়, তাই তো তিনি বারবার আকাশের দিকে তার চেহারা ফেরাতে থাকেন। আল্লাহ বলেনঃ
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاء
‘আমি অবশ্যই তোমার চেহারাকে বারবার আকাশের দিকে ফেরাতে দেখেছি’। আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে ভাল জানেন। তাই তো তিনি আল্লাহর নির্দেশের আশায় বারবারই আকাশের দিকে তাকান।
কুরআনের আরো বিভিন্ন আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহর অবস্থান উপরে । এমনি ভাবে হাদীস দ্বারাও তা প্রমাণিত।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী যয়নব (রা) তার অন্যান্য স্ত্রীগনের উপর গর্ব করে বলতেনঃ
" زوجكن أهاليكن وزوجنى الله من فوق سبع سموت"
‘তোমাদেরকে বিয়ে দিয়েছেন তোমাদের পরিবারের লোকেরা, আর আমাকে বিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে। ’
عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل وملائكة بالنهارويجتمعون فى صلاة العصروصلاة الفجر ثم يعرج الذين بانوا فيكم فيسألهم و هو اعلم بهم كيف تركتم عبادي فيقولون تركناهم وهم يصلون وأتيناهم وهم يصلون"

‘আবু হোরায়রা (রা) হতে বর্ণিত , রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে রাতে ও দিনে পালাক্রমে ফেরেশতাগণ আসেন। তারা আসর ও ফজর নামাজের সময় একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত্রি কাটান তারা উপরে উঠে যান। তিনি (আল্লাহ) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে ভাল করেই জানেন - আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় ছেড়ে আসলে? তাঁরা বলেন, আমরা তাদেরকে সালাত আদায় অবস্থায় ছেড়ে এসেছি, আর যখন তাদের কাছে এসেছিলাম তখনো তারা সালাত আদায় করছিল’
এ হাদীসে সুস্পষ্ট বলা হয়েছে- ফেরেশতারা উপরে উঠে যান।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিরাজ কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত । রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক এক করে সপ্ত আকাশের উপর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আকাশে বিভিন্ন নবীর সাথে সাক্ষাত হয়েছে। জিব্রাঈল (আ) কে তাঁর আসল রূপে সিদরাতুল মুনতাহার নিকট দেখেছেন। আল্লাহ বলেনঃ
وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى-عِندَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى-عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى
‘নিশ্চয় তিনি তাকে (জিবরাঈল) আর একবার দেখেছেন সিদরাতুল মুনতাহার নিকট। যার কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া।’
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
"ثم رفعت لى سدرة المنتهى فاذا نبقها مثل قلال هجر واذا ورقها مثل اذان الفيلة قال هذه سدرة المنتهى"
‘অতঃপর তুলে ধরা হল আমার সামনে সিদরাতুল মুনতাহা, তার কুলগুলোর আকার হল হাজার নামক স্থানের মটকার মত, পাতাগুলো হল হাতীর কানের মত, তিনি (জিবরাঈল) বললেন, এটা হল সিদরাতুল মুনতাহা।’ ‘হাজার’ বাহরাইনের একটি এলাকার নাম, যেখানে মটকা বেশি তৈরী হয়। এখানকার মটকা প্রসিদ্ধ।
‘সিদরাতুল মুনতাহা’ হল সপ্ত আকাশ পেরিয়ে।
বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেত সাহাবাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ
"انتم مسؤولون عنى فما انتم قائلون ؟ "قالوا : " نشهد أنك قد بلغت وأديت ونصحت "
‘তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে? তারা বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , আপনি পৌছিয়েছেন, আদায় করেছেন এবং নছীহত করেছেন’। তখন আল্লাহর রাসূল আকাশের দিকে অংগুলি উত্তোলন করে বললেনঃ
اللهم اشهد"
‘হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন।’
আল্লাহ উপরে বলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অংগুলি আকাশের দিকে উত্তোলন করে আল্লাহকে সাক্ষী রেখেছেন ।
এক দাসীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ
"اين الله ؟
‘আল্লাহ কোথায়?’
দাসী উত্তর দিল
فى السماء "
‘আকাশে’। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ
من أنا؟
‘আমি কে?
দাসী বললঃ
أنت رسول الله"
আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ
أعتقها فإنها مؤمنة"
‘তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিন’।
আল্লাহ শেষ রাত্রিতে প্রথম আকাশে অবতরণ করেন। আর অবতরণ উপর থেকে নিচের দিকেই হয়ে থাকে।
عن ابى هريرة رض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الاخر يقول من يدعونى فاستجيب له من يسأنى فأعطيه من يستغفرنى فأغفرله"
‘আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তায়ালা প্রতি রাত্রিতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। তিনি বলেন, কে আমাকে ডাকবে আমি যার ডাকে সাড়া দেব, কে আমার নিকট চাইবে , যাকে আমি দেব , কে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে , যাকে আমি ক্ষমা করব।’
মানুষ যখন আল্লাহর নিকট কিছু চায় , তখন সে উপরের দিকে হাত উত্তোলন করেই চায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
"إن الله يستحى من عبده إذا رفع إليه يديه أن يردهما صفرا"
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জা করেন খালি ফিরিয়ে দিতে যখন বান্দা তার দিকে দু’হাত উত্তোলন করে’
এমনকি কোন হিন্দুকেও বলতে শুনি , যখন কেউ তার অধিকার হরণ করে কোন অবস্থাতেই অধিকার আদায় করতে পারছেনা , তখন বলে , উপরওয়ালা দেখছেন, তিনি তোর বিচার করবেন। এ উপরওয়ালা বলতে সে আল্লাহকেই বুঝায় ।
এ আলোচনা থেকে এটাই স্পষ্ট যে, আল্লাহ উপরে আছেন, আরশের উপরে। অতএব এ বিশ্বাস পোষণ করা যে , আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান , একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস , কোরআন সুন্নাহ বিরোধী আকীদা, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের বিরোধী আকীদা। হাঁ এটা ঠিক যে , তাঁর ক্ষমতা সর্ব বিস্তৃত, সব কিছুই তাঁর জ্ঞানের পরিসীমায় রয়েছে, সব কিছুর তিনি খবর রাখেন। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
‘নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন’
إِنَّ اللَّه عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘নিশ্চয় আল্লাহ্ সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।’
এ অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। যেমন, সূর্য আছে আকাশে। কিন্তু তার আলো সর্বত্র বিস্তৃত। কিন্তু কেউই বলেনা , সূর্য সর্বত্র বিরাজমান । বরং সূর্য কোথায় জিজ্ঞাসা করলে সকলেই বলবে, আকাশে । অতএব বিশুদ্ধ আকীদা হল, আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন আছেন। কিন্তু কিভাবে আসীন আছেন , তা জানা নেই। যেমন ইমাম মালিক (র) কে জিজ্ঞাসা করা হল كيف الإستواءঅর্থাৎ কিভাবে তিনি আসীন আছেন। তিনি উত্তরে বললেনঃ
" الإستواء معلوم والكيف مجهول والإيمان به واجب والسؤل عنه بدعة"
‘ইসতিওয়া শব্দটি জানা, কিন্তু কিভাবে তা অজানা। এ ব্যাপারে ঈমান আনা ওয়াজিব, এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ‘আত।’
আবু মুতী’ আলবালাখী আবূহানীফা (র) কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যে বলে - ‘আমি জানিনা আমার রব আকাশে আছেন না জমিনে আছেন , তিনি বললেন - সে কাফির , কেননা আল্লাহ বলেন,
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى
‘দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন’ আর তাঁর আরশ সাত আকাশের উপর।’ আমি বললাম , যদি সে বলে, আল্লাহ আরশের উপর আছেন - মেনে নিলাম। কিন্তু আরশ আসমানে না জমিনে তা জানিনা।’ তিনি বললেন, ‘তা হলেও সে কাফির। কেননা আরশ যে আসমানে তা সে অস্বীকার করল। আর আরশ যে আসমানে তা যে অস্বীকার করবে, সে কাফির।’
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (র) বলেনঃ আল্লাহর গুণাবলী সমূহের প্রতি আমি ঈমান আনয়ন করি, এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করি। তবে এগুলোর আকৃতি - প্রকৃতি জানিনা, এর কোন কিছুকে আমি প্রত্যাখ্যানও করিনা।’
ইমাম শাফিঈ (র) কে আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- ‘আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি, আল্লাহর পক্ষ হতে যে উদ্দেশ্যে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ঈমান এনেছি এবং তার পক্ষ থেকে যে উদ্দেশ্যে আল্লাহর যে সব গুণাবলীর বর্ণনা এসেছে, আমি সেগুলোর উপরও ঈমান রাখি।’’
ইমাম আবু হানীফা (র) আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে বলেনঃ
"وله يدووجه ونفس ..... فهوله صفات بلاكيف .... وغضبه ورضاه ضفتان من صفاته بلاكيف"
‘আল্লাহ তায়ালার হাত, মুখ, আত্মা রয়েছে, এটা তাঁর সিফাত, যার কোন আকার প্রকৃতি নেই। তাঁর রয়েছে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি, তাঁর গুণাবলীর আকার প্রকৃতি বিহীন দু’টি গুণ।
আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলী সম্পর্কে তিনি আরো বলেনঃ ‘আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কারো কোন কথা বলা ঠিক নয়। তবে আল্লাহ নিজেকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন, তাকে সে গুণে গুণান্বিত করা উচিত। এ ক্ষেত্রে নিজের চিন্তা প্রসূত কোন কথা বলা ঠিক নয়।’
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মুসলিম শিশুই শৈশবকালে ঈমানের একটি সংক্ষিপ্ত কালেমা পড়ে থাকে , তা হলঃ
"أمنت بالله كما هو بأسماءه وصفاته وقبلت جميع أحكامه وأركانه"
‘আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর প্রতি যেমন তিনি আছেন , তাঁর নামাবলি এবং গুণাবলী সহকারে, এবং মেনে নিলাম তাঁর সমস্ত বিধান এবং রুকন।’
উক্ত আলোচনা হতে এটাই সুস্পষ্ট হলো যে, আল্লাহর নাম, গুণাবলী ও অংগ সম্পর্কে কুরআন ও সহীহ্ হাদীছে যা এসেছে, যেভাবে এসেছে, আমরা তা সেভাবেই মেনে নেব।
শিরকের পরিণতি ও পরিণামঃ
শিরকের পরিণতি ও পরিণাম অতীব ভয়াবহ। শিরক এমন জঘন্য অপরাধ যা পরম দয়াময় আল্লাহকে রাগান্বিত করে। এটি এমন এক অপরাধ যাতে আল্লাহ সরচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হন। শিরক জাহান্নামকে অবধারিত করে দেয়। বঞ্চিত করে দেয় জান্নাতের সুখ থেকে।
কুরআন-সুন্নাহয় আলোচিত শিরকের কিছু পরিণতি নিম্নে আলোচনা করা হল।
১। সবচেয়ে বড় যুল্ম।
লুকমান হাকীম তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেনঃ
يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
‘হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক করোনা। কেননা শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় যুল্ম।
২। শিরকের গুনাহ ক্ষমার অযোগ্যঃ
আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء
‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেননা। এছাড়া অন্য অপরাধ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।’
এ বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছি। কারো স্ত্রী যদি কোন অন্যায় কাজ করে, তা হলে স্বামী রাগ হলেও তালাক দিয়ে তাকে বিদায় করে দেয় না। কিন্তু রাত্রি বেলায় অন্য কাউকে স্ত্রী বিছানায় শয়ণরত দেখতে পেলে, স্বামী তা কখনও বরদাশত করেনা। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ যদিও তার একান্ত বন্ধুই সেটা করুক না কেন। এমনি ভাবে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। যদিও আল্লাহর একান্ত প্রিয় ব্যক্তিকেই শরীক করা হোক না কেন।
৩। শিরক যাবতীয় নেক আমলকে নষ্ট করে দেয়ঃ আল্লাহ বলেনঃ
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
‘তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে এ বিষয়ে আমি ওহী পাঠিয়েছি যে, যদি তুমি শিরক কর, তাহলে তোমার যাবতীয় আমল অবশ্যই বরবাদ হয়ে যাবে, আর তুমি হবে তখন নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্তদের একজন’।
যেমন কেউ যদি দশহাজার টাকা দিয়ে একটি মাল ক্রয় করে আট হাজার টাকা বিক্রি করে, তা হলে তার দু’হাজার ক্ষতি হলো। এটাকে বলা হয় نقصان । কিন্তু দশহাজার টাকার মাল পুরোটাই যদি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তখন বলা হবে পুঁজি পুরোটাই নি:শেষ হয়ে গেছে। এটা হলো خسران। এমনি ভাবে শিরকের মাধ্যমে পূর্বকৃত সমস্ত ‘আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
আর একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। কেউ যদি ষাট বৎসর খুব ভাল খাবার খেয়ে শরীরটাকে নাদুসনুদুস করে থাকে, আর ষাট বৎসরের মাথায় এসে একমাত্রা বিষ পান করে, তা হলে মুহূর্তের মাঝেই তার ষাট বৎসরের বানানো সুন্দর মোটাতাজা শরীরটা নিস্তেজ হয়ে পড়বে। দীর্ঘ ষাট বৎসরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। এমনিভাবে একজন মুসলিম দীর্ঘ ষাট বৎসর রোযা, নামায ইত্যাদি ‘আমল করে যদি ‘আমলের পাহাড় গড়ে তোলে, আর ষাট বৎসরের মাথায় এসে আল্লাহর সাথে শিরক করে তাহলে মুহূর্তের মাঝেই তার সমস্ত ‘আমল নি:শেষ হয়ে যাবে এবং সে ‘আমল শূণ্য হয়ে পড়বে।
৪। শিরক জান্নাত থেকে বঞ্চিত করেঃ আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللّهُ عَلَيهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ
‘যে আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেবেন। আর তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই’।
৫। শিরক জঘন্যতম পাপঃ
আল্লাহ বলেনঃ
وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
‘যে আল্লাহর সাথে শিরক করল, সে জঘন্য পাপ করল’।
عن ابن مسعود قال: قلت يا رسول الله أى الذنب أعظم عند الله قال: أن تجعل لله ندا وهو خلقك"
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূলঃ আল্লাহর নিকট জঘন্যতম পাপ কোনটি? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বানানো অর্থাৎ তার সাথে কাউকে শরীক করা্ অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
৬। শিরক হল চরম পথভ্রষ্টতাঃ
আল্লাহ বলেনঃ
وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا
‘যে আল্লাহর সাথে শিরক করল, সে পথভ্রষ্টতায় অনেক দূর গড়িয়ে গেল।’
৭। শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
"ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ قلنا بلى يارسول الله قال: الإشراك بالله وعقوق الوالدين"
‘আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহটি সম্পর্কে জানাবনা? (তাঁরা বলেন) আমরা বল্লাম, হাঁ হে আল্লাহর রাসূল ! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া’।
৮। শিরক অপবিত্রঃ শিরক মানুষকে অপবিত্র করে দেয়।
আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلاَ يَقْرَبُواْ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَـذَا
‘নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র, অতএব এ বৎসর পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটে না আসে।’ এখানে ‘আকীদাগত নাপাকী বুঝানো হয়েছে।
৯। শিরক ধ্বংশ ও বিপর্যয়ের কারণঃ
আল্লাহ বলেনঃ
وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاء فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
‘যে আল্লহর সাথে শিরক করে, সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে, আর পাখি তাকে ছো মেরে নিয়ে যায় অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী কোন স্থানে নিক্ষেপ করে দেয়।’
১০। শিরক এক চরম ব্যর্থতাঃ
মুশরিকরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করে , তারা এ আশায়ই করে থাকে যে, পরকালের কঠিন দিনে তারা তাদের কল্যাণে আসবে, তাদের জন্য সুপারিশ করবে। কিন্তু পরকালে তারা পুরোপুরিই ব্যর্থ হবে। তারা তাদের কোন কল্যানেই আসবেনা।
আল্লাহ বলেনঃ
وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَائِيَ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا
‘স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন তিনি (আল্লাহ) বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তখন তারা তাদেরকে ডাকবে। কিন্তু তারা এ ডাকে সাড়া দেবেনা। আমি তাদের মাঝে ধ্বংসের গহবর বানিয়ে রেখেছি’।
"وإذا رأى الذين أشركوا شركاءهم قالوا ربنا هؤلاء شركاؤنا الذين كنا ندعو من دونك فأتوا إليهم القول إنكم لكاذبون"
‘মুশরিকরা যখন তাদেরকে দেখবে, যাদেরকে তারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছিল, তখন বলবে, হে আমাদের রব, এরাইতো আমাদের শরীক, তোমাকে ছাড়া আমরা যাদেরকে ডাকতাম, তখন ওরা তাদেরকে বলবে, তোমরাই মিথ্যাবাদী।
১১। মুশরিকের জন্য ক্ষমা চাওয়া যাবেনাঃ
আল্লাহ বলেনঃ
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَن يَسْتَغْفِرُواْ لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُواْ أُوْلِي قُرْبَى مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
‘নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য মাগফিরাত কামনা করবে, যদিও তারা তাদের নিকট আত্মীয় হউক, এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী’।
"عن أبى هريرة رضى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " أستأذنت ربى أن أستغفر لأمى فلم يأذن لى واستأذنته أن أزور قبرها فأذن لى"
‘আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমানঃ আমি আমার মাতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্যে আমার রবের নিকট অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দেন্নি, তাঁর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মাতার জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করার কারণ হলো তিনি কাফির ছিলেন, মুশরিক ছিলেন। কাফির, মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ নয়।
"عن أنس رض، أن رجلا قال يا رسول الله أين أبي قال في النار فلما قفى دعاه فقال: إن أبى وأباك فى النار"

‘আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, কোন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায়? তিনি বললেন, জাহান্নামে, যখন সে ফিরে যেতে লাগল, তিনি তাকে ডেকে বললেন, নিশ্চয় আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে।’
১২। শিরক করা মানে আল্লাহর হক নষ্ট করাঃ
শিরক না করা বান্দার উপর আল্লাহর হক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায (রা.) কে বললেনঃ
"يا معاذ أتدرى ما حق الله على العباد قال: ألله ورسوله أعلم قال: "أن يعبدوه ولايشركوا به شيئا"
‘হে মুয়ায! তুমি কি জান, বান্দাদের উপর আল্লাহর কী হক রয়েছে? মু‘য়ায বলল, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তারা তার ইবাদাত করবে, তার সাথে কোন কিছু শরীক করবেনা।’
১৩। মুশরিকের তাওবা খুবই কম নসীব হয়ঃ
কারণ মুশরিক তার শিরকী কর্মকান্ডগুলোকে নেকের কাজ মনে করেই তো করে। যেমন: কেউ মাযারের উদ্দেশ্যে গরু-ছাগল দিয়ে কখনও ভাবতে পারেনা যে, সে অন্যায় কাজ করছে, কাজেই তাওবার প্রয়োজন কেন? আল্লাহ্ বলেন
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا-الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
‘‘বলুন! আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনে বিভ্রান্ত হয়; অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে।’’
বাংলাদেশে প্রচলিত শিরকসমূহঃ
বাংলাদেশে মুসলমানদের মাঝে বেশির ভাগ শিরকই প্রচলিত হয়েছে পীর-মুরীদী ও মাজারকে কেন্দ্র করে। অনেক মুরীদই পীরের দরবার গিয়ে পীরকে ছেজদা করে। কপাল ঠেকিয়ে পদচুম্বন করে। পীরের দরবারে গরু, ছাগল, টাকা-পয়সা শিরণী ইত্যাদি মান্নত করে। পীরের দরবারে বাস কাফেলা, লঞ্চ কাফেলা ইত্যাদি নিয়ে যায়। এতে অনেক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। পীর মারা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে মাজার তৈরী হয়। বিশাল আকারের গম্বুজ তৈরী করে খুব দামী চাদর দিয়ে কবরটি ঢেকে রাখে। এই কবর (মাজার) কেন্দ্রিক চলে শিরকী কার্যক্রম। যেমনঃ সিজদা দেয়া, মান্নত করা, ধুলা-বালি গায়ে মেখে বরকত নেয়া, ওরস করা, দেয়ালে চুমু খাওয়া, গাড়িতে বা রিক্সায় বসে দূর হতে কুর্নিশের মত করে সালাম করা ইত্যাদি।
কোন কোন ক্ষেত্রে কবরস্থব্যক্তি ভাল মানুষ ছিলেন বলে জানা যায়। যেমনঃ শাহজালাল (রঃ), শাহপরাণ (রঃ) এছাড়া আরো অনেকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ তাদের কবরগুলি কেন্দ্র করে অনেক শিরকী কার্যক্রম চলছে। সিলেট শাহজালাল (রঃ) এর কবরের পাশে গজারমাছ, চট্রগ্রামে বারআওলীয়ার কবরের পাশে বড় বড় কাছিম, খুলনায় খানজাহান আলীর কবরের পাশে কুমীরকে কেন্দ্র করে চলছে অনেক শিরকী কার্যক্রম। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মাজার তৈরি হয়েছে এ অজুহাত দিয়ে যে, সেখানে অমুক বুযুর্গ চলার পথে বিশ্রাম করেছিলেন। এমনকি কোন কোন স্থানে মাজার তৈরী হয়েছে, অথচ সেখানে কোন মানুষকে দাফন করা হয়েছে, তার ঐতিহাসিক কোন ভিত্তি নেই। মাজারগুলিতে খিদমতের নামে থাকে অনেক জটওয়ালা, চুলওয়ালা, যারা গাজা, আফিম খায়, সরল মানুষের টাকা পয়সা লুটে নেয়।
কারও কারও বিশ্বাস রয়েছে, মীলাদের অনুষ্ঠানে আল্লাহর রাসূল হাজির হন। তাই তারা মাঝখান দিয়ে দাঁড়িয়ে যান, কোথাও কোথাও আবার খালি চেয়ার রাখতেও দেখা যায়। আবার তাদের এ বিশ্বাসও রয়েছে ওলীগণ সবকিছু জানেন এবং কবরে থেকেও মুরিদের সবকিছু দেখেন, প্রয়োজনে সাহায্য করতে পারেন, এ ধরণের অনেক শিরকী আকীদা বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে।
এছাড়া রয়েছে সরকারীভাবে কিছু শিরক, যেমন শিখা চিরন্তন, শিখা অর্নিবান, জাতীয় নেতার টানানো ছবিতে ফুল দিয়ে সম্মান করা ইত্যাদি।
শেষের কথা
আল্লাহ্ পৃথিবীতে মানুষ পাঠিয়েছেন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে। সে মেয়াদ কার কতটুকু জানা নেই, আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কারো পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। আবার এটাও নিশ্চিত যে, মেয়াদ যখন ফুরিয়ে যাবে, তখন একটি মুহূর্তের জন্যও আর তাকে ধরে রাখা সম্ভব নয়, অনন্তকালের জন্য সে হারিয়ে যাবে। কেউ তার সন্ধান দিতে সক্ষম হবে না। আধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে হ্যালো বললেই সারা দুনিয়ার খবর নেয়া সম্ভব, কিন্তু বাড়ির পাশেই একেবারেই কাছে মাত্র সাড়ে তিনহাত মাটির নিচে প্রিয়জনদেরকে রেখে আসা হল, কিন্তু কি অবস্থায় আছে, কেমন আছে, কোন দিন জানা সম্ভব হলো না। সে অনাদি ও অনন্তকালে নি:সঙ্গ জীবনে কল্যান ও শান্তি নিশ্চিত হতে পারে, একমাত্র স্বচ্ছ ও নির্মল ঈমানের মাধ্যমে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনেও শান্তির ফল্গুধারা বয়ে দিতে পারে খাঁটি ঈমান। যে ঈমানে থাকবেনা শিরকের কোন ছোঁয়াচ, দূষিত হবে না শিরকের দুর্গন্ধ বাতাসে। যে ঈমানের দাওয়াত দিয়েছেন আম্বিয়া আলাইহিমুছ্ছালাম।
শিরক মিশ্রিত ঈমান ধ্বংস করে দেয় মানুষের স্বপ্ন সাধ, ধূলায় মিশিয়ে দেয় কষ্টের আমলগুলো। আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় রাসূলকে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি তুমি শিরক কর, পাহাড়সম তোমার আমলগুলো মিটে যাবে মুহূর্তের মাঝে। পড়ে যাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ততায়। তাই তো সকল নবী রাসূলের দাওয়াতের মূল কথা ছিল একটাই। আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন তা ছিল ‘তোমরা বল আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, তা হলে তোমরা সফলকাম হবে।’ কৃষক যেমন কাঙ্খিত মানের ফলন পাওয়ার আশায় বীজ বপন করার পূর্বে জমিনকে ভাল করে কর্ষণ করে জমিন থেকে আগাছা পরগাছা দূরীভূত করে তারপর বীজ বপণ করে, এমনিভাবে ঈমানের কাঙ্ক্ষিত মানের ফল পাওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রথমে অন্তর থেকে শিরকী কুফরী চিন্তা চেতনাকে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে অন্তরকে ঈমানের উপযোগী করা। তাই তো আল্লাহ্ বলেছেন, ‘যে তাগুতকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ণ করল সে এমন মজবুত রশি ধারণ করল যা কখনও ছিঁড়বার নয়।’ কৃষক অসতর্ক থাকলে পোকা মাকড় তার ফসলকে নষ্ট করে দেয়, ঠিক এমনিভাবে একজন মুমিন তার ঈমানের ব্যাপারে অসতর্ক থাকলে ঈমানের চির দুশমন শিরক খুব সূক্ষ্মভাবে কুড়ে কুড়ে ঈমানকে খেয়ে নিঃশেষ করে দেয়। তাই একজন মুমিনের সতর্কতার জন্য জানা প্রয়োজন কিভাবে মানব সমাজে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কী কী কারণে মানুষ শিরক করতে পারে, শিরকের প্রকারগুলো কী কী, শিরকের পরিণতি কী। বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে কোন্ ধরণের শিরক প্রচলিত রয়েছে। আমার এ প্রবন্ধে এর সংক্ষিপ্ত আলোচনা রয়েছে।
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সাচ্ছা ঈমান লাভ করার তাওফীক দিন।
[গবেষণাপত্রটি ৮ অকটোবর, ২০০৯ তারিখে বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার কর্তৃক আয়োজিত স্টাডি সেশনে উপস্থাপিত হয়।]

গ্রন্থপঞ্জী-
০১। আল্ কুরআনুল করীম
তাফসীরগ্রন্থ সমূহ
০২। ইবনু কাছীর, ইসমাঈল, আবুল ফেদা, তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, রিয়াদ, দারু আলামিল কুতুব, ২য় সংস্করণ, ১৯৯৭ খৃ. / ১৪১৮ হি.
০৩। মুহাম্মাদ ‘আলী সাবুনী, ছাফওয়াতুত্তাফাসীর, লেবানন, বৈরুত, দারুল কলম, ৫ম সংস্করণ, ১৯৮৬ খৃ. / ১৪০৬ হি.
০৪। মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আশ্শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, ২য় সংস্করণ, ১৯৬৪ খৃ. / ১৩৮৩ হি.
০৫। তাফসীরুল উশরুল আখীর মিনাল কুরআনিল কারীম, সৌদি আরব, প্রকাশকাল ২০০৭ খৃ. ১৪২৮ হি. সংস্করণ বিহীন।
হাদীসের গ্রন্থসমূহ
০৬। আবু ‘আব্দিল্লাহ্ মুহাম্মাদ বিন ইমাঈল আল বুখারী, সহীহুল বোখারী, রিয়াদ, দারু আলামিল কুতুব, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৬ খৃ. / ১৪১৭ হি.
০৭। ইমাম আবুল হুসাইন মুস্লিম বিন আল্হাজ্জাজ আল কোশায়রী আন্নিসাবুরী, সহীহ মুসলিম, রিয়াদ, দারু ‘আলামিল কুতুব, ১৯৯৬ খৃ. / ১৪১৭ হি.
০৮। আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত্তিরমিযী, জামেউত তিরমিযী, ঢাকা, চকবাজার, হামীদিয়া লাইব্রেরী।
০৯। আবু আবদুর রহমান আহমাদ ইবনে শুয়াইব আল-খুরাসানী আন-নাসাঈ, সুনানুন্ নাসায়ী, ভারত, দেওবন্দ, মাকতাবাতু থানবী।
১০। সুলাইমান ইবনুল আশয়াছ আবু দাউদ আসসিজিস্তানী, ভারত, দিল্লী, আলমাকতাবাতুর রশীদিয়া।
১১। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, মুস্নাদে ‘আহমাদ।
হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
১২। আল্লামা আবুততায়্যিব মুহাম্মাদ শামসুল হক, মা‘আ শরহিল হাফেজ শামসুদ্দীন ইবন কায়্যেম আল জাওযিয়্যাহ্ ‘আওনুল মা‘বুদ শরহে সুনানি আবী দাউ, বৈরুত, লেবানন, দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ্, ১ম সংস্করণ, ১৯৯০ খৃ. / ১৪১০ হি.
১৩। আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল বুখারী; আল্ আদাবুল মোফরাদ, বৈরুত, লেবানন, মোয়াস্সাসাতুর রায়্যান, সংস্করণ ৪র্থ, ২০০৮ খৃ./ ১৪২৯ হি.
আকীদার গ্রন্থ
১৪। কাজী ‘আলী ইবন ‘আলী ইবন মুহাম্মদ আবিল ইযয্, শরহুল ‘আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ্, বৈরুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুর রিসালাহ্, ১৯৯৭ খৃ. / ১৪১৭ হি.
১৫। আব্দুর রহমান বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহ্হাব, ফাতহুল মাজীদ লি শরহি কিতাবিত তাওহীদ, রিয়াদ, দারু ‘আলামিল কুতুব, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৭খৃ. / ১৪১৭ হি.
১৬। মোল্লা ‘আলী কারী, শরহু কিতাবিল ফিকহিল আকবর, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ্, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন।
১৭। আশশায়খ সুলাইমান বিন আব্দিল্লাহ্, তাইসীরুল ‘আযীমিল হামীদ ফী শরহে কিতাবিত তওহীদ, বৈরুত, আল মাকতাবুল ইস্লামী, ১ম সংস্করণ, ১৪০২ হি.
১৮। ধর্ম নিরপেক্ষ ও পক্ষ - কে কোথায়? সংকলনে: অন্বেষক, স. তা. বিহীন।
১৯। হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ূব-তাওহীদ ও শির্ক সুন্নাত ও বিদ্‘আত: ঢাকা, আল ইসলাহ্ প্রকাশনী, ২য় সংস্করণ, ২০০২ খৃ.
২০। ড. সালেহ বিন ফাওযান বিন ‘আব্দুল্লাহ্, আল্ ইরশাদ ইলাহীহিল ই‘তিকাদ ওয়ারাদ্দু ‘আলা আহ্লিশ শিরকি ওয়াল ইলহাদ, রিয়াদ, সৌদী আরব, আররিয়াসাতুল ‘আম্মাহ লিইদারাতিল বুহুছিল ‘ইলমিয়্যাহ্ ওয়াল ইফতা ওয়াদ্ দাওয়া ওয়াল ইরশাদ, সংস্করণ বিহীন, ১৪১০ হি.
সীরাত গ্রন্থ
২১। আবু মুহাম্মদ ‘আব্দুল মালিক বিন হিশাম, আস্সীরাতুন্ নববিয়্যাহ্, মিশর, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন।
২২। আবুল ফিদা হাফিয ইবন কাছীর, বৈরুত, মাকতাবাতুল ম‘য়ারিফ, প্রথম সংস্করণ ১৯৬৬ খৃ.
২৩। সফিয়্যুর রহমান আল্ মোবারকপূরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, রিয়াদ, দারুস্সালাম, স. বিহীন, ১৯৯৪ খৃ.
অভিধান
২৪। ইবনুল মানযুর, লেছানুল ‘আরব, বৈরুত, দারু সাদির সংস্করণ ও তারিখ বিহীন।
২৫। অধ্যাপক আনতুয়ান নামাহ্, আল্-মুনজিদ, বৈরুত, দারুল মাশারিক, ২১ সংস্করণ, ১৯৭২ খৃ.।
২৬। সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ঢাকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, প্রকাশকাল, ১৯৮২ খৃ. ১৪০২ হি.

 

রেফারেন্সঃ

. সুরা: আল আ‘রাফঃ ১৬-১৭
. সূরা: আল কাহফঃ ১০৩-১০৪
. সূরা: আন নামলঃ ২৪
. ইবনুল মানযুর, লিসানুল ‘আরব শব্দমূল الشرك, দার সাদির, বৈরুত
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল, সহীহুল বুখারী, কিতাবুল ‘ইতক, বাব নং ৪, হাদীস নং ২৩৮৬
. অধ্যাপক আন্তুয়ান, আল্ মুনজিদ, বৈরুত দারুল মাশরিক, সংস্করণ ২১, ১৯৭২খৃ., পৃ. ৩৮৪
. সূরা ত্বাহাঃ ৩২
. সূরা: আল্ আহকাফঃ ৪
. সূরা: ত্বাহাঃ ৩৬
. যাকারিয়্যা ‘আলী ইউসুফ, আল-ঈমান ওয়া আ-ছারুহু ওয়াশ্শিরকু ওয়ামাযাহিরুহু, কায়রো, মাকতাবাতুস্ সালাম আল-আলামিয়্যাহ্, ২য় সংস্করণ, তাবি, পৃ. ৭৮
. ড. ইব্রাহীম বরীকান, আল-মাদখালু লিদিরাসাতিল ‘আকীদাতিল ইসলামিয়্যাহ্, ‘আলামায্হাবি আহলিস সুন্নাহ্ ওয়াল জামা’আহ্, আল-খুবার: দারুস সুন্নাহ্, সংস্করণ বিহীন ১৯৯২ খৃ., পৃ. ১২৫-১২৬
. সূরা: আলে ইমরান- ১৯
সূরা: আলে ইমরান- ৮৫
. সূরা: আন্-নাহল- ৩৬
. সূরা: আল আ’রাফ- ১৭২
. সূরা: আর রোম- ৩০
. মুহাম্মাদ বিন ‘আলী আশ্ শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, মিশর, শারিকা মাকতাবা ওয়া মাতবা’আ আলবানী ‘আল্ হালাবী সংস্করণ ২, সন ১৩৮৬হি. খ. ৪ পৃ. ২২৪।
. হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাছীর; তাফসীরুল কোরআনিল আযীম, রিয়াদ, দারু আলামিল কুতুব, সংস্করণ, ২য়, সন ১৪১৭হি., খ. ৩ পৃ. ৫৩৩
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল বুখারী, সহীহুল বুখারী, রিয়াদ, দারু আলামিল কুতুব, সংস্করণ ১ম, সন ১৪১৭ হি:, খ. ২য়, পৃ. ২০। আবুল হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল কুশায়রী, সহীহ মুসলিম, রিয়াদ, দারু আলামিল কুতুব, সংস্করণ ১ম, সন ১৪১৭ হি:, কিতাব- আল কাদার, খ. ৪, পৃ. ২০৪৭, স. ২৬৫৮।
. মুস্লিম বিন হাজ্জাজ আলকুশায়রী, সহীহ্ মুসলিম কিতাবুল্ জান্নাতি, বাব নং ১৬, হাদীস নং ২৮৬৫
সূরা: আর রূম- ৩৩
. সূরা: বনী ইসরাঈল- ৬৭
. সূরা: ইউনুস- ১২
. সূরা: লোকমান- ৩২
. সূরা: আল্-বাক্বারা- ২১৩
. আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর আত-তাবারী, জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কোরআন, বৈরুত, দারুল ফিকর, সংস্করণ বিহীন, ১৪০৫ হিজরী, ২/৩৩৪
. আত্-তাবারী, প্রাগুক্ত ২/৩৩৪, আল-হাকিম ২/৫৯৬, ইমাম হাকিম বলেনঃ ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী হাদীসটি সহীহ
. সূরা: ত্বাহা-১২০
. সূরা: আল আরাফ-২০,২১
. সূরা: নূহ-২৩
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল্ বুখারী, সহীহুল বুখারী, রিয়াদ, দারু আলামিল কুতুব, সং ৪৯২০
. ইবনে কাছীর, খ. ৪ পৃ. ৫০৩
. তাফসীরে ইবনে কাসীর, খ. ৪, পৃ. ৫০৩, ৫০৪
. সূরা: ত্বাহাঃ ৮৫-৮৯
. সংক্ষিপ্ত ই.বি.কোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, প্রকাশকাল-মে ১৯৮২, খ. ২, পৃ. ৪৮৪
. সাইয়েদ আবুল আ‘লা মওদূদী (র:); অনুবাদ: মাওলানা আব্দুল মান্নান তালিব, তাফহীমুল কোরআন, আধুনিক প্রকাশনী, ৯ম প্রকাশ, এপ্রিল ২০০৬, ঢাকা, খ.৮ম, পৃ.৭০।
. দেখুন- তাফসীর ইবনে কাসীর, খ.৩, পৃ.২০৪-২০৫
. শাহ ওয়ালী উল্লাহ্, আল-ফাওযুল কাবীর, পৃ. ৫
. আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম, আসসীরাতুন নববিয়্যাহ, মিশর, মাকতাবাতুল কুল্লিয়াতিল আযহারিয়্যাহ, তাবি, খ. ১ পৃ. ৭২
. ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ্, এগাছাতুল লাহফান, ২/১৬৩-১৬৪
. ইবনে হিশাম, ১/৮৭, ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীমঃ ৪/৪৫৪-৪৫৫ ও সহীহুল বুখারী, ৬/৭৩
. ইবনে কাছির, আল বেদায়াতু ওয়ান নেহায়াহ্, ১/৮৮
. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ খ. ১ পৃ. ৭২
. সূরা: আল হজ্জ-৭৩,৭৪
. সূরা: আয্ যুমার- ৬৫-৬৭
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব ১৯, খ. ৮, পৃ. ১৭৪।
. সহীহ্ মুস্লিম, কিতাবু সিফাতিল কিয়ামাহ ওয়াল জান্নাতি ওয়াল বাব, খ. ৮, সং ২৭৮৮।
. ইবনে জারীর আত তাবারী এর রেফারেন্সে উল্লেখ করেছেন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ‘আবদুল ওয়াহ্হাব (১১৯৩-১২৮৫ হি.), ফাতহুল মাজীদ লি শরহি কিতাবিত তওহীদ, রিয়াদ, দারু ‘আলামিল কুতুব, সংস্করণ ১, ১৪১৭হি., পৃ. ৬১৬।
. প্রাগুক্ত
. প্রাগুক্ত
. সূরা: আন্-নিসাঃ ১৭১
. সূরা: আল্ মায়িদা- ৭৭
. সুনানুন্ নাসায়ী, মানাসিক ২১৭, সুনানু ইবনে মাজা মানাসিক, ৬৩।
. সূরা: আত্ তওবা-৩১
. জামে’ আত্তিরমিযী, সং ৩০৯৪, মুসনাদে আহমদ, ৪/৩৭৮।
. সহীহুল বুখারী, খ.২, পৃ. ২০। সহীহ মুসলিম খ. ৪, পৃ. ২০৪৭, সং ২৬৫৮।
. সূরা: আর রূম-৩০
. মুসনাদে আহমদ
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল আমবিয়া, সং ৪৮
. সূরা: আল আন‘আম- ৫০
. সূরা: আল আ’রাফ-১৮৮
. সূরা: আয্ যুমার-৩০
. সূরা: আলে ইমরান: ১৪৪
. সুনান ইবনে মাজা, অধ্যায় আররুহুন, নং ১, হা.সং- ৪
. সুনানুত তিরিমিযী, মানাক্বিব অধ্যায়, হাদীছ সং. ১৩
. সহীহ্ মুস্লিম, কিতাবুল ঈমান, হাদীস নং ২৯, ৬/৫০
. সহীহুল বুখারী, কিতাবু ফাযাইলিস সাহাবা, বাব নং ৫, হাদীস নং ৩৪৬৭
. সহীহুল বুখারী, খ. ২, অধ্যায় নং ৯৬ পৃ. ১০৬
. ইমাম মালিকঃ মুয়াত্তা, সফর অধ্যায়, হাদীছ নং ৬৮
. সূরা: আয্ যুমার- ৩
. মুহাম্মাদ ‘আলী আস্ সাবুনী, ছফওয়াতুত তাফাসীর, বৈরুত, দারুল কলম, সংস্করণ ৬, সন ১৪০৬হি., খ.৩ পৃ. ৬৯, ৭০।
. সূরা ইউনুসঃ ১৮
. সূরা: ফাতির-১০
. সূরা: গাফের- ৬০
. সূরা: আল বাক্বারা- ১৮৬
. সূরা: আল আ‘রাফ- ১৮০
. দেখুন সহীহুল বুখারী, কিতাবুল ইজারাহ্, বাব নং ১২, খ. ৩, পৃ. ৫১, ৫২।
. আবু দাউদ: সুনান আবুদাউদ, সং ১৪৯৮; তিরমিযী: সুনানুত তিরমিযী, সং ৩৫৫৭।
. সহীহ আল বুখারী, ইসতিসকা, অধ্যায়-৩, ২/১৬।
. সূরা: আশ্ শু‘আরা- ৭০-৭৪
. সূরা: ইউনুস- ৭৮
. সূরা: আল মায়িদা- ১০৪
. সূরা: লোকমান- ২১
. সূরা: আল্ বাক্বারা- ১৭০
. সূরা: ইউনুস- ১৮
. সূরা: আল্ বাক্বারা- ২৫৫
. সূরা: আয্যুমার- ৪৪
. সূরা: ত্বাহা- ১০৯
. সূরা: আয্-যুমার- ৬৪
. সূরা: আল্ আহক্বাফ- ২৩
. সূরা: আল্ নামল- ২৩
. মূল হল আল্কাছীদাতুল বোরদা। এখানে আনার সূত্র হল, ফতহুল মাজীদ, পৃ. ২৫৫।
. সূরা: আল্ আ‘রাফঃ ৫৪
. সূরা: আল্ বাক্বারাহ্- ২১
. সূরা: আল্ আহক্বাফ: ৪
. সূরা: আল্ ওয়াক্বি’আহঃ ৬৩, ৬৪
. সূরা: আল্ ওয়াক্বিয়াহ্: ৬৮,৬৯
. সূরা: আশ্ শু’আরাঃ ৭৯-৮১
. সূরা: আলে ইমরানঃ ২৬
. সূরা: আশ্ শূরা: ৪৯-৫০
. সূরা: আল্ কাসাসঃ ৬৮
. সূরা: আয্ যুখরুফ: ৯
. সূরা: আল্ আনকাবুত: ৬৩
. সূরা: ইউনুস- ৩১
. সূরা: আল্ মুমিনূন- ৮৪-৮৯
. সূরা: আল্ ‘আনকাবুত- ৬১
. সূরা: লোকমান- ২৫
. সূরা: আয্-যুমার- ৩৮
. সূরা: ইউসুফ- ১০৬
. সূরা: আল-আন‘আম- ৮২
. সূরা: লুকমান- ১৩
. সহীহ আল বুখারী: স. ৪২৭,৪৩৪,১৩৪১,৩৮৭৮. সহীহ মুসলিম: স. ৫২৮
. ইমাম মালিক: মোয়াত্তা, সালাত অধ্যায়, স. ২৬১। ইবনু আবী শায়বা: মুসান্নিফ, ৩/৩৪৫
. ইমাম আহমাদ, মুসনাদ; ২/২৪৬
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল বুখারীঃ সহীহুল বুখারী, স. ৪৩৫, ১৩৩০, ১৩৯০, ৩৪৫৩, ৪৪৪১, ৬৮১৫, মুসলিম বিন হাজ্জাজ: সহীহ্ মুসলিম, স. ৫৩১
. ইমাম মালিক বিন আনাসঃ মুয়াত্তা সালাত অধ্যায়, স. ২৬১। ইমাম আহমদ বিন হাম্বাল; মুসনাদ ২/২৪৬
. ইব্নুল কাইয়্যিমঃ আলকাফিয়াতুশ শাফিয়াহ্, পৃ. ১৮০
. সহীহ্ মুস্লিম, সং ৯৭২
. ইবনে কুদামা: আল মুগনী, শরহুল খারকী, ২/৫০৮
. আবু দাউদঃ সুনানু আবী দাউদ, স. ৩২৩৬. তিরমিযী, জামে’, স. ৩২০
. সহীহ্ মুসলিম কিতাবুল জানায়েয, বাবুল আমরি বিতাসবিয়াতুল কবরি, স. ৯৬৯, ২/৬৬৬
. সহীহ্ মুসলিম, কিতাবুল জানায়েয বাব নং ৩২, সং. ৯৭০, ২/২৬৭।
. সুনান্ আবু দাউদ, সং. ৩২২৬ ও সুনানুত তিরমিযী, সং. ১০৫২, হাসান সহীহ্।
. আবু ইয়া’লাঃ মুসনাদ, সং. ৪৬৯।
. সূরা: আল্ আন‘আম- ১৬২-১৬৩।
. সূরা: আল কাওছার- ২।
. মুসলিম বিন হাজ্জাজঃ সহীহ্ মুসলিম, বাবু তাহরীমিয যবহে লিগায়রিল্লাহ্, খ.৩, পৃ. ১৫৬৭
. আহমাদ: মুসনাদ, কিতাবুয যুহদ
. সূরা: আত্ তাওবা- ১০৭-১০৮
. দেখুন আল বাইহাকীঃ আদদালাইল ৫/২৫৯, ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীম, তাফসীরুল সূরাতিত তওবা, আয়াত ১০৭-১০৮, খ.২, পৃ.৪৭৯, ইবনু মারদাবিয়্যাহ; আদ্ দুররু, ৩/২৭৬
. সুলায়মান ইবন আশ’আছ আস্সিজিসতানী: সুনানু আবী দাউদ, কিতাবুল আইমান ওয়ান নুযুর, সং. ৩৩১৩
. সুরা : আল্ বাকারাহ- ১৭৩
. সূরা : আল্ মায়িদা- ৩
. সূরা : আন্ নাজম- ১৯-২২
. আব্দুর রহমান বিন হাসানঃ ফাতহুল মাজীদ লি শরহে কিতাবিত তাওহীদ, পৃ. ১৫৫
. ইবনে কাছির, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীম, ৪/২৫
. ইবনুল কাইয়্যিম, আল-জাওযিয়্যাহ, এগাছাতুল লাহফান ২/১৬৮, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীমঃ ইবনে কাছীর ৪/২৯৯
. ইবনে হিশাম: আস্ সীরাতুন্নববিয়্যাহ্, ৪/১৩৮
. ফাতহুল মাজীদ, ১৫৬
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈলঃ সহীহুল বুখারী, বাবুল মাগাযী, খ.৫, পৃ. ৩০
. দেখুন, ফাতহুল মাজীদ, পৃ. ১৫৬
. দেখুন- আব্দুল রহমান বিন হাসানঃ ফাতহুল মাজীদ। মাক্তাবাতু দারিস্ সালাম, পৃ. ১১৫,১১৬
. সফিয়্যুর রহমান মুবারকপুরী, আর রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৪১০, আত-ত্বাবারী, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর, জামিউল বয়ান ফী তাফছীরিল কোরআন, বৈরুত: দারুল ফিকর, সংস্করণ বিহীন, ১৪০৫হি. ২৭/৫৯
. সূরা: আল্-ফাতহ্-১৮
. সূরা: আল-ফাতহ্-১
. সহীহুল বুখারী: কিতাবুল মাগাযী, খ.৫, পৃ. ৬৫
. সূরা: আল আ‘রাফ- ৩৮
. আত্ তিরমিযী: সুনানুত তিরমিযী
. সূরা: আদ্-দাহর- ৭
. সহীহুল বুখারী, স. ৬৬৯৬, ৬৭০০।
. সহীহ্ মুস্লিম, কিতাবুন নযর, বাব লাওফায়া লিনমবিন ফী মা’ছিয়াতিল্লাহ্, খ.৩ পৃ. ১২৬৩, সং.১৬৪১
. ইবনে কাছির, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীম: ২/১২৮ ও ৪/৪৬৭
. সূরা: আল্ জিন- ৬
. সূরা: ইউনুস- ১০৬
. সূরা: ফাতির- ১৩
. আহমাদঃ মুসনাদে আহমদ, ৪/৪৪৫
. আহ্মাদঃ মুসনাদে আহ্মদ, ৪/১৫৬
. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীম, ৪/৩৪২।
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈলঃ সহীহুল বুখারী, সং. ৩০০৫, মুসলিম বিন হাজ্জাজঃ সহীহ মুসলিম, সং ২১১৫
. আবু দাউদঃ সুনান আবু দাউদ, ৩/৫২; আহমদঃ মুসনাদে আহমদ
. আহমাদঃ মুসনাদে আহমাদ, ৪/১১০,১১১, তিরমিযীঃ সুনানুত তিরমিযী, কিতাব নং-২৯, বাব নং ২৪, সং. ২০৭২
. ফাতহুল মাজীদ, পৃ. ১৪৯
. মুসলিম বিন হাজ্জাজঃ সহীহ মুসলিম, সং ২২০০
. দেখুন সহীহুল বুখারী, কিতাবুল মারদা ওয়াততিব, বাব নং ৩৩-৩৪, খ.৭, পৃ. ২৩
. দেখুন ফাতহুল মাজিদ পৃ. ১০৮
. ইবনে হিববান; সহীহ্ ইবনে হিববান, ৭/৬৩০, হাকিম; আল্ মুসতাদরাক, ১/৪১৮
. ইবনু আবী শায়বা, মুসান্নিফ, সং ৩৫২৪
. সূরা: হুদ- ৫৪
. সূরা: আয্ যুমার- ৩৬
. সূরা: আয্ যুমারঃ ৩৮
. সূরা: আলে্ ইমরান- ১৭৫
. সূরা: আল্ বাকারা- ১৫০
. সুরা: আত্ তাওবা - ১৩
. সূরা: আন্ নিসা - ৭৭
. ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতনা বাব নং ২০, ২/১৩২৮
. সুরা: আল্ মাইদাহ -৪৪
. সূরা: আল্ মাইদাহ - ৫৪
. সুনানুত তিরমিযি, সং ২১৭৫, সুনানু আবী দাউদ, সং ৪৩৪৪
. সূরা: আল কাছাছ- ২১
. সূরা: ইউসুফ- ১৩
. সূরা: ইব্রাহীম- ১৪
. সূরা: আর্ রাহমান- ৪৬
. সুরা: আল বাকারাহ্-১৬৫
. সূরা: আলে ইমরান- ৩১
. সূরা: আল্ মাইদাহ- ২৩
. সূরা: ইউনুস- ৮৪
. সুরা: আল্ ফাতহ্- ২৩
. সুরা: বনী ইসরাঈল- ৭৭
. তিরমিযীঃ সুনানুত তিরমিযী, সং ২৫১৭
. ইবনু আবিদ্ দুমমা, আত্তাওয়াক্কুল, সং ১০, সংকলন. জামে উল উলুম ওয়ালি হিকাম, খ. ২, পৃ. ৫০৭।
. সুরা: আল্ বাকারা- ১৯৭, দেখুন: ইবনু কাছীর: তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীম, খ. ১, পৃ. ২৯৮।
সূরা: আল্ জুমু’য়া- ১০
. সূরা: আল্-জুমু‘আ- ১০
. এ আলোচনাটি ২৩/৩/১৪৩০ হি. মস্জিদে হারামে প্রদত্ত জুম‘আর খোতবার একটি অংশ। খতীব, ফজীলাতুশ শায়খ সউদ আশ্শুরায়ম, বিষয়: আর রিয্ক আস্বাবুহু ওয়া ওসাইলুহুল মাশরু‘আহ
. সূরা: আত্ তাওবা- ৩১
. তিরমিযীঃ সুনান তিরমিযী, কিতাবুত্ তাফসীর বাব নং ৯; আহমদঃ মুসনাদে আহমদ
. সুরা: আল্ আনআম- ১২১
. সূরা: আন্ নিসা- ৫৯
. আহ্মাদ, মুসনাদে আহমাদ, সং ৩১২১
. সূরা: আল আহযাব - ৩৬
. সূরা: লুকমানঃ ১৫
. আহমাদঃ মুসনাদে আহমাদ, সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমারা, নং ১৮৪
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব নং ১০৮ হাদীস নং ১৮৪০
. শা’বানীঃ কিতাবুল মীযান, খ.১, পৃ. ৬২
. দেখুন ইবনু ‘আবেদীনের, আল হাশিয়া গ্রন্থ, খন্ড.১, পৃ.৬৩
. আল্ কাওলুল মুফীদ
. আল হাকেম, বাইহাকী, আল্ মানাকিব, ১/৪৭১
. শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসানঃ ফাতহুল মাজীদ পৃ. ৩৩৮, মাকতাবু দারিসসালাম, দেখুন ইবন ‘আবদুলবার, আল জামে, ২/৩২
. সূরা: আন নূর- ৬৩
. শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসানঃ ফাতহুল মাজীদ পৃ. ৩৩৯, মাকাতুবাতু দারিস সালাম, রিয়াদ
. ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া
. তাহবীর ও তাকরীর
. শারহুস সিরাতুল মুস্তাকীম
. সূরা: ইউসূফ- ৪০
. সূরা: আল আন’আম- ৬২
. সূরা: আল মায়েদা- ৪৭
. সূরা: আন নিসা- ১০৫
. সূরা: আল মায়িদা- ৪৪
. সূরা: আল-আ’রাফ- ৫৪
. সূরা: আল বাকারা- ১০২
. নাসায়ী কিতাব আত্ তাহরীম সং ১৯
. মুস্নাদে আহমাদ, ১/১৯০, ১৯১
. সূরা: আন্ নামল- ৬৫
. আবু দাউদ, সং. ৩৯০৪
. মুসলিম বিন হাজ্জাজঃ সহীহ্ মুসলিম, সং ২২৩০
. সূরা: আল আ’রাফ- ১৮৭
. সুরা: আল জিন- ৬
. দেখুন ইবনে কাছীর, তাফসীরুল কোরআনিল ‘আযীম, রিয়াদ দারু আলামিল কুতুব, ৪/৫০৬
. সুরা: আল ফালাক- ১
. সূরা:আন নাস- ১
. মুসলিম বিন হাজ্জাজঃ সহীহ মুসলিম, সং ২৭০৮
. ই.ফা., ই.বি.কোষ (সংক্ষিপ্ত) খ. ২, পৃ. ৫৬৪
. বিস্তারিত দেখুন: হাফেজ ইবন কাছীর, আল হিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.১১, পৃ. ১৩২
. সূরা: আল কাহফ- ১১০
. সূরা: আল্ মুমিনূন- ৩৩,৩৪
. তিরমিযীঃ সুনানুত তিরমিযী, সং ১৫৫৩, হাকেম, মুসতাদরাক, ১/১৮
. আবু দাউদঃ সুনান আবু দাউদ, সং ৩৯১০, তিরমিযীঃ সুনান তিরমিযী, সং ১৬১৪।
. আহমাদঃ মুসনাদে আহমাদ, ২/২২০
. মুহাম্মদ বিন ইসমাঈলঃ সহীহুল বুখারী, কিতাব: আত্তিন, বাব সং ৪৫, লা হামনাতা খ. ৭ পৃ. ২৭, মুসলিম বিন হাজ্জাজঃ সহীহ মুসলিম, কিতাবুস্ সালাম, বাব নং ৩৩ খ. ৪, পৃ. ১৭৪৩, সং ২২২০
. সহীহুল বুখারী, বাব নং ৫৪ খ. ৭ সং ৩১
. সহীহ মুস্লিম, কিতাব নং ৩৯ বাব নং ৩৩ সং ২২২১, পৃ. ১৭৪৪
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব নং ৩৫, খ. ৫, পৃ. ৬২
. সুনানুত তিরমিযী, সূরা আল্ ওয়াকেয়াহ্, হাদীছ নং ৩
. সূরা: আল ওয়াকিয়া- ৬৮,৬৯
. সূরা: আল বাকারাহ- ২২
. আহমাদ বিন হাম্বাল, মুসনাদে আহমাদ, ৪/৪০৩, আব্দুর রহমান বিন হাসান : ফাতহুল মাজীদ, রিয়াদ পৃ: ১০৩, দারুআলামিল কুতুব।
. মুসনাদে আহমাদ, ৪/৪০৩
. সূরা: আল্ কাহফ- ১১০
. সুনানুত তিরমিযী, কিতাবুন নুযুর, সং. ৯
. মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যুহদ, স. ৪৬
. আহমাদঃ মুসনাদে আহমাদ ৩/২, ইবনে মাজাহ কিতাবুয যুহদ, স.২১
. তাবারানী সনদ উত্তম
. ইবনে খুযাইমাঃ সহীহ ইবনে খুযামা, সং ৯৩৭, সনদ হাসান।
. ইমাম আহমাদঃ মুসনাদে আহমাদ, ৪/১২৫।
. ইবনে আবিদদুনয়াঃ কিতাবুল ইখলাছ, ইবন জারীরঃ আততাহযীব, আল কাবীর, সং ৭১৬০, হাকেম, আল মুসতাদরাক, ৪/৩২৯। তিনি এ হাদীসটিকে সহীহ্ বলেছেন।
. সূরা: আন্ নিসা- ১৪২।
. সূরা: আল্ মাউন- ৪-৭।
. সুনানু ইবনে মাজা, সং ৩৯৮৯; তাবারানী, আছ ছগীর, ২/৪৫; হাকেম, মুসতাদরাবা, ১/৪, ৪/৩২৮
. মুসলিম বিন হাজ্জাজ আলকুশায়রীঃ সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বিরর, স. ১৬৬, সুনানু ইবনে মাজা, কিতাবুয যুহদ সং ২৫।
. মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল কুশায়রীঃ সহীহ মুসলিম , কিতাবুল ইমারাহ, খ.৩, স. ১৫২, সুনানুন নাসায়ী , কিতাবুল জেহাদ স. ২২
. সহীহুল বুখারী, ১/১৯৭, ৬/২১,২২; মুসলিম সং ১৫০, ১৯০৪।
. সূরা: আল্ বায়্যিনাহ- ৫
. রূরা: আল্ আনআম- ১৬২,১৬৩
. সূরা: হুদ- ১৫,১৬
. সূরা: বনী ইসরাঈল- ১৮
. সুনানুন্ নাসায়ী, সং ৯৮৮; বুখারী, আল আদাবুল মোযারাদ, সং ৭৮৩।
. সুনানুন্ নাসায়ী,৭/৬; ইবনে হাজার, আল ইসাবা, ৪/৩৮৯, হাদীসটি সহীহ ।
. সূরা: আল্ ইনসান-৩০
. দেখুন আলইরশাদ ইলা সহীহিল ই’তিকাদঃ ডঃ সালেহ বিন ফাওযান, রিয়াদ ১৪১০হিঃ পৃ. ৯৮, আররিয়াসাতুল আমমা লিইদারাতিল বুহুছিল ইলমিয়্যাদ।
. সুনানু আবী দাউদ, ২/৫১৫
. সূরা: আত্ তাওবা- ৬০
. সূরা: আল ইখলাছ
. সূরা: মারইয়াম- ৮৮-৯২
. সূরা: ইউনুস- ৬৮
. সহীহুল বুখারী, তাফসীরু সূরাতিল বাকারা, বাব নং ৮, খ.৫, পৃ. ১৪৯।
. সূরা: বনী ইসরাঈল- ৪০
. সূরা: আন্ নাজম- ২১,২২
. সূরা: ত্বাহা- ৮
. সূরা: আল্ আ‘রাফ- ১৮০
. সূরা: আল্ বাক্বারা- ২৫৪
. সূরা আল হাশরঃ ২২-২৪
. মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈলঃ সহীহ বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ১২, খ. ৮, পৃ.১৬৯।
. দেখুন আবু দাউদঃ সুনান আবু দাউদ
. সূরা: আশ্ শুরা-১১
. সূরা: আল-জিন- ২৬,২৭
. সূরা: আল্-আন‘আম- ৫৯
. সূরা: আল-আ‘রাফ- ১৮৮
. সূরা: আন্-নমল- ৭৭
. দেখুন আস্সীরাতুল নববিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম, খ. ৩য়, পৃ. ৯৩-১০২
. বিস্তারিত দেখুন, ইবনে হিশাম, আস্সীরাতুল নাববিয়্যাহ, খ.৩, পৃ. ১০৩-১০৫
. বিস্তারিত দেখুন প্রাগুক্ত, পৃ. ১০৮
. বিস্তারিত দেখুন, সহীহুল বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব নং ৩৪, হাদীছুল ইফক্, খ.৫, পৃ.৫৫
. সুরা: আল মায়িদা- ৬৪
. সূরা: আয্ যুমার- ৬৭
. সুরা: আলে ইমরান- ৭৩
. সূরা: ছোয়াদ- ৭৫
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল তওহীদ, বাব নং ১৯, খ.৮, পৃ. ১৭৩
. সং ৯৯৩
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ৬, খ. ৮, পৃ. ১৬৬
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ১৯, খ. ৮, পৃ. ১৭৪
. ইবনু জারীর আত্ তাবারী, জামেউল বয়ান ফী তফসীরিল কোরআন, পৃ. ২৪,২৫
. সূরা: আর রাহমান- ২৬,২৭
. সূরা: আল কাসাস- ৮৮
. সূরা: আল কিয়ামাহ- ২২,২৩
. সহীহুল বুখারী, রিয়াদ, দারু‘আলামিল কুতুব, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৭ হি:, খ.৮ পৃ. ১৭৯
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ২৪, খ. ৮, পৃ. ১৭৯
. সূরা: আল মুমিনূন- ২৭
. সূরা: ত্বা-হা- ৩৯
. সূরা: আল কামার- ১৪
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ১৭, খ.৮, পৃ. ১৭২
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব ৭, খ.৮, পৃ. ১৬৭
. দেখুন ইমাম আবু হানীফা (র.) কর্তৃক রচিত ‘আল ফিকহুল আকবর’ কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবে লিখিত ‘শরহু কিতাব আল্-ফিকহুল আকবর’, মোল্লা ‘আলী কারী লিখিত, বৈরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যা, সং. বিহীন, তাবি, পৃ. ৫৮-৫৯
. সূরা: ত্বাহা-৫
. সূরা: আল আ‘রাফ- ৫৪
. সুনান আবু দাউদ , সং ৪৭২৩, অধ্যায়ঃ সুন্নাহ, অনুচ্ছেদ , জাহমিয়াহ। সুনানুত তিরমিযী , সং ৩৩১৭, অধ্যায়ঃ তাফসীর , অনুচ্ছেদঃ সুরা: আল- হাক্কাহ
. সূরা: আল মা‘আরিজ- ৪
. সূরা: ফাতের- ১০
. সূরা: আন নিসা- ১৫৮
. সূরা: আল কদর- ১
. সূরা: ইবরাহীম- ১
. সূরা আদ দুখান- ৩
. সূরা আল বাক্বারা- ১৪৪
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ২২, খ. ৮, পৃ. ১৭৬
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত তওহীদ, বাব নং ৩৩, খ. ৮, পৃ. ১৯৫
. সূরা: আন নাজম- ১৩-১৫
. সহীহুল বুখারী, বাব মে‘রাজ, নং ৪২, খ. ৪, পৃ. ২৪৯
. সহীহ মুসলিম, স. ১২১৮, সুনানু আবী দাউদ, পৃ. ১৯০৫, সুনানু ইবনে মাজা, পৃ. ৩০৭৪
. সহীহ মুসলিম খ. ১ স. ৫৩৭. কিতাবুল মাসজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত অধ্যায় পৃ. ৩৮২
. সহীহুল বুখারী, কিতাবুত্ তাহাজ্জুদ, বাব নং ১৪, খ. ২, পৃ. ৪৭, সহীহ মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৫২১, হাদীস নং ৭৫৮, কিতাবু সালাতিল মুসাফিরীন, বাব নং ২৪
. সুনানুত তিরমিযি- স.৩৫৫১, সুনানু আবী দাউদঃ সং. ১৪৮৮, সুনানু ইবনে মাজাঃ সং. ৩৮৬৫
. সূরা: আল আনকাবুত- ৬২
. সূরা: আল বাকারা- ২০
. ইমাম কাযী আলী বিন আলী বিন আবিল ইযআদদিমাশকীঃ শরহুল আকীদুত তাহাবিয়্যাহ, খ. ২য়, পৃ. ৩৭৩, বৈরুত, লেবানন, আররিসালা পাবলিশিং হাউজ।
. সূরা: ত্বাহা- ৫
. ইমাম কাযী আলী বিন আলী বিন আবিল ইযআদদিমাশকীঃ শরহুল আকীদুত তাহাবিয়্যাহ, খ. ২য়, পৃ. ৩৮৭, বৈরুত, লেবানন, আররিসালা পাবলিশিং হাউজ।
. আব্দুল আযীয আল - মুহাম্মদ আল সালমান, আল আসইলাতু ওয়াল আজইবাতিল উসূলিয়্যাতি আলাল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাতি লি ইবনে তায়মিয়্যাহ , ২১ম সংস্করণঃ ১৯৮৩খৃ. পৃ. ২৪
. প্রাগুক্ত পৃ. ২৪
. দেখুন ইমাম আবু হানীফা (র) কর্তৃক রচিত ‘আল-ফিকহুল আকবার’ কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবে লিখিত মোল্লা আলী ক্বারী এর ‘শরহু কিতাব আল-ফিকহুল আকবার’, বৈরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ, সংস্করণ ও তারিখ বিহীন পৃ. ৫৮,৫৯
. আল-আলূছী, মাহমূদ, রূহুল মা’আনীঃ বৈরুত, দারু এহইয়াইত তুরাছিল আরাবী , ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৫৮ খৃ. ১৫/১৫৬
. সূরা: লুকমান- ১৩
. সূরা: আন নিসা- ৪৮, ১১৬
. সূরা: আয্ যুমার- ৬৫
. সূরা: আল মায়িদা- ৭২
. সূরা: আননিসা- ৪৮
. সহীহুল বুখারী, খ. ৮ পৃ. ২০৭, বাব নং ৩৯
. সূরা: আননিসা- ১১৬
. সহীহুল বুখারী, বাব ১, খ. ৮, পৃ. ৪৮
. সূরা: আত্ তাওবা- ২৮
. সূরা: আল হাজ্জ- ৩১
. সূরা:আল কাহফ- ৫২
. সূরা: আন-নাহল- ৮৬
. সূরা: আততাওবা- ১১৩
. মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল কুশায়রী, সহীহ মুস্লিম, রিয়াদ দারু আলামিল কুতুব, সংস্করণ, ১ম, ১৪১৭ হিঃ কিতাবুল জানাইয, বাব নং ৩৬, সং ৯৭৬, খ. ২, পৃ. ৬৭১, আব্দুর রহমান আহমদ ইবন শুয়াইব আন্ নাসায়ী, সুনানুন্ নাসায়ী অধ্যায়, জানাইয, সং. ১০১। সুলাইমান ইবনুল আশ্য়া’স আস্সিজিস্তানী, সুনানু আবী দাউদ, জানাইয, ৭৭
. ইবনুল কায়্যিম আল্ জাওযিয়্যাহ্; ‘আওনুল মা‘বুদ শরহ আবু দাউদ, বৈরুত, দারুলকুতুব আলইলমিয়্যাহ্, ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হি., ভ. ৫, খ. ৯, পৃ. ৪১ সং ৩২৩২
. সহীহ্ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ৮৮, হাদীস সং. ৩৪৭, খ.১, পৃ. ১৯১
. সহীহুল বুখারী , কিতাবুত তওহীদ,দারু আলামিল কুতুর, রিয়াদ, খ. ৮, পৃ. ১৬৪
সূরা: আল কাহফ- ১০৩,১০৪
. সূরা: আল-বাক্বারা- ২৫৬